আদালতেই সময় পার চট্টগ্রাম বিএনপির!

বাংলারজমিন

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম থেকে | ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কোথাও দেখা মিলছে না বিএনপি নেতাদের। নসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ও প্রায় ফাঁকা। সামাজিক অনুষ্ঠানেও আগের মতো অংশ নিচ্ছেন না তারা। বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়েও নেতাদের সাক্ষাৎ মিলছে না।
এমনটাই জানালেন চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর-দক্ষিণ জেলার তৃণমূল নেতাকর্মীরা। জানান তাদের হতাশার কথাও। তবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ান জানান অন্য কথা।
তিনি বলেন-জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকারের কারচুপিতে হতবাক হলেও বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে মোটেও হতাশ নয় নেতাকর্মীরা। মামলা সামাল দিতেই সময় চলে যাচ্ছে নেতাকর্মীদের।
তাই মাঠে কম দেখা যাচ্ছে। আদালতে গিয়ে দেখুন বিএনপির নেতাকর্মীদের সমাগম।
তিনি বলেন-কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রামের শীর্ষ নেতাসহ চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর-দক্ষিণ জেলা বিএনপির এমন কোনো নেতাকর্মী নেই যার বিরুদ্ধে ৩০টিরও অধিক মামলা নেই। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৭টি মামলা আছে এমন একাধিক নেতাকর্মীও রয়েছে। এসব মামলায় খুব কম নেতাকর্মী জামিনে থাকলেও অধিকাংশ নেতাকর্মী কারাগারে বন্দি। যাদের জামিন নেয়া, হাজিরা দেয়া শুধু এসব কাজেই সময় চলে যাচ্ছে।
আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন কারাগারে থাকার পরও কোনো নেতাকর্মীর মনোবল ভাঙেনি। চট্টগ্রামের অধিকাংশ নেতা কারাগারে থাকার কোনো প্রভাব বিএনপির আগামী দিনের কর্মসূচিকেও প্রভাবিত করবে না। আগামী ১৯শে জানুয়ারি দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মদিনে সভা করে আমরা দেখিয়ে দেবো বিএনপি নেতাকর্মীরা কতটা চাঙা।
মহানগর বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে পুলিশ। এদের সবাইকে জেল খাটতে হয়েছে। ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীর জামিন হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীর জামিন চাওয়া হচ্ছে আদালতে। পাঁচ থেকে ছয় শতাধিক নেতাকর্মী আদালতে হাজিরা দিতে আসছে। এতে আদালতে সমাবেশ হয়ে যায় বিএনপির।
ইদ্রিস আলী বলেন, কারাগারে আটক মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে ৪৬টি এবং সাধারণ সমপাদক আবুল হাশেম বক্করের বিরুদ্ধে ২৬টি মামলা রয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল নোমান, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, আসলাম চৌধুরীসহ শীর্ষ নেতারা সবাই একাধিক মামলায় জেলখানায় বন্দি। এছাড়া মহানগর বিএনপির অধিকাংশ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে। অনেকে রয়েছেন কারাগারেও। যারা জামিনে বের হয়ে এসেছেন তাদের অনেকের আদালতে হাজিরা দিতে দিতে দিন চলে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, গত ৩০শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিভাবে হয়েছে তা দেশবাসী দেখেছে। একতরফা নির্বাচনে বিএনপিকে জোরপূর্বক হারিয়ে দেয়া হয়েছে। এ কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা হতবাক। তবে আশার কথা হচ্ছে বিএনপি এ অবস্থায় আর বেশিদিন থাকবে না। আগামী ১৯শে জানুয়ারি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মদিন। এ উপলক্ষে দলীয় অফিসে ওইদিন সভা করবে বিএনপি। এরপর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব ফিরে আসবে।
মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সমপাদক এসএম সাইফুল আলম বলেন, ১৫ থানা ও ৪১ ওয়ার্ড কমিটির মাধ্যমে নগর বিএনপির কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। বর্তমানে মহানগর বিএনপির প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছেন। নানা কারণে তাদের জামিন পাওয়া যাচ্ছে না। দলের মহানগর সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেয়া হচ্ছে। একটির জামিন হলে আরেকটি মামলা দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক।
সরজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রামের ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে শুরু করে মহানগর দায়রা জজ আদালত পর্যন্ত সবখানে বিএনপি নেতাকর্মীদের সমাগম। এদের বেশির ভাগই জামিনের পর হাজিরা দিচ্ছেন আদালতে। এ সময় চট্টগ্রাম উত্তর জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শওকত আলী নূর বলেন- নাশকতাসহ আমার বিরুদ্ধে ২২টি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় কয়েকটিতে জামিনে থাকলেও নাশকতা মামলায় কয়েক মাস জেল খাটতে হয়েছে। এসব মামলায় সপ্তাহের প্রতিদিনই আমাকে আদালতে হাজিরা দিতে হয়।
অন্যদিকে নগরীর নসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ও এখন সুনসান নীরবতা। দিনের পর দিন বিএনপির এ অফিসে ঝুলছে তালা। অফিসের নিরাপত্তাকর্মী নূর হোসেনও এখন আর আসে না। নূর হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, নেতাকর্মী না আসার কারণে আমিও দিনের বেলায় আসি না। তবে সন্ধ্যার পর বাতি জ্বালানোর জন্য আসতে হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর বিএনপির এক নেতা বলেন, নেতাকর্মীরা একাধিক মামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে ভুগছে। এ অবস্থায় সিনিয়র নেতাদের দেখা না পেয়ে কর্মীরা প্রতিনিয়তই আস্থা হারাচ্ছে। ফলে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে কর্মীরা আর মাঠপর্যায়ে কাজ করবে কিনা তাও প্রশ্নবিদ্ধ।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কামাল হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের বেশির ভাগই মাদক, নাশকতা ও হামলার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে। এদের বেশির ভাগই বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।   
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মো. ইলিয়াছ সিকদার সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগের দিন রাতে হঠাৎ পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে গায়েবি হামলা মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠায়। ফলে নির্বাচনে আমি ভোট দিতে পারি নাই। চট্টগ্রাম কারাগারে বিএনপির এমন ৭-৮ হাজার নেতাকর্মী বন্দি রয়েছে।  



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

২০০০ কোটি ডলারের চুক্তির অঙ্গীকার সৌদি আরবের

পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন আইএসের বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত শামিমা

‘সমালোচনায় নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার মতো মেয়ে আমি নই’

সালাউদ্দিন লাভলু হাসপাতালে

জামায়াতের গন্তব্য কোথায়?

সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে শাজাহান খানের নেতৃত্বে কমিটি

গণশুনানিতে অনড় ঐক্যফ্রন্ট

ঢাকায় যত বাগ

টিকিট বুকিংয়ের নামে প্রতারণা

আমিরাতের প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আরো ৭ প্রার্থী

যেভাবে নাসায় ডাক পেলেন পাঁচ তরুণ

ভোগান্তির পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক

অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি

সানাইয়ের ভুল স্বীকার

ভালোবাসা দিবসের রাতে সাভারে পোশাক শ্রমিককে গণধর্ষণ