মজুরি বাড়ায় রক্তক্ষরণ হচ্ছে -বিজিএমইএ

শেষের পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ১৬ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৪৬
সরকার তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করায় পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের এখন থেকেই রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। গতকাল বিজিএমইএ কার্যালয়ে ‘পোশাক শিল্পের ন্যূনতম মজুরি ও বর্তমান  পরিস্থিতি’ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ঘোষিত মজুরি নিয়ে দুই-একটি শ্রমিক সংগঠন উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভুল তথ্য দিয়ে পোশাক শ্রমিকদের উস্কানি দেয়ার চেষ্টা করছে। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্যই শ্রমিক নেতারা শ্রমিকদের নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে। তিনি বলেন, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শ্রমিকদের মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জটিলতা থাকা সত্ত্বেও কারখানা মালিকেরাও তা মেনে নিয়েছে। কিন্তু কয়েকটি এনজিও এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতারা মজুরি বিষয়ে প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে এবং শ্রমিকদের উস্কানি দিচ্ছে। পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার লক্ষে তারা এ ধরনের হীন কাজ করছে।
এতে জনমনে গভীর সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন’ নামের একটি সংগঠন বিভিন্ন ভুল তথ্য সম্বলিত প্রচারপত্র বিলি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

তিনি বলেন, ২০১০-১৮ সাল পর্যন্ত পোশাক শিল্পের মজুরি বৃদ্ধির হার ৩৮১.৩৫ শতাংশ। তারপরও তথা কথিত শ্রমিক নেতারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে এ খাতকে অস্থির করার পাঁয়তারা করছে। এর মধ্যে ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে মজুরি বাড়ছে বলে জানান তিনি।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কারখানা সংস্কার, মজুরি বৃদ্ধি ও বেতন দিতে না পারায় (২০১৪-১৮) গত চার বছরে প্রায় ১২০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের আশঙ্কা ভবিষ্যতে আরো অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। তাই নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন বিশাল চ্যালেঞ্জ বলে জানান তিনি। গত ১৩ই সেপ্টেম্বর পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামোর ঘোষণা দেয় সরকার। ২ হাজার ৭০০ টাকা বাড়িয়ে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোতে, শ্রমিকের মূল বেতন ৪ হাজার ১০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ১ হাজার ৫০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৬০০ টাকা, যাতায়াত ৬০০ টাকা এবং বাকি টাকা খাদ্য ও অন্যান্য খাতে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন কাঠামোতে কাজে যোগ দিয়েই (এন্ট্রি লেভেলে) একজন শ্রমিক আগের তুলনায় ২ হাজার ৭০০ টাকা বেশি পাবেন। এদিকে সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১লা ডিসেম্বর ৫ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছিল সরকার। সেই হারেই এখন বেতন পাচ্ছেন পোশাক শ্রমিকরা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, সহ-সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও মঈনুদ্দিন আহমেদ।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৮-১০-১৫ ২২:১৮:৩১

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সাথে বেতন (মজুরির) সামঞ্জস্য না থাকলে মজুর বাঁচবে কি করে ? ৳৮০০০,০০ তো বর্তমান বাজারে কিছুই না। ৮০ হাজার বেতন দেওয়া হচ্ছে অনেক আমলাদের তার উপর নানা রকম ভাতা। বেতনের বৈষম্য এক হাজার গুন। শহরে মজুর বেঁচে না থাকতে না পারলে গ্রামে চলে যাবে। তখন পোষাক কারখানা বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। ঢাকায় একটি বস্তির রোম ভাড়াই তিন থেকে ৪ হাজার । সব দিক বিবেচনা করতে হবে।

আপনার মতামত দিন

‘ইসরাইলকে স্বীকৃতির দেয়ার পরিকল্পনা নেই পাকিস্তানের’

৫২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে উৎসবমুখর চবি

খালেদার চিকিৎসা সংক্রান্ত রিটের আদেশ সোমবার

গীতাঞ্জলী’র অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে বেলারুশে

আগাম জামিন চেয়ে মির্জা আব্বাস দম্পতির আবেদন

পশ্চিমারা ইসলামিক পরিচয় ধ্বংস করতে চায়- মাওলানা ফজলু

প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া গ্রেপ্তার-মামলার তালিকা সিইসিকেও দিল বিএনপি

লোকসভায় ২৯৭-৩০৩ আসন পেতে পারে বিজেপি

শহিদুলের জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

জে-লো কাণ্ড!

বায়ুদূষণে কেমন আছেন দিল্লির রিক্সাওয়ালা!

জীবনে কম্পিউটার ব্যবহার না করেও জাপানের সাইবার নিরাপত্তামন্ত্রী, জানেন না ইউএসবি পোর্ট কি

আজ থেকে প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর অগ্নিপরীক্ষা

গুলশানে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার চলছে

বোরকার বিরুদ্ধে সৌদি নারীদের অভিনব প্রতিবাদ