এখন আর ভাষণে লাভ নেই, অ্যাকশনে যেতে হবে

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫২
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজ দলের কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, এখন আর ভাষণ দিয়ে লাভ নেই, অ্যাকশনে যেতে হবে। অনেক কাজ, অনেক ক্যাম্পেইন করতে হবে। গতকাল দলীয় সভানেত্রীর ধানমণ্ডির কার্যালয়ে দলীয় প্রচারণা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।   তিনি বলেন, মঙ্গলবার যে দুটি হত্যাকাণ্ড হয়েছে সে দুটি হত্যাকাণ্ড বিএনপি করেছে। এটার প্রমাণ আমাদের হাতে আছে, এটা কোনো সাজানো বানানো কথা নয়। তিনি বলেন, পল্টনে যে নারকীয় তাণ্ডব তারা শুরু করেছিল, সেটা এখনো তারা চালাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে পাঁচবালিয়া ইউনিয়নে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। হানিফ নামের যুবলীগের এক কর্মীকে প্রথমে চোখের মধ্যে মরিচের গুঁড়া দিয়েছে, এরপর ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে দিয়েছে, এরপর গুলি করে তাকে স্পটে হত্যা করেছে। নির্বাচনী পরিচালনার কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে নির্বাচনী প্রচার অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- নির্বাচনী প্রচার উপ-কমিটির আহ্বায়ক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-দপ্তর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। মিডিয়া কর্মীদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুলের কর্মীরা বিক্ষোভ করেছে।
কোনো কোনো মিডিয়া প্রচার করেছে, অথচ আমাদের দুই কর্মী নৃশংসভাবে নিহত হলো, সেই খবর কোনো মিডিয়ায় নেই। দুঃখের সঙ্গে বলছি-আপনারা কেন আমাদের সঙ্গে এই ব্যবহারটা করছেন? একটা দল হিসেবে আমরা তো অতিরিক্ত কিছু চাইছি না। আমাদের দুজন কর্মীকে যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো, সেটা এত বড় কোনো নিউজ না,  হেডলাইন হলো ফখরুল।

অথচ ফখরুলের গাড়ির একটি কাঁচও ভাঙেনি। আমাদের আওয়ামী লীগের অফিস ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে, সে খবর কোথাও নেই। মিডিয়ার একাংশ আমাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত ক্যাম্পিং করছে। মনে হচ্ছে তারাই ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র। মনে হচ্ছে তারাই বিএনপির কাগজ। বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত মিডিয়ার একটি অংশ দলের হয়ে মাঠে নেমেছে। তাদের মনে রাখা উচিত, তাদের মিথ্যাচারে বাংলাদেশের জনগণ বিভ্রান্ত হবে না। ফখরুল হয়েছে তাদের শিরোনাম, দুটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড তাদের শিরোনাম হতে পারেনি। তিনি বলেন, আমি সড়ক পথে ফেনী থেকে নোয়াখালী গিয়েছি, ধানের শীষের একটি স্লোগানও শুনিনি। তারা নির্বাচন করবে তাদের একটা প্রার্থীও মাঠে নেই।

আর মাঠে থাকবে কেন? মনোনয়নের জন্য টাকা দিয়েছে, সেই টাকা পাচ্ছে না। এখন তারা কখনও ফখরুলের অফিস ভাঙে, কখনও খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। আবার কখনও নয়াপল্টন অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়, কখনও গুলশান অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কায়দায় তারা আজকে প্রচারণা চালাচ্ছে। বড় বড় লাঠির সঙ্গে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করেছে। আজকে তারা লাঠির সঙ্গে পতাকা ব্যবহার করছে এবং সেটাকে প্ল্যাকার্ড হিসেবে ব্যবহার করছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি গত তিন-চারদিন ঢাকায় ছিলাম না। ফেনী, কুমিল্লা এবং আমার নির্বাচনী এলাকায় গিয়েছি। আমি শুধু আপনাদের এতটুকু বলতে পারি, যা সত্য নয় তা প্রচার করে লাভ নেই। ৩০ তারিখ তো আমরা চাপা দিতে পারবো না। যখন ফলাফল বের হবে তখনই বোঝা যাবে। এবার প্রচারণায় গিয়ে এরকম জনস্রোত আমি এর আগে কখনও নৌকার পক্ষে দেখিনি। এটা আসলেই গণজোয়ার। তিনি বলেন, এই যে মওদুদ আহমদ সাহেব বড় বড় কথা বলেন, তিনি গত পাঁচ বছরেও তার নির্বাচনী এলাকায় যাননি।

এখন নির্বাচনের কারণে তিনি যাচ্ছেন। এজন্য তাকে স্বাগত জানাই। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী না হলে তো নির্বাচন জমবে না। প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমতে হবে, না হলে নির্বাচন কিসের। উনি কিন্তু জমাতে পারছেন না। নোয়াখালী-কুমিল্লা এলাকায় কোনো প্রার্থী এখন পর্যন্ত মাঠে নেই, কিন্তু তারা বলছে গণজোয়ার। আমার কাছে বিষয়টি বড় হাস্যকর মনে হয়। এটা গণজোয়ার না, এটা গণভাটা। বিএনপিতে এখন গণভাটা চলছে। বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ পথে আসার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ৫০ শতাংশ সুষ্ঠু ভোট কেন বলছেন, শতভাগ সুষ্ঠু ভোট হবে। আর সেই ভোটে আপনারা যে মুসলিম লীগের কাছাকাছি চলে গেছেন, সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমি মির্জা ফখরুলের মতো সংখ্যাতত্ত্বের হিসাব করি না।

আপনারা নির্বাচনে থাকুন, আপনারা সরবেন না। আপনাদের শেষ পর্যন্ত থাকা দরকার। আপনাদের জনপ্রিয়তা কতটুকু সেটা ৩০ তারিখে জনগণ বুঝিয়ে দেবে। সেটা দেখার জন্য হলেও আপনাদের থাকা উচিত। কেউ কেউ মতলবে আছেন, একসময় এই অজুহাত, ওই অজুহাত দিয়ে বলবেন-নির্বাচনের পরিবেশ নেই। হারা যে কত শোচনীয় হারা হবে, সেটা আপনারা টের পাবেন। বহু আসনে ২০০৮ সাল থেকেও খারাপ অবস্থা হবে। আপনাদের সেই শোচনীয় পরাজয়ের জন্য অপেক্ষা করুন, শান্তিপূর্ণ পথে আসুন। নিজেরা গোলমাল করে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ দেবেন না। ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে রাজনীতি কোথায় গেছে? কামাল হোসেন সাহেব তারেক জিয়ার নির্দেশে চলেন। মোস্তফা মহসিন মন্টু, মান্না এদের মতো নেতা আজ তারেক জিয়ার নাটাইয়ের টানে চলে, লন্ডন থেকে রশি টানে, আর লন্ডন থেকে রশি ছাড়ে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

টন্টন

আজও উজ্জ্বল আমির

সেনাবাহিনীকে সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আইসিসি’র সমালোচনায় সাঙ্গাকারা

ইমরান খানের কথা না শুনে মাসুল গুনছেন সরফরাজ

কোহলির নতুন মাইলফলক

পাকিস্তানি সমর্থকের কাণ্ড

নয়নকে কুপিয়ে মারলো দুর্বৃত্তরা

চিড় নেই মুশফিকের হাতে

ডিআইজি মিজানকে দুদক কেন গ্রেপ্তার করতে পারছে না: সুপ্রিম কোর্ট

নুসরাতের কবরে গিয়ে শপথ নিয়েছিলাম ন্যায়বিচারে লড়বো: ব্যারিস্টার সুমন

স্বপরিবারে ফ্রান্সে অবকাশ যাপনে ওবামা

ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেপ্তার

সরফরাজদের জন্য ইমরানের তিন পরামর্শ

হলমার্কের জেসমিনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

‘মোবাইল ফোনে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব আত্মঘাতী’