প্রাণের মেলা

ষোলো আনা

প্রণব কর্মকার | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৬
অমর একুশে গ্রন্থমেলা। ব্যাপকভাবে পরিচিত এই মেলা একুশে বইমেলা স্বাধীন বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মেলাগুলোর অন্যতম। প্রতিবছর পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে এই মেলা বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

মেলার ইতিহাস স্বাধীন বাংলাদেশের মতোই প্রাচীন। ১৯৭২ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি চিত্তরঞ্জন সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বর্ধমান হাউজপ্রাঙ্গণে বটতলায় এক টুকরো চটের ওপর কলকাতা থেকে আনা ৩২টি বই সাজিয়ে বইমেলার গোড়াপত্তন করেন। এই ৩২টি বই ছিল চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ (বর্তমান মুক্তধারা প্রকাশনী) থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশি শরণার্থী লেখকদের লেখা বই। এই বইগুলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের প্রথম অবদান। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি একাই বইমেলা চালিয়ে যান।

 ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী বাংলা একাডেমিকে মেলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করেন। ১৯৭৯ সালে মেলার সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি, এই সংস্থাটিও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা। ১৯৮৩ সালে কাজী মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে বাংলা একাডেমিতে প্রথম ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র আয়োজন সম্পন্ন করেন। ২০১৪ সাল থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা বাংলা একাডেমির মুখোমুখি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমপ্রসারণ করা হয়েছে।

১৯৮৪ সালে ‘অমর একুশে বইমেলা’ নামে যে মেলার আয়োজন, তাতে এখন বেশ পূর্ণতা এসেছে। এই মেলা বাঙালির প্রাণের মেলা, লেখকের মেলা, প্রকাশকের মেলা, পাঠকের মেলা। এই মেলাকে কেন্দ্র করেই প্রকাশিত হয় অধিকাংশ সৃজনশীল বই।

১৩ই ফেব্রুয়ারি বসন্তবরণ। এর পরের দিনই বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এ দু’দিনে বইমেলা রূপ নেয় জনসমুদ্রে। গত কয়েক বছরে লক্ষ করা গেছে, এই সময়ে কানায় কানায় ভরে যায় মেলার আশপাশের এলাকাও। তরুণ-তরুণী, প্রেমিক-প্রেমিকারা এ দু’দিনের প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন আগে থেকেই। সাজে, পোশাকে নিজেদের রাঙিয়ে নেন মেলার রঙে। বই-ও বিক্রি হয় সর্বাধিকসংখ্যক।

মেলা চলাকালীন প্রতিদিনই মেলাতে বিভিন্ন আলোচনা সভা, কবিতা পাঠের আসর বসে, প্রতি সন্ধ্যায় থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়া মেলাতে লেখককুঞ্জ রয়েছে, যেখানে লেখকেরা উপস্থিত থাকেন এবং তাদের বইয়ের ব্যাপারে পাঠক ও দর্শকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ ছাড়া মেলার তথ্যকেন্দ্র থেকে প্রতিনিয়ত নতুন মোড়ক উন্মোচিত বইগুলোর নাম, লেখক ও প্রকাশকের নাম ঘোষণা করা হয় ও দৈনিক প্রকাশিত বইয়ের সামগ্রিক তালিকা লিপিবদ্ধ করা হয়।

২০১০ সালে এই মেলার প্রবর্তক চিত্তরঞ্জন সাহার নামে একটি পদক প্রবর্তন করা হয়। পূর্ববর্তী বছরে প্রকাশিত বইয়ের গুণমান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’। এ ছাড়া স্টল ও অঙ্গসজ্জার জন্য দেয়া হয় ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’। সর্বাধিক গ্রন্থ ক্রয়ের জন্য সেরা ক্রেতাকে দেয়া হয় ‘পলান সরকার পুরস্কার’।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ছাত্রদলের ভোট শুরু

অভিযানে যুবলীগ নেতা খালেদের বাসায় যা পাওয়া গেল

পার্লামেন্ট স্থগিত নিয়ে রায় দেয়ার ক্ষমতা নেই আদালতের: সরকার পক্ষ

কী হবে যুবলীগের ট্রাইব্যুনালে?

দেশের অর্থনীতিতে বেক্সিমকোর অবদান অনস্বীকার্য: টিআইবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা

শেখ হাসিনা নরেন্দ্র মোদি বৈঠকে এনআরসি নিয়ে আলোচনা হবে

অর্থশাস্ত্রকে সামাজিক বিজ্ঞানে পরিণত করতে হলে পুনর্বিন্যাস জরুরি

নারায়ণগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১, লাশ দাফনে বাধা

পিয়াজের দাম আর কত বাড়বে?

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ৫৩৬

৯ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় মাকসুদা বেগমের আকুতি

তারা টকশোর অ্যাংকর নাকি অনভিজ্ঞ বক্তা?

‘টাকা দিয়ে ছাত্র প্রতিনিধি এর নাম কি রাজনীতি’

পার্লামেন্ট স্থগিত নিয়ে রায় দেয়ার ক্ষমতা নেই আদালতের: সরকার পক্ষ