চাঞ্চল্যকর হত্যা তদন্ত-৮

সাগর-রুনি হত্যা রহস্য উদঘাটন কত দূর?

দেশ বিদেশ

আল আমিন | ২০ জুন ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪১
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির মামলার তদন্ত কোন পর্যায়ে জানেনা পরিবার। এ হত্যাকাণ্ডের ৬ বছর ৪ মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। হত্যার কারণ উদঘাটন ও আসামিদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও তদন্তকারী সংস্থা রয়েছে অন্ধকারে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। হত্যাকাণ্ডের পর রুনির বন্ধু তানভীর রহমান ও বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পাল এবং পরবর্তীতে অন্য দারোয়ান এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করা ছাড়া মামলার তদন্তে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নেই। পলাশ রুদ্র পাল ও তানভীর রহমান এখন জামিনে আছেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য উদ্ধার করতে পারেনি র‌্যাব। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের আলামতগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। আশা করা যায় এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে।
২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজা বাজারের বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরে বাংলানগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার একজন উপ-পরিদর্শক। চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। টানা ২ মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ১৮ই এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। র‌্যাব তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সাগর-রুনির মরদেহ কবর থেকে তোলার আবেদন জানায়। ২০১২ সালের ২৬শে এপ্রিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুজ্জামানের উপস্থিতিতে সাগর-রুনির মরদেহ তোলা হয়। তাতে পরীক্ষা করে দেখা যায়, নিহত সাগর-রুনিকে হত্যার আগে কোনো নেশাজাতীয় খাবার পানীয় দেয়া হয়নি এবং কোনো বিষও পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের ৮ মাস পর ২০১২ সালের ১০ই অক্টোবর বনানী থানার একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার থাকা ৫ আসামি মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু বকুল মিয়া, কামরুল হাসান অরুন, রফিকুল ইসলাম ও আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।  
মামলার বাদী রুনির ভাই নওশের আলম রোমান মানবজমিনকে বলেন, এখন নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, এই মামলার তদন্ত থমকে গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করে না। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ হত্যাকাণ্ডের কী অগ্রগতি হয়েছে তা তারা বলতে পারেন না। শুধু আশার বাণী শুনান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের সিনিয়র এএসপি মো. মহিউদ্দিন আহম্মেদ মানবজমিনকে বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। নতুন নতুন  আলামতগুলো পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, আমরা প্রয়োজন হলেই মামলার বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকি। বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনারের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড সারা দেশের মানুষকে মর্মাহত করেছিল। একটি ঘটনার এখন পর্যন্ত রহস্য উদঘাটন এবং আসামিদের ধরা হলো না। রাষ্ট্র এর দায় এড়াতে পারে না।
র‌্যাবের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, সাগর-রুনির বাসার পলাতক দারোয়ান এনামুল হক ওরফে হুমায়ূনকে ধরতে পারলে হত্যাকাণ্ডের রহস্যজট খুলে যাবে। এ জন্য এনামুলকে ধরতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু, ২০১৩ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি এনামুলকে গ্রেপ্তার করা হলেও খোলেনি এর রহস্যজট। সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের পর দুই দফায় ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি, ছুরির বাঁট, চুল, সাগরের মোজা, একটি কম্বল, সাগরের পরনের প্যান্ট, সাগরের হাত-পা বাঁধা কাপড় ও রুনির পরনের টি-শার্ট পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে। প্রথম দফায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এসব আলামত থেকে দুজন ব্যক্তির সম্পূর্ণ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। পরে এ দুই ব্যক্তির প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত নিহত সাংবাদিক দম্পতির পারিবারিক বন্ধু তানভীর, দুই নিরাপত্তাকর্মী পলাশ রুদ্র পাল ও এনামুল ওরফে হুমায়ুন কবীর এবং পাঁচ ডাকাত রফিকুল, বকুল, সাইদ, মিন্টু ও কামরুল হাসান ওরফে অরুণের চুল ও লালা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। সূত্র জানায়, র‌্যাবের পক্ষ থেকে ওই সময় বলা হয়েছিল, এ আলামত পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেলে তদন্ত নতুন মোড় নেবে। সেই পরীক্ষার একটি প্রতিবেদনও হাতে পেয়েছিল মামলার তদন্ত সংস্থা। কিন্তু সেই ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে কারও ডিএনএ মেলেনি। এতে এই মামলার ক্লু উদঘাটন এবং খুনিরা ধরা পড়েনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে ৫৪ বার। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বারবার আদালতের কাছ থেকে সময় নিয়েছেন। এতে করে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। সূত্র জানায়, এ ঘটনার গ্রেপ্তার দেখানো অন্য ৫ জনই মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র হত্যার ঘটনায় র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে সাগর-রুনি হত্যায় জড়িত থাকার ন্যূনতম প্রমাণও মেলেনি। কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেননি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বাংলাদেশের ভূ-খন্ড দখল করে আসামের অবৈধ অভিবাসীদের বসতি নির্মাণের আহবান

ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন মিলার

ত্রাসের রাজত্ব ভেঙে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা

বাম গণতান্ত্রিক জোটের আত্মপ্রকাশ

আণবিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট ইলিশের জন্য হুমকি!

অস্ট্রেলিয়াও চলে গেল

অবহেলায় নষ্ট সোয়া কোটি টাকার ভ্যাকসিন

মেয়েটির জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল ওরা

সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

আরিফ-কামরান পাল্টাপাল্টি

আতঙ্কের মধ্যে প্রচারণায় বিএনপি

মাঠ গুছিয়ে এনেছে বড় দুই দল

কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইউটার্ন করেছেন

টেলিটককে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার

ইভিএমে আস্থা ও শঙ্কা

আজ এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ