বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসক নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষের নেপথ্যে

এক্সক্লুসিভ

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ | ২৬ মে ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪০
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে। চিকিৎসকদের একটি অংশের অসন্তোষের কারণে চিকিৎসক নিয়োগ থমকে আছে। পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার দাবি করেছে একটি অংশ। বিষয়টি বর্তমানে আদালত পর্যন্ত ঠেকেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ পড়েছে মহাবিপদে। সূত্র বলছে, চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি এবং তাদের একটি অংশ আন্দোলন করছেন। এদের নেপথ্যে কাজ করছে ছাত্রলীগের একাংশ। তাদের রোষানলের পড়ে বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসক নিয়োগে অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।


সূত্র জানায়, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ২০টি মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পরীক্ষা ছাড়াই তাদের নিয়োগ দিতে আগ থেকেই ভিসির ওপর চাপ দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা এও বলেছেন পরীক্ষা হলেও তাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে হবে। তাদের বাইরে কাউকে নিয়োগ দেয়া হলে ভিসিকে মাশুল দিতে হবে। গত ৯ই মে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করে। তারা গোল চত্বরে ব্যানার ও ফেস্টুনে আগুন লাগিয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের নামে দফায় দফায় ভিসির অফিস, বাসভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘেরাও ও ভাঙচুর চালিয়েছে তারা। ভিসিসহ কয়েক জন প্রো-ভিসিকে অবরুদ্ধ করেও রাখেন। নয় মাসব্যাপী আন্দোলন ও ভাঙচুরের কারণে চিকিৎসক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কারণ এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। রোগীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

চিকিৎসক পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নেয়ার দাবি করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকদের অংশটি ১৮ই মে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে মেডিকেল অফিসার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করে গত মার্চে লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয়। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। সাধারণ পরীক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্তেরও আশ্বাস দেয়। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার আগেই বিতর্কিত ওই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয় বলে তারা অভিযোগ করেন। তারা বলেন, পরীক্ষা নেয়ার কথা ছিল ২২শে মার্চ, কিন্তু তার আগে ১৮ই মার্চ একটি বিশেষ কক্ষে প্রশ্নপত্র খোলা হয়। যেখানে একজন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকও উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসকরা দাবি করেন, কমপক্ষে ৬টি সুস্পষ্ট ও নজিরবিহীন অনিয়ম করা হয়েছে পরীক্ষায়। ভিসিকে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি অভিযোগ করে তারা বলেন, জাতির পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট ও নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এই পরীক্ষা। তাই এই প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ পরীক্ষা অবিলম্বে বাতিল করে তা পুনরায় নেয়ার দাবি করেন। তারা অভিযোগ করেন ৩২ বছরের বেশি বয়সী প্রার্থীদের নিয়োগের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডা. মাইনুল হাসান শিপন, ডা. তুষার, ডা. রাফি সজল, ডা. দাউদ চৌধুরী পলাশ, ডা. মুবিন, ডা. তমাল, ডা. পাবন প্রমুখ।
সূত্র জানায়, ১৮০ মেডিকেল অফিসার ও ২০ ডেন্টাল চিকিৎসক পদে নিয়োগে এ পর্যন্ত দুই দফা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ২৭শে সেপ্টেম্বর। এর আগে ২২শে সেপ্টেম্বর, ২৩শে সেপ্টেম্বর ও ২৪শে সেপ্টম্বর ভিসি অফিস ঘেরাও, অবরোধ ও ভাঙচুর করে ছাত্রলীগ। এক পর্যায়ে সিন্ডিকেটের সভায় পরীক্ষা স্থগিত করে দেয়া হয়। কিন্তু ছাত্রলীগের আন্দোলন অব্যাহত থাকে। তারা ভিসি, প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রারকে অবরোধ ও গালিগালাজ করেন।

গত ২২শে মার্চ পুনরায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ১২ই মে ফলাফল প্রকাশিত হয়। মোট ৬ হাজার ৫০০ জন চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ২০০ চিকিৎসক পদে লিখিত পরীক্ষা ২০০ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষা ১০০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় ১ পদের জন্য ৪ জনকে পাস করানো হয়। এ হিসাবে ৭১৯ জন মেডিকেল অফিসার ও ডেন্টালের ৮১ জন মিলে মোট ৮২০ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। জানা গেছে, নিয়োগের জন্য মন্ত্রী-এমপি, আমলা, বিএমএ, স্বাচিপসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে তদবির আসে ১৮শর বেশি। এদিকে, গত ২০শে মে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি এমন কিছু অকৃতকার্য প্রার্থী নানা ধরণের অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করছেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের আপত্তিকর বক্তব্য ও স্লোগান দিচ্ছে। দেয়াল লিখনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে। তাদের এ ধরনের হীন কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি ঘটছে।

চিকিৎসক নিয়োগের সার্বিক বিষয়ে জানতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই বিষয়ে এখন আদালতে একটি রিট করা হয়েছে। বিচারাধীন বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘নিজের সঙ্গে যুদ্ধে জিতেছি’

রেকর্ড ম্যান সাকিব

এই লিটনকেই দেখতে চায় বাংলাদেশ

মারা গেলেন মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোরসি

বিরোধিতার মুখে ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

লাল-সবুজের ‘ফেরিওয়ালা’ বিলেতি নারী

‘যে’ কারণে রুবেল নয়, লিটন

স্বরূপে মোস্তাফিজ, ফর্ম জারি সাইফুদ্দিনের

ভাগ্নেকে ফিরে পেতে সোহেল তাজের সংবাদ সম্মেলন

বছরে বিশ্বজুড়ে আড়াই কোটি শরণার্থী পাড়ি দেন ২শ’ কোটি কিলোমিটার পথ

দুশ্চিন্তায় সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরা

‘গণপিটুনির ভয়ে পলাতক ছিলেন’

ব্যাংকে টাকা আছে, তবে লুটে খাওয়ার মতো টাকা নেই

‘রোল মডেল’ হতে চায় সিলেট বিএনপি

ভুল করেই পাসপোর্ট সঙ্গে নেননি পাইলট ফজল

দেশে ফিরতে রাজি ভূমধ্যসাগরে আটকা ৬৪ বাংলাদেশি