কিশোরগঞ্জে নার্স হত্যা

দেশ ছাড়ার চেষ্টায় ২ ধর্ষক

বাংলারজমিন

আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থেকে | ১২ জুন ২০১৯, বুধবার
স্বর্ণলতা পরিবহনের চলন্ত বাসে কটিয়াদীর মেয়ে নার্স শাহিনূর আক্তার তানিয়াকে গণধর্ষণ শেষে হত্যার ঘটনায় এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও ধরা পড়েনি ধর্ষক বোরহান। তাকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলেও এখনো অধরা রয়ে গেছে তানিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের অন্যতম এই আসামি। একইভাবে অধরা রয়ে গেছে বাসের সুপারভাইজার আল আমিন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড বোরহান। কিন্তু তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বোরহান কোথায় আছে, তা কেউ বলতে পারছে না। সূত্রটি জানায়, বোরহানের বাড়ি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বীর উজুলী গ্রামে।
বীর উজুলী গ্রামের মফিজ উদ্দিন ওরফে দুলাল মিয়ার ছেলে বোরহান বাউণ্ডুলে প্রকৃতির। গ্রামের বাড়িতে তার পরিবার-পরিজন বলতেও কেউ নেই। বোরহানের স্ত্রী প্রবাসে থাকায় বাসে বাসেই কাটতো বোরহানের জীবন। ফলে ছন্নছাড়া স্বভাবের বোরহানের সঙ্গে স্বজনদেরও কোন যোগাযোগ হচ্ছে না। অন্যদিকে সুপারভাইজার আল আমিন গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার ভেঙ্গুরদিয়া গ্রামের ওয়াহিদুজ্জামানের ছেলে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ধারণা, বোরহান হয়তো দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছে। তবে পুলিশ এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকায় বোরহান দেশ ছেড়ে পালাতে পারবে না বলেই তারা মনে করছেন। এদিকে বোরহানের মতোই আল আমিনের খোঁজে তৎপর রয়েছে পুলিশ। ধূর্ত আল আমিন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘটনার পর পরই আত্মগোপনে যায়। এরপর থেকে তার আর কোন খোঁজ মিলছে না। তবে পুলিশ বলছে, বোরহান ও আল আমিন যেখানেই থাকুক না কেন, তারা ধরা পড়বেই। তারা পুলিশের চোখ এড়িয়ে বেশিদিন থাকতে পারবে না। এদিকে জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বোরহান ও আল আমিনকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে তারা সর্বসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন। এই দুইজনকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কেউ সহযোগিতা করলে তাকে পুলিশের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে। পুলিশের বিশ্বাস, পুলিশ ও জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ধর্ষক বোরহান ও সুপারভাইজার আল আমিন সহসাই ধরা পড়বে।
নিহত শাহিনুর আক্তার তানিয়া কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। তিনি ঢাকার ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কল্যাণপুর শাখায় সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থল ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার জন্য গত ৬ই মে বিকালে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৪২৭৪) ওঠেছিলেন শাহিনুর আক্তার তানিয়া। বাড়ির নিকটতম এলাকা বাজিতপুর উপজেলার বিলপাড় জামতলীতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হন। গণধর্ষণ শেষে তাকে বাস থেকে ফেলে হত্যা করা হয়। পরে স্বর্ণলতা পরিবহনের কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম রফিক ও সুপারভাইজার আল আমিন নার্স তানিয়ার নিথর দেহ কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে।
তানিয়া হত্যাকাণ্ডের পরদিন ৭ই মে রাতে নিহত শাহিনুর আক্তার তানিয়ার পিতা মো. গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে বাসের চালক নূরুজ্জামান নূরু, হেলপার লালন মিয়া, হাসপাতালে তানিয়ার মরদেহ আনয়নকারী আল আমিন এবং পিরিজপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন এই চারজনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে বাজিতপুর থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলার এজাহারভূক্ত চার আসামির মধ্যে বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু ও হেলপার মো. লালন মিয়া এই দু’জন ছাড়াও সন্দিগ্ধ আসামি কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, লাইনম্যান মো. খোকন মিয়া ও পিরিজপুর কাউন্টার মাস্টার মো. বকুল মিয়া ওরফে ল্যাংড়া বকুলকে ঘটনার রাতেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গত ৮ই মে আদালত গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ আসামির প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮দিন করে রিমান্ড মঞ্জুরের পর ওইদিন তাদের রিমান্ডে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু, বাসের হেলপার লালন মিয়া ও কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার রফিকুল ইসলাম রফিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু ও হেলপার লালন মিয়া জানায়, বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু, বাসের হেলপার লালন মিয়া এবং নূরুর খালাতো ভাই ও বাসটির অপর হেলপার বোরহান এই তিনজনে মিলে পালাক্রমে তানিয়াকে ধর্ষণ করে। তাদের মধ্যে প্রথম ধর্ষণকারী ছিলো বোরহান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সারোয়ার জাহান বলেন, বোরহান ও আল আমিনকে গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান চলছে। কিন্তু তারা পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে অজ্ঞাতস্থানে আত্মগোপনে রয়েছে। তবে বোরহান ও আল আমিন পুলিশের জালে ধরা পড়বেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সাইফউদ্দিনকে ছাড়াই কী খেলতে হবে?

রবিন হুডের শহরে বড় আশায় মাশরাফি

হঠাৎ বদলে গেল আয়াজের জীবন

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষ চীনা শ্রমিক নিহত

আসামি সিরাজকে রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ

৩০ লাখ শহীদকে চিহ্নিত করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

শাজাহান খানের ভাইয়ের কাছে হারলেন নৌকার প্রার্থী

আন্দোলনে উত্তাল বুয়েট

কর্তৃত্ববাদী শাসনের অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ

বাজেট নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর চান রুমিন ফারহানা

মসজিদে ঘোষণা দিয়েও ভোটার আনা যাচ্ছে না

২ স্কুলছাত্রীসহ ৫ কিশোরী ধর্ষিত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন টুকু-সেলিমা

সরকার কৌশল করে খালেদা জিয়াকে জামিন দিচ্ছে না: মির্জা ফখরুল

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের শাস্তি দেয়া হবে: কাদের

আমলা-কোহলির মধুর লড়াই