আমরা কেবল লাশ গুনি

এক্সক্লুসিভ

সাজেদুল হক | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:২৫
মৃত্যুর মিছিল চলছে। মারা যাচ্ছে মানুষ। বেরুচ্ছে একের পর এক লাশ। আমাদের চোখের সামনেই। আমরা কিছুই করতে পারছি না। ফায়ার সার্ভিস রাতভর চেষ্টা করেছে। লড়াই করেছে জীবনবাজি রেখে। কিন্তু যা হওয়ার তা হয়েই গেছে।

এ যেন সবারই জানা ছিল। দিনটি আসবে। কেবল কবে আসবে তা হয়তো আমরা জানতাম না। অপেক্ষা করেছি। একটি অক্ষম এবং বিস্মৃতিপরায়ণ জাতির অপেক্ষা। ৯ বছর পর সেই রাত আবার ফিরে এলো। নিমতলি ট্র্যাজেডির পর কত কথা হলো। কত আওয়াজ। শোক, কান্না। নাজিম হিকমত লিখে গেছেন, বিংশ শতাব্দীতে মানুষের শোকের আয়ু বড় জোর এক বছর। কিন্তু আমাদের শোকের আয়ু আসলে আরো কম। আমরা সবকিছু মেনে নিতে এবং মানিয়ে নিতে শিখে গেছি।

নিমতলী থেকে চকবাজার। কত কাছে। নিমতলীতে শতাধিক প্রাণহানির পর এ দাবি জোরেশোরে উঠেছিল যে রাসায়নিক গুদামঘরগুলো সরিয়ে নিতে। নানা ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছিল। নিরাপদ ঢাকা। এ যেন রীতিমতো পরিহাস। আরেকটি কালো রাত এটা পরিষ্কার করে দিয়ে গেছে যে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গুটিকয়েক লোকের সীমাহীন লোভের কাছে তুচ্ছ অগণিত মানুষের জীবন। এমনকি সময় আর সভ্যতাও বোধ হয় নতুন এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছে। সবকিছুই যেন এখন স্বাভাবিক। সকালেই ঢাকায় অনেক মানুষের চোখের ভাষার পড়ার চেষ্টা করলাম। গণপরিবহনে, রাস্তায় মানুষের চোখে-মুখে শোকের ছায়া খুব বেশি নয়। অথচ এই শহরে একরাতে এতগুলো মানুষ নাই হয়ে গেল। ‘আব্বা, এনামুল পুইড়া মইর‌্যা গেছে’- এই এনামুল আমাদের যেকারো বাবা, ভাই হতে পারতো। আছিয়া বেগমের ভাইকে আমরা কেউই আর ফিরিয়ে দিতে পারবো না।

শোকের মিছিল যে নেই তা নয়। স্বজনহারাদের কান্নার বাইরেও বহু মানুষ শোকাতুর। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক আলী রীয়াজ লিখেছেন, এত মৃত্যু! সহজেই নিবার্য ছিল এই সব প্রাণহানি। কিন্তু এই  লেলিহান শিখা কি কেবল আগুনের? এই লেলিহান আগুনের আলোয় কি আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না? ২০১০ সালের ৩রা জুন নিমতলির আগুনে ১২৪ জনের মৃত্যুর পরে যে তদন্ত কমিটি হয়েছিল তার কোন সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়েছিল আমরা জানি না, কিন্তু মনে পড়ে একদিন জাতীয় শোক দিবস পালনের কথা। এর বেশি আর কিছুই হয়েছে বলে মনে হয় না। ৬ই জুন ২০১০, ডেইলি স্টারের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছিল, ‘কেবল শোক দিবস পালন নয়, সময় এসেছে আমাদের জাতীয় জবাবদিহি দিবস পালনের; কেননা জবাবদিহির অনুপস্থিতিই জাতিকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে’।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আর রাজী লিখেছেন, একুশ মানে মাথা নত না করা? ঢাকার চকবাজারে এতগুলো মৃত্যুর জন্য কেউ কি দায়ী? কে বা কারা দায়ী? কে কে বা কারা দায়িত্ব পালন না করায় এমন বিপুল প্রাণহানি হলো? সম্পদহানি হলো? কে বা কারা এ দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করে, ক্ষমা চেয়ে, পদত্যাগ করবে? কাকে বা কাদের আমরা এই অপরাধ ও অযোগ্যতার জন্য বিচারের সম্মুখীন হতে এবং শাস্তি পেতে দেখবো? না কি দেখবো নতুন কোনো নাটক মঞ্চস্থ হতে? ক্ষমাহীন ঘৃণা ছাড়া আমাদের অন্তরে তাদের জন্য আর কিছু কি অবশিষ্ট আছে, না কি থাকতে পারে?
শেষ কথা: এ এমন এক সময় যখন প্রার্থনা ছাড়া আমাদের আসলে খুব বেশি কিছু করার নেই। আসুন, নিহত আর তাদের স্বজনদের জন্য আমরা প্রার্থনা করি। শোকের আয়ু শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এই হতভাগাদের কথা যেন আমরা ভুলে না যাই।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

গাইবান্ধায় কাপড় ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

বিশ্বকাপ চমকে দিতে পারেন তিন অধিনায়ক

শায়েস্তাগঞ্জে মদিনা হোটেলকে জরিমানা

২১ ইইউ সদস্য দেশে শেষধাপের নির্বাচন আজ

রামগতিতে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১১

ভারতে জন্ম নিল আরেক মোদি

পদত্যাগ করলেন মহারাষ্ট্র কংগ্রেস প্রধান

দিনাজপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

আগাম টিকিট বিক্রির শেষ দিন আজও স্টেশনে উপচে পড়া ভিড়

‘সিনিয়র শিল্পীদের অভিনয়ের সুযোগ কমে যাচ্ছে’

নেতাদের আবেগে আটকে গেল রাহুল মমতার পদত্যাগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভিপি নুরের ইফতারে ছাত্রলীগের বাধা, রেস্টুরেন্টে তালা

বাংলাদেশ দলের নিউক্লিয়াস

সৌভাগ্যের কার্ডিফে টাইগারদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু

ছোট নৌকায় দ্বিগুণ যাত্রী তুলে ভাসিয়ে দেয় সাগরে

রাজনৈতিক দলে না থাকলেও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে থাকবো