নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না: ড. কামাল

সিলেট থেকে ধানের শীষের প্রচারণা শুরু

প্রথম পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:৫৬
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, যতই বাধা আসুক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবো না। দেশের মানুষের মুক্তির জন্য, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা নির্বাচনে থাকবো। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের মানুষ মালিকানা হারাবে। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তিনিও সোচ্চার থাকবেন। কিন্তু এখন দেখছি উল্টো। প্রার্থীদের গাড়িতে-বাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে। এখনো সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে না। এ কারণে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ড. কামাল হোসেন গতকাল বিকেলে সিলেটের ওলীকুল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন।
একই সঙ্গে তিনি ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, কোনো বাধাই কাজে আসবে না। নির্বাচনের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। এখন ঐক্যবদ্ধভাবেই নির্বাচন করছি। দেশের মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন বারবার বাধা দিচ্ছে। এতে করে দেশের মানুষের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন- এখনো তারা ধরপাকড় বন্ধ করেনি। নেতাকর্মীরা বাড়ি ঘরে ঘুমাতে পারছে না। প্রার্থীদের গাড়িতে হামলা করা হচ্ছে। এটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্তরায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার বিরুদ্ধে এনবিআরের তদন্ত প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন বলেন, তিনি এ ব্যাপারে মানহানির মামলার করবেন। মানহানির মামলা করতে তিনি মনস্থির করেছেন বলে জানান। বলেন, ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন। ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ভোট দেবেন। নিজের মালিকানা ফিরিয়ে আনবেন। ইতিহাসের দিকে তাকান- যখনই মানুষ অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়েছে তখনই জনগণ সফলতা পেয়েছে। এজন্য তিনি দেশের মানুষকে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, সাংবিধানিক অধিকার হলো জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু সরকার সেটি করছে না। সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য হলো মানুষের অধিকার হরণ করা।

সিলেট থেকেই শুরু করা হলো জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা। গতকাল দুপুরে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সিলেটে এসে প্রচারণা শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ বিমানের বিলম্ব ফ্লাইটের কারণে প্রায় ৩ ঘণ্টা দেরিতে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে তারা সিলেটে পৌঁছেন। ওখান থেকে সাড়ে ৪টার দিকে তারা আসেন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে। এ সময় ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সিলেটে আসেন- ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা আসম আবদুর রব, কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

সকাল ১১টা থেকে দরগাহ এলাকায় অবস্থান নেন সিলেট বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেকের নেতৃত্বে বিএনপির নেতারা মাজারের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। এ সময় তারা হাতে জাতীয় পতাকা ও ধানের শীষ নিয়ে মিছিল করতে থাকেন। কয়েকশ’ নেতাকর্মী অবস্থান নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের অপেক্ষায় থাকেন। এ সময় সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের পক্ষে দরগাহ এলাকায় একটি পথসভার আয়োজন করে বিএনপি। কিন্তু বেলা দুই টার দিকে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে বিএনপি নেতাদের পথসভা করতে নিষেধ করে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে প্রধান ফটকের বিভিন্ন স্থানে রাখা মাইক খুলে নেয়া হয়। সরিয়ে দেয়া হয় অস্থায়ী মঞ্চ। এ সময় সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতারা সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ তাদের পথসভা করতে দিচ্ছে না। তারা জোরপূর্বক এসে মাইক সরিয়ে নিয়ে গেছে।

এদিকে বিকেল ৩টার দিকে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় মাজার এলাকা। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা মাজার এলাকায় এসে অবস্থান নেন। ড. কামাল হোসেনসহ সিনিয়র নেতারা আসার পর মিছিলে মিছিলে সরব হয়ে উঠে মাজার প্রাঙ্গণ। মাজারে পৌঁছে কাদের সিদ্দিকী, ড. জাফরউল্লাহ ও নজরুল ইসলাম খান মাজারের উপরের অংশে গিয়ে জিয়ারত করেন। অসুস্থ থাকার কারণে ড. কামাল হোসেন নেতাকর্মী বেষ্টিত অবস্থায় নিচে চেয়ারে বসে জিয়ারত করেন।

এদিকে মাজার জিয়ারত করে বেরিয়ে এসে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, এখানে এসে ঐক্যফ্রন্টের বিজয় দেখতে পাচ্ছি। আমরা মাজার জিয়ারতে এসে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলাম। আজকে দেশে মানুষের কোনো সম্মান নেই, অধিকার নেই। সরকার আমাদের সহযোগিতা করছে না। আমরা সিলেটে এসে মানুষের যে উচ্ছ্বাস দেখলাম সেটি যদি কাজে লাগানো যায় ঐক্যফ্রন্টের বিজয় দমাতে পারবে না। এবার ভোটারের বিজয়, জনগণের বিজয় হবে ইন্‌শাআল্লাহ। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের বিজয় নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন- সরকার আদর দেবে না, চুমু দেবে না। মাঠে থাকেন। জনগণের বিজয় নিশ্চিত। এই সরকার কিছুই করতে পারবে না। নজরুল ইসলাম খান বলেন- বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত না। এ কারণে তাদের কাছে ভালো আচরণ আশা করা যায় না। সরকার যে আচরণ করছে সেটা গণতান্ত্রিক আচরণ না। বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে সবাই দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে আমরা নেমেছি। ইন্‌শাআল্লাহ এ লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে। মাঠ ছাড়বেন না। বিজয় হবে ইন্‌শাআল্লাহ।

এদিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের পর ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সিলেটে হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। পরে তারা সিলেট-৩ আসনের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী শফি চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখেন। রাতে সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিমের পক্ষে হরিপুর এলাকায় আরেক নির্বাচনী সমাবেশেও তারা বক্তব্য রাখেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নৈতিক পরাজয় ঢাকতে আওয়ামী লীগের বিজয় উৎসব : ফখরুল

৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ ২০ শ্রমিকের

প্রথম মা হচ্ছেন লুসি, সন্তানের পিতার পরিচয় গোপন রাখবেন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমার অত্যন্ত ধীর গতিতে

‘ইসরাইলিদের মালয়েশিয়ায় আসা উচিত নয়’

আওয়ামী লীগের বিজয় উৎসবে গণজমায়েত শুরু, কঠোর নিরাপত্তা

‘বেস্ট সেলিং ব্রান্ড’ হলো আতঙ্ক- জাতিসংঘ মহাসচিব

১৮ ঘণ্টা পর খুলনার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক মনিরের মামলায় ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র

ভিক্টোরিয়ার ৮টি গোডাউনে আগুন, শত কোটি টাকার পণ্য ভস্মিভূত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২

গাংনীতে অপহরণের ৪ মাস পর নারীর কঙ্কাল উদ্ধার

সহযোগিকে মিথ্যা স্বাক্ষ্য দিতে বলেছিলেন ট্রাম্প

‘সবার সচেতনতায় দেশের আরো উন্নয়ন সম্ভব’

কুয়েত থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে ৩০০ বাংলাদেশিকে

ঐক্যফ্রন্ট না টেকারই কথা: কাদের