চাঁদপুরে গোপনে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ

শিক্ষাঙ্গন

চাঁদপুর প্রতিনিধি | ১৪ এপ্রিল ২০১৯, রোববার
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ইলিশের রাজধানী চাঁদপুরে গোপনে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। চাঁদপুরের বাজারে প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি নিষিদ্ধ থাকায় গোপনে ইলিশ বিক্রি করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। ইলিশের পোনা জাটকা রক্ষায় সরকার মার্চ-এপ্রিল দুই মাস পদ্মা-মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ) পুঁজি করে এক শ্রেণির বিক্রেতা ইলিশের দাম সাধারণ সময়ের চাইতে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে। চাঁদপুর শহর কিংবা জেলার অন্য কোনো বাজারে প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে না। চাহিদা থাকলেও আইনি ভয়ে ক্রেতারাও নীরব। কারণ প্রতিনিয়ত বাজারগুলো মনিটরিং করছেন জেলা ট্রাস্কফোর্স।
গত শুক্রবার সকালে জেলার সব চাইতে বড় মৎস্য আড়ৎ বড় স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখাগেছে সবগুলো আড়ৎই নীরব। কারণ ইলিশের আমদানি না থাকলে আড়ৎগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি থাকে না।
শুধুমাত্র দুপুর বেলায় শরীয়তপুর জেলা ও চাঁদপুরের বিভিন্ন জলাশয়ের চাষকৃত রুই, কাতল, তেলাপিয়া ও চিংড়ি মাছ আড়তে বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসেন লোকজন। ১ থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই এসব মাছ বিক্রি হয়ে যায়। এরপর থেকে আড়তের কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
মৎস্য ব্যবসায়ী হযরত আলী মানবজমিনকে বলেন, মৎস্য ব্যবসায়ীরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মান্য করে। নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গত কয়েকবছরই চাঁদপুরের ইলিশ ম্যানু থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসনসহ কোনো সংগঠনেই ইলিশের চাহিদা নেই। কেউ গোপনে বিক্রি করে কিনা তা আমার জানা নেই।
মতলব উপজেলা থেকে ইলিশ ক্রয় করতে আসা ক্রেতা মমিন জানান, মৎস্য আড়তে গিয়ে ৫শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ কেজি ১ হাজার ৫শ’ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি।
মৎস্য ব্যবসায়ী ছিদ্দিুকুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, নিষেধাজ্ঞার পূর্বে চাঁদপুরের নদীর ইলিশ সংরক্ষণ আছে। ওইসব ইলিশের মধ্যে ৫শ’ গ্রাম ইলিশ প্রতি কেজি ৬শ’ টাকা, ৮শ’ গ্রাম ১ হাজার ৫০ টাকা, ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৬শ’ টাকা ও ১ কেজি ৭শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার ২শ’ টাকা। তবে কেউ কেউ বার্মা থেকে আমদানিকৃত ইলিশ আরো কম দামে বিক্রি করে।
চাঁদপুর মৎস্য বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি আবদুল খালেক মাল মানবজমিনকে বলেন, চাঁদপুর মৎস্য আড়তে কোনো তাজা ইলিশ বিক্রি হয় না। কেউ যদি অর্ডার দেয়, তাহলে কোল্ড স্টোরেজ থেকে এনে পূর্বে সংরক্ষিত ইলিশ সরবরাহ করা হয়।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকি মানবজমিনকে বলেন, চাঁদপুর মাছঘাটে গত কয়েকদিন আগে অভিযান চালানো হয়েছে। একটি আড়তে কিছু জাটকা পাওয়া গেছে। আর কোনোটিতে ইলিশ পাওয়া যায়নি। কেউ গোপনে বিক্রি করে কিনা, তা আমার জানা নেই। তবে আমরা এখন আবার অভিযান পরিচালনা করবো।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান মানবজমিনকে বলেন, চাঁদপুরে জাটকা সংরক্ষণের জন্য মার্চ-এপ্রিল দুই মাস অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে ইলিশ বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইলিশ বিক্রয়ের কোনো সংবাদ পেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। চাঁদপুরে পহেলা বৈশাখ উদযাপন কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে এই দুই মাস ইলিশ খাওয়ানো বাদ দেয়া হয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিশ্লেষক হিসেবে প্রতিবন্ধী শিশুদের খুঁজছে বৃটিশ গুপ্তচর সংস্থা

পর্নো ব্যবসা এত বিপুল হয়ে উঠলো কীভাবে : পর্ব ১

‘সেগুলোতে কাজ করার আগ্রহ পাই না’

পদ হারালেন ওমর ফারুক

১০ বছর আমার চেহারা ভালো ছিলো এখন খারাপ হয়েছে: ওমর ফারুক চৌধুরী

যুবলীগের প্রস্তুতি কমিটি গঠন

সিঙ্গাপুরে রাজার হালে ক্যাসিনো ডন সাঈদ

মোহাম্মদপুরের সুলতানের পতন

ঢাবি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনে কেন যেতেন জি কে শামীম

সম্রাটের অস্ত্র ভাণ্ডারের খোঁজ মিলেছে

পাক-ভারত সীমান্তে গুলির লড়াই

মেননের বক্তব্যে তোলপাড়

ঢাবিতে ফের ছাত্রদলের ওপর হামলা

খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

মন্ত্রী হলে কি এ কথা বলতেন?

অবৈধ উপায়ে নির্বাচনে জয়ীদের কোনো বৈধতা থাকে না