ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:২৪
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করে পুণ্যার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে পূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সবাই যার যার অধিকার নিয়ে বসবাস করছে। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। কারা সংখ্যায় বেশি, কারা সংখ্যায় কম, সেটা বড় কথা নয়, যে যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে। উৎসবের সঙ্গে, স্বাধীনভাবে পালন করবে। সে অধিকার নিশ্চিত করেই বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। ধর্মীয় সম্প্রতি স্থাপনে বাংলাদেশ বিশ্বে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গতকাল বিকালে রাজধানীর টিকাটুলী রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ এবং লালবাগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে পৃথক শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রথমে রামকৃষ্ণ মিশন ও পরে ঢাকেশ্বরীতে যান প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকেশ্বরীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা নিরাপদে যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন। কারা বেশি সংখ্যা, কারা কম সংখ্যা সেটা বড় কথা নয়। যে যার ধর্ম উৎসবের সঙ্গে, স্বাধীনভাবে পালন করবে। সেটা নিশ্চিত করা নিয়েই বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা নববর্ষকে নতুন চেতনায় নিয়ে এসেছি। এই দিনটাকে সবাই মিলে একসঙ্গে পালন করি। আমরা চেষ্টা করেছি, সব ধর্মের মানুষের সমস্যা সমাধান করার। মুসলমান ধর্মের একটা নিয়ম আছে, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি দিতে গেলে হেবা করে দিতে পারে। এখানে কোন ট্যাক্স দিতে হয় না, মাত্র একশ টাকা খরচে লিখে দিতে পারে। এটা হিন্দু ধর্মসহ অন্যান্য ধর্মে ছিল না। আমরা সেটা আইন করে দিয়েছি, হিন্দু সম্প্রদায় তাদের উত্তরাধিকারকে সম্পত্তি দিতে পারবে ঠিক হেবা আইনে যেমন আছে, একশ টাকায় মূল্যের খরচে লিখে দিতে পারবে। আমরা মসজিদ ভিত্তিক যেমন গণশিক্ষা চালু করেছি, ঠিক মন্দির ভিত্তিকও ধর্মীয় শিক্ষা চালু করেছি। সেবায়েত পুরোহিতদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। প্রত্যেক ধর্মের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীন দেশ হিসেবে মর্যাদা অর্জন করেছি। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ গড়ে তোলা শুরু করেছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তাকে হত্যা করা হলো। আমি হারালাম আমার মা, বাবা, ভাইসহ পরিবারের ১৮ জন্য সদস্য। ছোট বোন রেহানাকে নিয়ে বিদেশে ছিলাম বলেই বেঁচে গিয়েছিলাম। স্বজন হারানো বেদনা নিয়ে বিদেশে শরণার্থী হিসেবে বাস করতে হয়েছিল। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ আমাকে সভানেত্রী করে, তখন শত বাধা নিয়েই দেশে এসে শত বাধার মুখে পড়লাম। তখন দেশে সংঘাতপূর্ণ অবস্থা ছিল। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল, তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন করেছিল। মানুষের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত হানতে দেখেছি, ধর্মীয় নেতা, আমাদের দলের নেতাকর্মী কেউ রেহাই পেত না। অথচ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। সবাই মিলেই গড়ে তুলবো। কিন্তু সে চেতনা ধ্বংস করে দেয়া হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘাত, হানাহানি, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা সবাই রুখে দাঁড়িয়েছি। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বলেই, আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে পেরেছি। সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে ধর্ম পালন করছে। পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে বলেই মানুষ নিরাপদে পূজা পালন করতে পারছে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জায়গা নিয়ে একটা সমস্যা ছিল, আমরা তারও সমাধান করেছি।

এর আগে বিকাল সাড়ে তিনটায় রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে পূজা পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়কে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আজকের দিনে এখানে আসতে পেরে সত্যিই আমি খুশি। আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) দেশের বাইরে যাচ্ছি। কাজেই চিন্তা করলাম, যাওয়ার আগে অন্তত আপনাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে যাই।

রামকৃষ্ণ মিশনের অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ। অনুষ্ঠানে রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের স্বামীজী ধ্রুবাবেশানন্দ প্রধানমন্ত্রীর হাতে শারদীয় শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আওয়ামী লীগের ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদারসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা বক্তব্য রাখেন। এদিকে ঢাকেশ্বরী ও রামকৃষ্ণ মিশনে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ব্যাপক শোডাউন করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘ইসরাইলকে স্বীকৃতির দেয়ার পরিকল্পনা নেই পাকিস্তানের’

৫২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে উৎসবমুখর চবি

খালেদার চিকিৎসা সংক্রান্ত রিটের আদেশ সোমবার

গীতাঞ্জলী’র অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে বেলারুশে

আগাম জামিন চেয়ে মির্জা আব্বাস দম্পতির আবেদন

পশ্চিমারা ইসলামিক পরিচয় ধ্বংস করতে চায়- মাওলানা ফজলু

প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া গ্রেপ্তার-মামলার তালিকা সিইসিকেও দিল বিএনপি

লোকসভায় ২৯৭-৩০৩ আসন পেতে পারে বিজেপি

শহিদুলের জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

জে-লো কাণ্ড!

বায়ুদূষণে কেমন আছেন দিল্লির রিক্সাওয়ালা!

জীবনে কম্পিউটার ব্যবহার না করেও জাপানের সাইবার নিরাপত্তামন্ত্রী, জানেন না ইউএসবি পোর্ট কি

আজ থেকে প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর অগ্নিপরীক্ষা

গুলশানে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার চলছে

বোরকার বিরুদ্ধে সৌদি নারীদের অভিনব প্রতিবাদ