যুবলীগ নেতা উজ্জলের ফাঁদ, থানায় মামলা

চার বছর আমার দেহকে নিয়ে খেলেছে এখন আমার মেয়েকে চায়

অনলাইন

রিপন আনসারী, মানিকগঞ্জ থেকে | ১৮ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৩:৩৩ | সর্বশেষ আপডেট: ৪:১৩
যুবলীগ নেতা আলী হোসেন উজ্জল
স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর থেকেই মোবাইল ফোনে সব সময় বিরক্ত করতো যুবলীগ নেতা আলী হোসেন উজ্জল। এভাবে আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে একদিন ওর বাড়িতে ডেকে নেয়। তখন বাড়িতে  উজ্জল ছাড়া অন্য কেউ ছিল না।  ওর ঘরে নিয়ে আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে সে ধর্ষন করে। ঘরের ভেতর আগে থেকেই মোবাইল ফোনের ভিডিও সেট করা ছিল তা আমি জানতাম না। এরপর থেকে সেই ভিডিও আমার জীবনের কাল হয়ে দাড়ায়। তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক না করলে আমার স্বামীর কাছে ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়ে দেবে এবং ইন্টারনেটে তা ছড়িয়ে দেবে বলে ভয়ভীতি দেখায়। যার কারনে চারটি বছর ধরে আমাকে যখন যেভাবে খুশি সে ব্যবহার করে যাচ্ছিল। সে শুধু  একাই আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেনি, তার বন্ধুদের দিয়েও প্রতি নিয়ত আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে। আমার  ইজ্জত, মান সম্মান সব কিছু কেড়ে নেয়ার পর ওই পিচাশের কু দৃষ্টি পড়ে আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের দিকে। তাই  মেয়ের ইজ্জত বাঁচাতে বাধ্য হয়ে থানায় মামলা করতে হয়েছে।

এমন লোমহর্ষক ঘটনাটি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের হেলাচিয়া গ্রামে। ওই ইউনিয়নের  প্রভাবশালী ইউপি সদস্য দরবেশ বেপারীর পুত্র ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন উজ্জল।

লোমহর্ষক এই ঘটনার কাহিনী বলতে গিয়ে বার বারই কেঁদে ফেলেন ওই নারী। তার মুখ থেকে বেড়িয়ে আসে তার ওপর নির্যাতনের আরো ভয়াবহ কথা। বলেন, চার বছর ধরে আলী হোসেন উজ্জল আমার জীবনটা তছনছ করে দিয়েছে। আমার দেহ ভোগ করেই সে ক্ষান্ত হয়নি। আমাকে দিয়ে বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা ঋণ উঠিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ভয়ভীতি, প্রতারনা আর আমার সাথে যৌন সম্পর্কের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে টানা  চার বছর ওর ডাকে আমি সাড়া দিয়ে আসছিলাম। যখন খুশি আমাকের ওর বাড়িতে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করতো। এই ঘটনা আমার স্বামীকে  বলে দেবে কিংবা ইন্টারনেটে সব ছেড়ে দেবে এই বলে সব সময় আমাকে ব্লাকমেইল করতো এবং ওর কাছে যেতে বাধ্য করতো।  এভাবে দিনের পর দিন মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও ওর রোষানল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারিনি। সব কিছুই ওকে উজার করে দিয়েছি। এছাড়া ওর ব্যবসার জন্য গ্রামীন ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আশা অফিস, জাগরনিসহ বিভিন্ন এনজিও থেকে ৮লাখ ২৫ হাজার টাকা আমাকে দিয়ে সে তুলে নেয়। প্রথম প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করলেও পরে আর করতো না। গেল এক বছর ধরে সে আর তার বাড়িতে আমাকে ডাকতো না। নিয়ে যেতো মানিকগঞ্জের উত্তর সেওতা এলাকার মনিরা বেগম মনোয়ারার ৪তলা বিশিষ্ট বাসার চিলাকোঠার একটি কক্ষে। এখানে সপ্তাহে ২-৩ দিন আমাকে নিয়ে আসতো। যৌন উত্তেজক ঔষুধ সেবন করে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক চালানোর পর  আবার বাড়ি দিয়ে আসতো। বাড়ির মালিক মনোয়ারা বিনিময়ে ১ হাজার করে টাকা নিতো উজ্জলের কাছ থেকে। শুধু উজ্জলই নয় তার বন্ধুদেরও নিয়ে আসতো সেখানে। একেক দিন একেক বন্ধুদের সাথে আমাকে শারীরিক সম্পর্ক করাতে বাধ্য করতো উজ্জল। এমনকি ওর স-মিলের কর্মচারীদের দিয়েও আমাকে শারীরিক সম্পর্ক করাতো। সেই সম্পর্কের ভিডিও করতো সে।  এভাবে এক বছর ধরে মানিকগঞ্জের ওই বাসায় ওর কথা মতো আসতাম।

তিনি আরো বলেন, উজ্জল শুধু আমার সাথে সম্পর্ক করে ক্ষুধা মিটতো না। ওর কু-নজর পড়ে আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের দিকে । মেয়েকে না এনে দিলে কিস্তির টাকা না দেয়ার হুমকি, ইন্টারনেটে ভিডিও ছেড়ে দেয়া এবং স্বামীর কাছে সব কিছু বলে দেবে এমন ভয় দেখাতে থাকে। আমি ওকে বলতাম আমি নিজে মরে যাবো তার পরও আমার মেয়েকে তুলে দিতো পারবো না। তারপরও সে পিছু ছাড়ছিল না। একদিকে কিস্তির টাকার জন্য পাওনাদাররা বাড়ি এসে যা না তাই বলে যাচ্ছে, অন্য দিকে ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে আর সব কিছু তার স্বামীকে জানিয়ে দেবে এমন নানা জটিলতার জালে আটকে পড়ে যাই।

কোন উপায়ন্ত না পেয়ে বাধ্য হয়ে গত মঙ্গলবার মনোয়ারার বাসায় মেয়েকে নিয়ে যাই। প্রথমে মেয়েকে নিচে রেখে আমি ৪তলা বাসার চিলাকোঠার একটি কক্ষে যাই । যৌন উত্তেজক ঔষুধ সেবন করে প্রথমে উজ্জল আমার সাথে বেশ কিছুক্ষন শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এরপর মেয়েকে চিলকোঠায় নিয়ে আসতে বলে। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেলে উজ্জল তার মোবাইল ফোনটি ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। মেয়ের সম্মান বাঁচাতে বাধ্য হয়ে  মঙ্গলবার রাতে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করি।

বুধবার মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্য সরকারী হাসপাতালের আমার ডাক্তারী পরিক্ষা করা হয়েছে। ওই পশুর উপযুক্ত শাস্তি না হলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ওই নারী।
   
মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার-ইন-চার্জ রকিবুজ্জামান বলেন,এ ব্যাপারে মো. আলী হোসেন উজ্জল এবং তার এই অপকর্মে সহায়তা করার জন্য ওই বাড়ির মালিক মনিরা বেগম মনোয়ারার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া আসামীদের ধরার চেষ্টাও চলছে। পাশাপাশি  উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন পরীক্ষা করা হচ্ছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোঃ ওয়াসিম চৌধুরী

২০১৯-০৪-১৯ ০৮:১৭:২৭

কঠিন শাস্তি চাই।

আব্দুল আজীজ

২০১৯-০৪-১৮ ১২:২৭:৪৫

সব ধর্ষকের ফাঁসি চাই, এই নরপশুদের বিরুদ্ধে সর্বত্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

ওয়াসিম আক্রম নিলয়

২০১৯-০৪-১৮ ১২:১২:৫৩

কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি দিয়ে প্রমাণ দেয়া হোক যে বাংলাদেশ এ বিচার শুরু হয়ে গেছে ....!!

Zaman Rahman

২০১৯-০৪-১৮ ০৮:০১:৩৯

This woman was having mutual sex with so many guys in absence of her husband who was abroad. Now she is making this story after the local people found out about what was going on. Why did she take her daughter there? Why was she taking sex pills? She is a nymphomaniac.All people including this characterless woman should be in prison.

MSR MEHAD

২০১৯-০৪-১৮ ০৭:৫০:১২

এই কুলাঙ্গা ও তার সহযোগি সবাই কে এক মাসের মধ্যে ফাঁসি দেওয়া হোক সঠিক তদন্ত করে

মফিজ

২০১৯-০৪-১৮ ০৬:৫৭:৩৯

ঐ মহিলার বক্তব্য অনুযায়ী, সে তার মেয়েকেও ঐ নরপশুর কাছে নিয়ে গিয়েছিলো কিন্তু লোকজন টের পাওয়ায় মেয়েটি বেঁচে যায়।সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।

Md. Fazlul hoque

২০১৯-০৪-১৮ ০৬:৫৪:৫১

অর্নব ভাইয়ের সাথে আমি একমত । নিজের মেয়েকে ঐ মহিলা ঠিকই নিয়ে গিয়েছিল খারাপ কাজে ব্যবহার করার জন্য কিন্তু এলাকাবাসী টের পাওয়াতে মেয়েটির ইজ্জত রক্ষা পায় আর তা না হলে থানা পুলিশ ও হতো না ।

অনন্য অর্ণব

২০১৯-০৪-১৮ ০৫:২৯:৫১

ঐ মহিলা খুব ধুরন্ধর। সেই প্রকৃত অপরাধী। সে নিজে তো অপরাধ করছে আর অন্যকে অপরাধী হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। ওই মহিলার উচিত ছিল যখন ঐ মোবাইলে ডিস্টার্ব করত তখন ঐ থানায় মামলা করা। কিন্তু সে তা না করে অপরাধী কে অপরাধ করতে সুযোগ দিয়েছে। নিজেও শারীরিক আনন্দ উপভোগ করেছে। অথচ এখন উপায়ন্তর না দেখে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে। এই ঘটনায় দুজনেরই সমান সাজা হওয়া উচিত।

Nasir ahned

২০১৯-০৪-১৮ ০৫:১৪:৩৯

এরা মানুষ না পশু। এদের ফাসি না দিয়েও শাস্তি দেয়া জায়। চিড়িয়া খানায় একটা বড় খাচা তৈরী করুন। ধর্ষকদের সেই খাচায় রাখুন। দর্শনার্থী রা ১০০ টাকার বনিময়ে ১০ঘা বেত মারতে পারবে জাকে খুশি। সরকারের লাভ হবে৷ তাদের ক্রিতদাসের মত সারা দিন কাজ করান হবে। রাত্রে আবার খাচায় ভরা হবে। তাদের অপশন দেয়া হবে। ক্রিতদাশ হতে চাও নাকি ফাসি চাও।

Asim

২০১৯-০৪-১৮ ০৫:০০:০৩

Must be fashi

ওবাইদুল

২০১৯-০৪-১৮ ১৭:৫৯:৫৪

্ভাল করে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বেড় করা উচিৎ ।

রিপন

২০১৯-০৪-১৮ ১৭:৩৭:৫৭

কী অন্যায় করেছিল সাধারণ মানুষ? কেন সাধারণ মানুষের ওপর দিনের পর দিন আওয়ামি লিগের এমন লাগাতার নির্বিচার নির্যাতন নিপীড়ন?

মহিউদ্দিন

২০১৯-০৪-১৮ ০৪:৩৭:০০

এই কুলাঙ্গারের অবশ্যই ফাঁসি চাই ,তার আগে প্রবাসীদের বৌদের কিছু বলতে চাই , আপনাদের স্বামীরা বিদেশে রক্তকে পানি করে পরিবারের বাইরে কি মানবেতর জীবন যাপন করে শুধু পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য মরণপণ লড়াই করে যাচ্ছে,আর সে কষ্ট যদি আপনারা নিজ চোখে দেখতেন , তাহলে উপোস থাকতেন তবু ও স্বামী কে বিদেশে যেতে দিতেন না। অথচ আপনারা ক্ষনিকের আনন্দের জন্য পুরুষের ফাঁদে পড়ে নিজের সর্বস্ব হারাচ্ছেন।তাই বলব অন্যারা সাবধান হোন।

Sumon

২০১৯-০৪-১৮ ০৪:৩০:১৩

শুধু ছেলের দোস না এই সব মেয়েদের জন্যই আজ বিদেশি ছেলেদের করুন অবস্থা

johir

২০১৯-০৪-১৮ ০৩:৪৪:২৫

এ দের মত জানোয়ার কে সবার সামনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারা দরকার...

Kazi

২০১৯-০৪-১৮ ০৩:৪৩:০৩

ধর্ষণের প্রতিশোধ থেকে খুন। আইন প্রণেতাদের হুঁশ হবে কি ?? ধর্ষণের এমন কঠিন শাস্তি নির্ধারণ করে আইন প্রণয়ন করা উচিত যাতে ধর্ষণ বন্ধ হয় এবং প্রতিশোধ নিতে হত্যাও বন্ধ হয়।

M m rahman

২০১৯-০৪-১৮ ০৩:০৫:৫৩

কিছুই বলার নেই। এই কুলাঙ্গার ফাসি চাই

আপনার মতামত দিন

প্রিয়তি ধর্ষণ চেষ্টা, তদন্তে ইন্টারপোল!

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে জাতীয় সংসদের বিশেষ আয়োজন

প্রার্থী হচ্ছেন না খালেদা জিয়া

সাকিব আবার শীর্ষে

দোষী ৬৭ জন ১৮ থেকে ২৩ তলা অবৈধ

নারী হতে বাংলাদেশির অস্ত্রোপচার গুজরাটে

সিমলায় আটকে আছে তদন্ত!

অনির্বাচিত সরকারকে গ্রহণ করার মূল্য দিচ্ছে জনগণ

ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু অনলাইনে চরম ভোগান্তি

চাল আমদানিতে শুল্ক কর বাড়িয়ে দ্বিগুণ

বান্ধবীর বাসায় আশিকের মৃত্যু নানা রহস্য

সিলেটের ৫ গুণীজনকে রত্ন ফাউন্ডেশনের সংবর্ধনা

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে বিশ্বাঙ্গনে একত্রে লড়বে দুই দেশ

অধ্যক্ষ ফের দুই দিনের রিমান্ডে

ঢাকার ৮৪ ভাগ বহুতল ভবনই ত্রুটিপূর্র্ণ

পা হারানো রাসেলকে বাকি টাকা দেয়নি গ্রীনলাইন তীব্র ক্ষোভ হাইকোর্টের