৪ বছর পর কামরান হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার থেকে | ২৬ মে ২০১৯, রোববার
এক লন্ডনি মৌলভীবাজার শেরপুর গোলচত্বরে আক্কাসের ভিডিও দোকানে একটি কক্ষ ভাড়া করে প্রায়ই কামরানকে বলাৎকার করতো। একদিন কামরান রাজি না হওয়ায় লন্ডনি ক্ষেপে গিয়ে তাকে মারপিট করে। পরবর্তীতে প্রতিশোধ নিতে লন্ডনি কামরানকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনায় পলাতক আসামি ইউনুছকে দশ হাজার টাকা দিয়ে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখ রাতে কামরানের গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনায় মৌলভীবাজার মডেল থানায় কামরানের বাবা মুনির উদ্দিন (মামলা নং-০৬) দায়ের করেন। ৪ বছর পর এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল বিকালে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার জেলা পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। তিনি জানান আসামি ইউনুছ, সাদ্দাম, বাদশা, কামাল, মহসিন, আলী, রাহিন সহ গভীর রাতে কামরানের গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
হত্যার পর কামরানের লাশ পিকআপ গাড়ির ভিতর ড্রাইভারের সিটের ওপর ফেলে রাখে। হত্যাকাণ্ডের সময় জনৈক লন্ডনি ঘটনাস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে পাহারা দেয়। লন্ডনির পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। শনাক্তকরণের জোর প্রচেষ্টাসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। জানা যায় ৪ বছর আগে নবীগঞ্জ উপজেলার মো. মুনির উদ্দিনের ছোট ছেলে মো. কামরান হোসেন (১৩) অভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। সে তখন ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল। ৩ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। কামরানের পরিবারের অনেক খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানতে পারেন যে তাদের ছেলে কামরান শেরপুর বাজারে ফলের দোকানসহ আশ পাশের ফলের দোকানের ফল নামানোর কাজ করে। এই খবরে কামরানের বাবা মুনির উদ্দিন শেরপুর আসেন। তখন কামরান তার বাবাকে দেখে পালিয়ে যায়। তখন তার বাবা ফলের দোকানদারদের তার ছেলের প্রতি খেয়াল রাখার অনুরোধ জানিয়ে বাড়ি চলে আসেন। তারপর ১৫ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর কামরানের মৃতদেহ গাংপাড় রোডে মঞ্জিল ওয়ার্কশপের সামনে একটি পিকআপ গাড়ির ভিতর সামনের সিটের ওপর পাওয়া যায়। শেরপুরের পুলিশ ফাঁড়ির লাশ ময়নাতদন্তের পর বাদী মুনির উদ্দিন মৌলভীবাজার সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। দফায় দফায় মামলার তদন্তের কোনো রহস্য উদঘাটন হচ্ছিল না। আদালত পুনরায় তদন্তের জন্য মামালাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ তদন্তের পর বিভিন্ন সময়ে রহস্য উদঘাটনের জন্য গুপ্তচর নিয়োগ করা হয়। একপর্যায়ে সোর্সের পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামি মহসিন তাহার বাড়িতে অবস্থান করছে। তখন তাকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মহসিনকে গ্রেপ্তার করার পর জিজ্ঞসাবাদে সে কামরানকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সাথে শেরপুরের সাদ্দাম, বাদশা, কামাল, ইউনুস, আলী, রাহিনদের নাম প্রকাশ করে। এরপর একে একে সাদ্দাম, বাদশা, কামালদেরকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। গ্রেপ্তারকৃত মহসিন, সাদ্দাম, বাদশা, কামালদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাহারা ৪ জনই কামরান হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত বলে স্বীকার করে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিবিআই পুলিশের ইন্সপেক্টর আতিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, সাব-ইন্সপেক্টর মো. কামরুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রাস্তায় সতর্ক হয়ে চলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

শহীদ আবরার হল!, খুনীদের নামে টয়লেটের লোকেশন

ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কালো তালিকাভুক্ত থাকবে পাকিস্তান

বিহারে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে ডেঙ্গুজ্বর

আওয়ামী লীগ কর্মী হত্যায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

চিদাম্বরমকে জেলখানায় ২ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তার

‘বিপদ আপদে বোঝা যায় সম্পর্কগুলো কতটা শক্ত আমাদের’

ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলা: মামলার প্রতিবেদন ২০শে নভেম্বর

টিনেজারের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের আশায়...

ওড়িশায় ৫০ হাজার বাংলাভাষীকে নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার রিপোর্ট

নেত্রকোনায় কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা

সোনাগাজীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৩৭ মামলার আসামি নিহত

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থলে এখন রাশিয়া!

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কেন এই দ্বন্দ্ব?

কাউন্সিলর পদ ব্যবহার করে গডফাদার

১০ দিনের রিমান্ডে ক্যাসিনো সম্রাট