ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কোম্পানি খোলার দাবি কৃষকদের

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে | ২৬ মে ২০১৯, রোববার
মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়াদের কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রংপুরের চর এলাকার মিষ্টি কুমড়া চাষিরা। পাইকারদের সঙ্গে সরাসরি ব্যবসায়িক সংযোগ গড়ে না ওঠার কারণে ফলন মৌসুমে কৃষকরা কুমড়ার প্রকৃত দাম পাচ্ছেন না। এ ছাড়া কুমড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের উৎপাদন মৌসুমে পুরো ফসল বাধ্য হয়েই কম দামেই বিক্রি করে দিতে হয়। কৃষকের সেই মিষ্টি কুমড়া মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়ারা পানির দরে কিনে তিন থেকে চারগুণ বেশি দামে বিক্রি করছে দেশের বিভিন্ন বাজারে। জানা যায়, বর্ষা মৌসুম শেষে তিস্তায় চর জাগে। এরপর ছয় মাস শুষ্ক থাকে নদী। পরে থাকা বালু চরকে চাষ উপযোগী করতে কঠোর ঘাম ঝরায় নদীভাঙনের শিকার ভূমিহীন বাঁধে আশ্রিত মানুষেরা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ধু-ধু বালুচরে ফলায় মিষ্টি কুমড়া।
খাঁ খাঁ রোদে ঘাড়ে করে নিয়ে গাছের গোড়ায় পানি সরবরাহসহ সেচ-সার দিয়ে জৈব বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মিষ্টি কুমড়া চাষ করছে কৃষকরা। বীজ সংকট ও নিম্নমানের বীজের কারণে অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কৃষকরা কুমড়ার আবাদ ছাড়েনি। কুমড়া চাষের ফলে চরে কমেছে তামাকের আবাদ। বিষমুক্ত দেশ গড়তে, বিষমুক্ত এ ফসল চাষের কথা কৃষকরা বললেও হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে তারা প্রকৃত মুনাফা করতে পারেন না। দেশীয় পদ্ধতিতে তারা বাড়িতে মাচা করে বেশিদিন কুমড়া সংরক্ষণ করতে পারেন না। উৎপাদন মৌসুমে একসঙ্গে সব কুমড়া বাজারে উঠায় দাম পড়ে যায় ফসলের। তাই সংরক্ষণাগারের অভাবে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি বাজারজাত ব্যবস্থাপনা গড়ে না ওঠায় ফায়দা লুটছে মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়ারা। লাভের সিংহভাগই চলে যায় তাদের পকেটে। অথচ এই ফসল যদি সরাসরি বাজারজাত করার ব্যবস্থা থাকত, তবে কৃষকের কাছে সোনা হয়ে ধরা দিতো মিষ্টি কুমড়া। এমন অবস্থায় কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়ার কৃষকের দাবি সম্মিলিতভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের আওতায় তাদের উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া সরাসরি বাজারজাত করতে সরকার যেন ভূমিকা রাখে। আন্তর্জাতিক বাজারে মিষ্টি কুমড়ার চাহিদা থাকায় ইতিমধ্যেই বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে কাউনিয়ার তালুক শাহবাজপুরের কৃষকরা কিছু মিষ্টি কুমড়া সরাসরি মালয়েশিয়ায় বিক্রি করেছেন। চীনের একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল ওই চরে মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত পরিদর্শনও করেছেন। গঙ্গচড়ায় উৎপাদিত কিছু কুমড়া কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। সরাসরি সরকারের মনিটরিং থাকলে আর্থিক মুনাফায় বদলে যেত কৃষকের ভাগ্য। কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতে ইতিমধ্যে গঙ্গাচড়ার মহিপুরে কুমড়া ক্ষেত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিজুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বাণিজ্য সচিব বলেন, আমাদের দেশে কৃষি জমির স্বল্পতা রয়েছে। দিনদিন কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে বলেছেন প্রশিক্ষণ ও চেষ্টা থাকলে চরাঞ্চলেও কিছু ফসল হতে পারে। এটি এখানকার কৃষকরা করে দেখিয়েছেন। এক সময় চরে যেখানে কোনো ফসলই ফলতো না সেখানে চরাঞ্চলের হতরিদ্র মানুষেরা মিষ্টি কুমড়া চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। চরাঞ্চলে শস্য উৎপাদন কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। এখানকার কৃষকদের যেন উৎপাদন চলমান থাকে সেটির দিকে সরকার বিশেষ দৃষ্টি রাখবে। এ ছাড়া এখানকার কৃষকদের দাবি একটি কোম্পানি খুলে দেয়া, যেন তারা মিষ্টি কুমড়া বিদেশে রপ্তানি করতে পারে। আমি এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সরকারের উপর মহলে প্রস্তাবনা উত্থাপন করবো।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রাস্তায় সতর্ক হয়ে চলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

শহীদ আবরার হল!, খুনীদের নামে টয়লেটের লোকেশন

ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কালো তালিকাভুক্ত থাকবে পাকিস্তান

বিহারে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে ডেঙ্গুজ্বর

আওয়ামী লীগ কর্মী হত্যায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

চিদাম্বরমকে জেলখানায় ২ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তার

‘বিপদ আপদে বোঝা যায় সম্পর্কগুলো কতটা শক্ত আমাদের’

ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলা: মামলার প্রতিবেদন ২০শে নভেম্বর

টিনেজারের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের আশায়...

ওড়িশায় ৫০ হাজার বাংলাভাষীকে নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার রিপোর্ট

নেত্রকোনায় কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা

সোনাগাজীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৩৭ মামলার আসামি নিহত

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থলে এখন রাশিয়া!

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কেন এই দ্বন্দ্ব?

কাউন্সিলর পদ ব্যবহার করে গডফাদার

১০ দিনের রিমান্ডে ক্যাসিনো সম্রাট