জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে বরাদ্দযোগ্য অর্থ নেই

শেষের পাতা

সংসদ রিপোর্টার | ২০ জুন ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৮
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নের প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি প্রকল্পের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করে। তবে বর্তমানে এ ফান্ডে বরাদ্দযোগ্য অর্থের স্থিতি নেই। গতকাল   মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর-পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে এ সংক্রান্ত লিখিত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য হাজেরা খাতুন। জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে এ পর্যন্ত মোট রাজস্ব বাজেট হতে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মে মাস পর্যন্ত ২ হাজার ৮৮৯ কোটি ২০ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৬২টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ২৫৯টি প্রকল্প সমাপ্ত হয়েছে। জলবায়ু মন্ত্রী জানান, জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিল পরিচালনার জন্য আইনি বিধান অনুযায়ী ১৭ সদস্যের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং ট্রাস্টি বোর্ডকে সহায়তার জন্য ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি সহায়তা কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ঝুঁকি নিরূপণের জন্য ‘এসেসমেন্ট অব সি লেবেল রাইজ অ্যান্ড ভার্নাবিলিটি ইন দি কোস্টাল জোন অব বাংলাদেশ থ্রু টেন্ড এনালাইসিস’ শীর্ষক গবেষণা প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেক প্রকল্প ও সহায়তাও কার্যকরী রয়েছে বলেও জানান তিনি। একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বন অধিদপ্তরের অধীনে মোট ২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। বর্তমানে ১৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে ১৮ হাজার ৬৯৭ হেক্টর ব্লক বাগান, ২ হাজার ৭১৭ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগান, বিক্রয় ও বিতরণসহ অন্যান্য ৫ কোটি ৯০ লাখ ১৩ হাজারটি চারা রোপণ করা হয়েছে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বনজ দ্রব্য থেকে রাজস্ব আয়ের পরিবর্তে অভিযোজন, প্রমোশন ও বনে প্রকৃতি পর্যটন শিল্পের প্রসারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকারি দলের সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশের মোট বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৬ লাখ হেক্টর। যা দেশের মোট আয়তনের ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। এরমধ্যে এ যাবৎ ২ লাখ ৬৮ হাজার একর সরকারি বনভূমি বেদখলে রয়েছে। তিনি আরো জানান, বহুদিন আগে থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি বনাঞ্চলের নিকটবর্তী জনসাধারণ চাষাবাদ, বসতি স্থাপন, রাস্তাঘাট নির্মাণ ইত্যাদি কারণে জবরদখল হয়ে আছে। কোনো কোনো স্থান পাকা ইমারত, শিল্পায়ন, পাকা সড়ক নির্মাণ, হাট বাজার স্থাপন ইত্যাদি কারণে বনভূমি বেদখল হয়ে আছে। তবে বর্তমানে ব্যাপক প্রচার এবং সরকারের তৎপরতার ফলে নতুন করে বনভূমি জবরদখলের কোনো সুযোগ নেই। তবে জবরদখলকৃত জমি দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটিও গঠিত হয়েছে। সংরক্ষিত আসনের সদস্য বেগম সানজিদা খানমের প্রশ্নের জবাবে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানান, আগামী ৫ বছরে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশের বনভূমি ২৪ শতাংশে উন্নীত করার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নতুন জেগে ওঠা চর বনায়ন, দেশের সমগ্র উপকূলজুড়ে বনায়নের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী নির্মাণ, সড়ক ও বাঁধের পাশে ও রেললাইনের ধারে বনায়ন, সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের আঙিনায় বনায়ন এবং সকল স্তরের জনগণকে নিজস্ব পতিত জমিতে বনায়নের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বাংলাদেশের ভূ-খন্ড দখল করে আসামের অবৈধ অভিবাসীদের বসতি নির্মাণের আহবান

ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন মিলার

ত্রাসের রাজত্ব ভেঙে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা

বাম গণতান্ত্রিক জোটের আত্মপ্রকাশ

আণবিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট ইলিশের জন্য হুমকি!

অস্ট্রেলিয়াও চলে গেল

অবহেলায় নষ্ট সোয়া কোটি টাকার ভ্যাকসিন

মেয়েটির জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল ওরা

সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

আরিফ-কামরান পাল্টাপাল্টি

আতঙ্কের মধ্যে প্রচারণায় বিএনপি

মাঠ গুছিয়ে এনেছে বড় দুই দল

কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইউটার্ন করেছেন

টেলিটককে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার

ইভিএমে আস্থা ও শঙ্কা

আজ এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ