ঢাবিতে ফের ছাত্রলীগের হামলা

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ জুলাই ২০১৮, রোববার, ১:৩২ | সর্বশেষ আপডেট: ৮:০৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ফের হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলার প্রতিবাদ ও গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে হামলা চালায় তারা। দুপুরে বঙ্গবন্ধু টাওয়ার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার দুপুর সোয়া ১২টায় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পাশাপাশি অবস্থান নেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও। পরে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এতে পথচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধাওয়ার মধ্যেই ছাত্রলীগের একাংশকে গণমাধ্যমকর্মীদের উপর চড়াও হতে দেখা যায়। এরপর দুপুর পৌনে ১টায় শহীদ মিনারে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আজ পূর্ব নির্ধারিত নিপীড়ন বিরোধী কর্মসূচি ছিল শহীদ মিনারে। আমাদের মাইক চালু হওয়ার পর ছাত্রলীগও দাঁড়িয়ে যায় পাশে। তারাও মাইক ব্যবহার করে। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার চেষ্টাও চলে। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করে ফেরার পথে আমাদের কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলা হয়, শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়। শিক্ষকদের চেতনা নিয়ে কটূক্তি করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের এই নেতা-কর্মীদের মধ্যে ইডেন ও বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষার্থীরাও ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী পপি জানান, তারা ১২০ জন ছাত্রলীগের সঙ্গে এসেছেন।
একপর্যায়ে ‘পাকিস্তানি রাজাকার শিক্ষকদের বহিষ্কার করতে হবে’, ‘শিক্ষকেরা জামায়াত-শিবিরের দোসর’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। শিক্ষকদের গালাগালি ও মাইক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়। হেনস্তার শিকার হয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারের সামনে থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। সেখান থেকে সরে তারা মিছিল বের করেন। মিছিলটি আইন অনুষদের দিকে গিয়ে দাঁড়ালে ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিলে ঢুকে যান। তাঁরা ছাত্রীদের মারধর করেন। শিক্ষকদের গালিগালাজ করতে থাকেন। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় নাজেহাল হন এটিএন বাংলার সাংবাদিক ইমরান সুমন। ছাত্রলীগের বাধা ও হামলার মুখে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়। শিক্ষক ও ছাত্রদের একাংশ আবার শহীদ মিনারে অবস্থান নেন।
কর্র্মসূচিতে শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজীম উদ্দীন খান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ফাহমিদুল হক, আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ।
ফাহমিদুল হক বলেন, নিপীড়নের শিকার শিক্ষার্থীদের পক্ষে শিক্ষক হিসেবে পাশে দাঁড়ানো আমার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এমন কর্মসূচি যদি আমরা করতে না পারি তবে জাতি হিসেবে আমাদের লজ্জার। আমরা বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাবো।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

tiplu

২০১৮-০৭-১৫ ০৪:০৬:৫৩

সব এক গোয়ালের। সরকারে থাকলে এক রীতি, বিরোধী দলে গেলে অন্য নীতি

নুরুল ইসলাম

২০১৮-০৭-১৫ ০২:৫৯:১১

আওয়ামী লীগ কি জিনিস যারা এতো দিন আওয়ামী লীগের  করছে তারা ও আস্তে আস্তে টের পাচ্ছে!

আপনার মতামত দিন

১৫ই আগস্ট জাতির জন্য শুধু শোকের নয়, লজ্জারও

সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর একজন বাংলাদেশের আজিজ খান

হলের সামনে থেকে ঢাবি ছাত্রী আটক

বাস অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা দ্বিতীয়

মানহানির মামলায় খালেদার জামিন

গোলাম সারওয়ারের দাফন কাল

মৃত্যুর এই কাফেলা বন্ধ হবে কবে?

ঢাকায় ন্যায় বিচারের খোঁজে

রাখাইনে যা দেখে এলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

হুইলচেয়ারে চলাফেরা করছেন নওশাবা

সিলেটে রাজু খুনের ঘটনায় মামলা

নতুন কলরেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বিএনপি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে

বাংলাদেশের সব এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার উন্মুক্ত

গুজব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে সরব হওয়ার আহ্বান ড. হাছান মাহমুদের

‘এ দেশের মাটি স্বৈরাচারের নয়’