আওয়ামী লীগকে মানুষ চিরদিনের জন্য দূরে ঠেলে দিয়েছে

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৫২
৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে চিরদিনের জন্য দূরে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা  ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বিকালে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজনে দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা আলমগীর বলেন, ৩০শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি কাজে দিয়েছে। আওয়ামী লীগকে মানুষ চিরদিনের জন্য মন থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। আজকে পরাজিত হয়েছে আওয়ামী লীগ। সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয়েছে। তারা নৈতিক দিক দিয়ে পরাজিত হয়েছে। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন ও একেবারেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সেই দল, যারা শুধু ক্ষমতায় থাকতে চায়, ক্ষমতা ছাড়তে চায় না।
গণতন্ত্রকে তারা ব্যবহার করে তাদের প্রয়োজনে। সংবিধান ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে তারা ব্যবহার করে তাদের প্রয়োজনে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা ধ্বংস করে। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন আমাদের এই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, হতাশার কোনো জায়গা নেই। হতাশা থাকলে আমরা জিয়াউর রহমানকে অনুসরণ করতে পারবো না।

অন্ধকারের মধ্য থেকে আলোতে উঠে আসতে হবে। তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। এই দেশটা আপনাদের, সুতরাং আপনাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। ভোটের অধিকার আপনাদের এটা আপনাদেরকেই রক্ষা করতে হবে। জিয়াউর রহমান আমাদের শিখিয়েছেন পরাজিত না হওয়া। পরাজয় বোধ করলেই পরাজয়। মির্জা আলমগীর বলেন, আমাদের যে সমস্ত ভাইরা কারারুদ্ধ রয়েছেন, আহত হয়েছেন ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে।

আমাদের যে সমস্ত মা-বোনেরা নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদেরকে এখন ঐক্যবদ্ধ ও বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার আন্দোলনের মধ্যদিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। আমাদের ভাইদেরকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। এসময় তিনি বলেন, আজকের যে বাংলাদেশ আমরা দেখছি- উন্নয়ন হচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই উন্নয়নের প্রথম ভিত্তি গড়ে দেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। আমরা ভুলে গেছি ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সালে দেশে একটা কালো অধ্যায় গেছে। সেই সময় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার যে কথাগুলো ছিল সেগুলোকে এই আওয়ামী লীগ একে একে বিলীন করে দিয়েছিল। তাদের প্রণীত সংবিধানকে তারা পরিবর্তন করে একটা একটা করে যত কালাকানুন আছে সেগুলো প্রণয়ন করেছিল। বিশেষ ক্ষমতা আইন, জরুরি অবস্থার আইন তৈরি করেছিল।

সব শেষে যখন আর কিছুতেই সামাল দিতে পারছিল না তখন একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল তারা কায়েম করেছিল। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের কাছে পরিচিত মুখ ছিলেন না। ১৯৭১ সালে যখন পাকহানাদার বাহিনী স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, যখন স্বাধিকার আন্দোলন চরমে উঠেছিল, সেই সময়ে পাক হানাদার বাহিনীর আক্রমণের ফলে মানুষ কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে গিয়েছিল। হতাশ হয়ে গিয়েছিল। ঘরবাড়ি ছেড়ে, গ্রাম ছেড়ে মানুষ পালিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময়ে রেডিওতে জিয়াউর রহমানের একটি কণ্ঠ গোটা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল। সবাই সাহস ও যুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ফিরে পেয়েছিল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান আবার পেছনে চলে গিয়েছিলেন। পরে দেশের আরেক দুঃসময়ে আবার তিনি আসেন। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর। যখন দেশ আবার অনিশ্চয়তা, অন্ধকার ও অস্থিতিশীলতার দিকে গেল। তখন তিনি জনগণের সামনে আসলেন। সেই জন্য জিয়াউর রহমান এই দেশের মানুষের অন্তরে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ এই নামটাকে বারবার মুছে ফেলতে চায়। কিন্তু এটা কোনো পাথরে খোদায় করা নাম নয়। এটা মানুষের অন্তরে লেখা নাম বলে এটা মুছে ফেলা যায় না।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ৩০শে ডিসেম্বর দেশে একটি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন কোনো নির্বাচন হয়নি। তার আগের দিন ২৯শে ডিসেম্বরই নির্বাচন হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণকে ভয় পায়, বিএনপিকে ভয় পায়। তারা যে ভয় পায় ৩০শে ডিসেম্বরের প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমেই তা প্রমাণিত হয়েছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আওয়ামী লীগের প্রতি আরো বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছে। এখন আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ২০০৮ সালে ষড়যন্ত্রের নির্বাচনের পর আমরা দ্রুত কাউন্সিল করে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম এবারও সেভাবে ঘুড়ে দাঁড়াতে হবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ৩০শে ডিসেম্বর কোনো নির্বাচন হয়নি। যেটা হয়েছে তার প্রক্রিয়া দেখে আমরা হতবাক হয়েছি, নিরাশ হয়েছি। আওয়ামী লীগ কেমন তা আমরা সবাই জানতাম। তার পরও তাদের দলীয় সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে গিয়েছি। তার দুটো কারণ ছিল। প্রথম কারণ হলো- এই নির্বাচনে গেলে একটা পরিবেশ তৈরি হবে।

আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী যারা মামলার কারণে আত্মগোপনে রয়েছে তারা ফিরে আসবে। প্রার্থীদের জন্য কাজ করতে পারবে। তারা মাঠে উঠে আসায় সবাই উজ্জীবিত হবে। আরেকটা কারণ হলো- ভেবেছিলাম এই সরকার অন্তত প্রমাণ করার চেষ্টা করবে যে, দলীয় সরকারের অধীনেও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। অন্তত তফসিল ঘোষণার পরে আর নতুন কোনো মামলা-মোকদ্দমা হবে না। প্রার্থীরা গ্রেপ্তার হবে না। সবাই মুক্তভাবে রাজনীতি করতে পারবে। কিন্তু এই নির্বাচনে উল্টো ঘটনা ঘটেছে। মওদুদ আহমদ বলেন, এখন আমাদের দুটি কাজ। একটি হলো- আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন। অন্যটি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারকে পুনর্বাসন করতে হবে। তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে। সেবা করতে হবে। আরেকটি হলো- দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। দলের জন্য যারা এই দুঃসময়ে বেশি শ্রম দিয়েছে, তাদেরকে সামনের দিকে এনে দল পুনর্গঠন করতে হবে। সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে পুনর্গঠন করতে হবে।

প্রয়োজনে আমাদের যাদের বয়স হয়ে গেছে তারা সরে দাঁড়াবো। তুরুণদের সুযোগ করে দিতে হবে। তাহলে আমরা ফিরে দাঁড়াতে পারব। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালে কী হয়েছিল নতুন প্রজন্ম তার কিছু কিছু নিশানা আজকে দেখতে পাচ্ছে। ৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচনের নামে বাংলাদেশে যে প্রহসন হয়েছে সেটা শুধু প্রহসন নয়। এর মাধ্যমে যে সন্ত্রাস হয়েছে, সরকারি প্রশাসনকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রকে ভেঙে চুরমার করে দেয়ার মাধ্যমে ’৭২-এর কিছু নিশানার প্রমাণ দিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদের যৌথ পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য  দেন- দলটির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, আবদুল মান্নান, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর বীরউত্তম, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

লিবিয়ায় সরিয়ে নেয়া হলো ২৫০ বাংলাদেশিকে

ফেরদৌসের পর নূরকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

আগুনে পুড়লো মালিবাগের ২৬০ ব্যবসায়ীর সম্বল

ভারতে ভোটে হাঙ্গামা, ইভিএম বিভ্রাট

জরুরি সফরে ঢাকা আসছেন ভারতের বিদেশ সচিব

ফেঁসে যাচ্ছেন রাজউকের ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারী

সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রীর ব্রুনাই সফরে ছয় চুক্তি হতে পারে

সুবীর নন্দীর শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত

দেশে এখন অবলীলায় হত্যা ধর্ষণ হচ্ছে: ফখরুল

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় ৪ ধাপ পিছিয়ে ১৫০তম বাংলাদেশ

প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, ৬ দিন পর উদ্ধার

ম্যালেরিয়া ঝুঁকিতে ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ

‘আমার সবকিছু কেড়ে নেয়ার পর মেয়ের দিকে কু-দৃষ্টি পড়ে যুবলীগ নেতা উজ্জ্বলের’

ভূঞাপুর হাসপাতালে সেবা না পেয়ে রাস্তায় সন্তান প্রসব

পুলিশের ভূমিকার বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি টিআইবি’র