রাজনৈতিক দলে না থাকলেও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে থাকবো

শেষের পাতা

আব্দুল আলীম | ২৬ মে ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:২৮
গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেছেন, গণফোরামের কোনো দায়িত্বে না থাকলেও নতুন কোন দল গঠন বা অন্য কোন দলে যোগ দিচ্ছেন না। কোন রাজনৈতিক দলে না থাকলেও তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গেই থাকবেন। মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি বলেন, গণফোরামে আমার বর্তমান অবস্থন কেমন সেটা যদি আমি সোজাভাবে বলি তাহলে বলব কচুরিপনার মতো

। তবে এই মুহুর্তে কোনো দল গঠন বা অন্য কোনো দলে যোগদানেরও কথা ভাবছিনা। যদি কখনো কোনো খবর থাকে সেটা অবশ্যই জানাব। মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, আমি ঐক্যফ্রন্টকে পছন্দ করি। যদি আমি কোনো রাজনৈতিক দল নাও করি তবুও আমি ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে থাকব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের অস্থিত্ব বিলিন হয়ে যাচ্ছে না।
ঐক্যফ্রন্ট থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি ঐক্যফ্রন্ট জনগণের মধ্যে এমন একটি আশা সৃষ্টি করেছে। এই ঐক্যফ্রন্ট ছাড়া মানুষকে ডাক দেয়া বা জাগ্রত করা দলীয়ভাবে আর সম্ভব না।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর আল্টিমেটামের বিষয়ে তিনি বলেন, আল্টিমেটাম দেয়ার পর উনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমরা উনাকে বুঝিয়েছি আপনি ধৈর্য্য ধরেন। এখনই ঐক্যফ্রন্ট ভাঙ্গার পথ করবেন না। আমাদের কথা মতো আল্টিমেটামের সময় আরো এক মাস উনি বাড়াবেন। আমরা আশা করছি উনি আমাদের সঙ্গে থাকবেন। এসময় তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচনটা আমাদের জন্য একটি অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়ালো। আমরা এটা নিয়ে আতঙ্কিত। ভারত কিভাবে আমাদের দেশের প্রশাসনকে ব্যবহার করে সেটা নিয়ে আমরা চিন্তিত। কারণ ইতিমধ্যে মনে হচ্ছে আমাদের দেশের প্রশাসন তাদের কাছে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের এখন তাদের কথা মতোই চলতে হচ্ছে।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক থেকে বাদ পড়া এবং দলের অভ্যন্তরীন বিষয়ে তিনি বলেন, কমিটি গঠনের আগে যখন নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের প্রসঙ্গ এসেছে তখন আমি বলেছিলাম সাধারণ সদস্য হিসেবে থাকব। আমাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করে কোনো অফিসিয়াল দায়িত্ব দিলে আমি পদত্যাগ করব। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ড. রেজা কিবরিয়ার নাম উঠলে আমি বলেছি ওকে কোনো সমস্যা নেই। মন্টু বলেন, নির্বাচনের পরে আমাদের ঐক্যফ্রন্টের একটা মিটিং ছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হল এই নির্বাচন আমরা মানিনা। অবিলম্বে নতুন নির্বাচন দিতে হবে। সেখানে আমাদের গণফোমের পক্ষ থেকে ড. কামাল হোসেন, আমি ও সুব্রত চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলাম।

তাহলে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত হল আমরা এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলাম। পরদিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র হিসেবে সংবাদ সম্মেলন করে এটা ঘোষণা দিলেন। এরপর আ স ম আবদুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ সবাই যার যার জায়গা থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য দিলেন। যখন ঐক্যফ্রন্ট ও সবগুলো দলের সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে নির্বাচন ও ফলাফল বর্জনের। সুতরাং এখানে তো কেউ শপথ নিলে তাকে কারণ দর্শানোর কোনো অবকাশ নেই। যে আমার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবে আমি তো সরাসরি তার বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যাব। এই কারণে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তাকে বহিষ্কার করে দিলাম। ড. কামাল হোসেন আমাকে বললেন আপনি আমার সঙ্গে আলাপ না করেই বহিষ্কার করে দিলেন কেন? তখন আমি বললাম এখানে তো আলাপ করার প্রয়োজন পড়ে না। সাংবাদিকরা আমাকে এমনভাবে ধরেছে।

তখন না দিলে আমিও বাঁচিনা। আপনিও বাঁচেন না। আবার দলও বাঁচে না। এরপর মোকাব্বির খানের শপথের সময় উনি বললেন তাকে শোকজ করা হোক। এটা নিয়ে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আমার অনেক বাক বিতন্ডা হল। এরপর জানা গেলো মোকাব্বির শপথ নেয়ার পরও গণফোরামের সম্মেলনে আসবে। এখন মোকাব্বির যে সম্মেলনে আসবে সেই সম্মেলনে তো আমি যাব না। আমি ড. কামাল হোসেনকে বলে দিয়েছি মোকাব্বির হোসেন যদি সম্মেলনে আসে তাহলে আমি নাই। কারণ যেখানে আমরা দেশের মানুষকে একটা স্বপ্ন দেখালাম যে গণতান্ত্রিক একটি পরিবেশ তৈরি করব। আমরা নির্বাচনে জিতি বা হারি মোটামুটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জাতি এগিয়ে যাবে। একথা জনগণের কাছে বার বার বলেছি। জনগণের চিন্তা চেতনা প্রকাশ পায় মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে। তাদের যদি আমরা বুঝতে না পারি তাহলে আমরা কিসের রাজনীতি করি? তিনি বলেন, বিএনপির এমপিরা শপথ নিলে তাদের সঙ্গে কথা বললাম। তারা বললো আপনাদের দুইটা শপথ নেয়ার পর আমাদেরগুলোকে তো ঠেকাতে পারছিলাম না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন রাজনীতিটা অনেক কঠিন হয়ে গেছে। তবে আমাদের নীতি নির্ধারণ হওয়া উচিৎ দেশের রাজনীতির উপর ভিত্তি করে।
তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটা এভাবে দেয়ার কোনো দরকারই ছিল না। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী জনগণের ভোটের মাধ্যমে একটি প্রতিনিধি বা সরকার গঠিত হবে। ওই সরকারের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালিত হবে। কারণ ১৬ কোটি মানুষের পক্ষে সংসদে যাওয়া সম্ভব না। জনগণের অধিকার যদি প্রশাসনের হাতে চলে যায় তাহলে গণতন্ত্র কোথায় যায় সেটা তো আমরা উপলব্ধি করছি। অর্থাৎ প্রশাসন জগণের কর্মচারি হওয়ার কথা কিন্তু আজকে তারাই জনগণের শাসক হয়ে গেছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Chayan

২০১৯-০৫-২৬ ১০:৩৫:২৯

I also support Mr. Montu

দেলোয়ার হোসেন

২০১৯-০৫-২৫ ১৯:৩০:২৬

মনটু সাহেব ঠিকই বলেছেন। তবে তাদের প্রথমে নিবির্চন গ্রহণ করা উচিৎ ছিল। এই সরকার জনগণের জন্য কাজ করছে। জন প্রশাসন কি ভাবে জনগণের অধীনে আসবে ঠিক করতে হবে।

Siddique Ahmed

২০১৯-০৫-২৫ ১৮:১৩:৩৬

I suppport Montu

আপনার মতামত দিন

‘নিজের সঙ্গে যুদ্ধে জিতেছি’

রেকর্ড ম্যান সাকিব

এই লিটনকেই দেখতে চায় বাংলাদেশ

মারা গেলেন মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোরসি

বিরোধিতার মুখে ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

লাল-সবুজের ‘ফেরিওয়ালা’ বিলেতি নারী

‘যে’ কারণে রুবেল নয়, লিটন

স্বরূপে মোস্তাফিজ, ফর্ম জারি সাইফুদ্দিনের

ভাগ্নেকে ফিরে পেতে সোহেল তাজের সংবাদ সম্মেলন

বছরে বিশ্বজুড়ে আড়াই কোটি শরণার্থী পাড়ি দেন ২শ’ কোটি কিলোমিটার পথ

দুশ্চিন্তায় সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরা

‘গণপিটুনির ভয়ে পলাতক ছিলেন’

ব্যাংকে টাকা আছে, তবে লুটে খাওয়ার মতো টাকা নেই

‘রোল মডেল’ হতে চায় সিলেট বিএনপি

ভুল করেই পাসপোর্ট সঙ্গে নেননি পাইলট ফজল

দেশে ফিরতে রাজি ভূমধ্যসাগরে আটকা ৬৪ বাংলাদেশি