সাংবাদিকতার অহংকার রোকেয়া হায়দারের জন্মদিন আজ

বিশ্বজমিন

নিহার সিদ্দিকী | ১২ জুন ২০১৯, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:২৮
ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রধান, জনপ্রিয় বেতার-মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক, নারী সাংবাদিকতার অহংকার রোকেয়া হায়দারের জন্মদিন আজ। ‘বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় রোকেয়া হায়দার নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি আজ নারী সাংবাদিকতার অহংকার। অনেক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও তিনি সাহস হারাননি। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে গেছেন। নিজের মেধা, যোগ্যতা ও পেশার প্রতি দায়িত্বশীল ছিলেন বলেই তিনি সফলতা পেয়েছেন । শাড়ি পরে সাংবাদিকতা করা যায়, যার একমাত্র উদাহরণ রোকেয়া হায়দার। তাই আজ তিনি ভয়েস অব আমেরিকার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগের প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।’

রোকেয়া হায়দারের জন্ম :- যশোরের মেয়ে হলেও বাবার কর্মসুত্রে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা কোলকাতায়। বাবা আবুবকর ফারাজী ও মা মেহেরুন্নেসা বাকার ছয় সন্তানের ভেতর তিনি তৃতীয়। বড়বোন সুফিয়া আমিন এক সময় প্রখ্যাত নজরুল সংগীত শিল্পী ছিলেন। কোলকাতার সেন্ট জন্স বিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষাজীবন শুরু রোকেয়া হায়দারের। পরে ইডেন কলেজে পড়েন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেন। তারপর ষাটের দশকে স্বামী হায়দার তাকির কর্মসূত্রে চলে যেতে হয় চট্টগ্রামে। রোকেয়া হায়দারের বেতার জীবনের শুরু কোলকাতায় নানার হাত ধরে শিশুমহলে মাইক্রোফোনের সাথে মিতালী, স্কুল কলেজে পড়াশুনোর ফাঁকে ফাঁকে বেতারে নাটক ও অনুষ্ঠান উপস্থাপনা দিয়ে। ১৯৬০ এর দশকেই চট্টগ্রাম বেতারে নিয়মিত অনুষ্ঠান ঘোষিকা হিসেবে কাজ করেন।

১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম বেতারে আঞ্চলিক সংবাদ পাঠ দিয়ে শুরু হয় তাঁর সংবাদ উপস্থাপনার জীবন। তবে পেশাদার সাংবাদিকতার শুরু ১৯৭৪ সালে ঢাকা বেতার ও টিভির নিয়মিত খবর পড়ার মধ্য দিয়ে। স্পষ্ট উচ্চারণ, বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর ও আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাবের কারণে স্বল্পকালের মধ্যেই রোকেয়া হায়দার খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে যান। বাংলাদেশে যখন টিভি আসেনি তখন সবার কাছে ভয়েস অব আমেরিকা বেতারের অনুষ্ঠান ছিলো দারুণ জনপ্রিয়।

১৯৮১ সালে বিশ্বখ্যাত ভয়েস অব আমেরিকার আমন্ত্রণে চলে যান ওয়াশিংটন ডিসিতে। পুরো খবর পড়াই নয়, পুরোদস্তুর সাংবাদিকতার দায়িত্ব নিতে হয় তাঁকে। রোকেয়া হায়দার ভিওএ বাংলা বিভাগের ম্যানেজিং এডিটরের দায়িত্ব লাভ করেন। ২০১১ সালের জুন মাস থেকে রোকেয়া হায়দার বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে কোন আন্তর্জাতিক মাল্টিমিডিয়া প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগে তিনিই প্রথম মহিলা প্রধান।

সাংবাদিকতায় কর্মব্যস্ততার মাঝেও রোকেয়া হায়দার বিভিন্ন সমাজসেবামুলক কাজের সাথে জড়িত। যার স্বীকৃতিতে ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল ভলান্টিয়ার এওয়ার্ড পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের কাছ থেকে। তাঁর নিজের সাংবাদিকতা জীবনে মাদার তেরেসার সাক্ষাৎকার, বিশ্বকাপ ফুটবল ও অলিম্পিকের খবর সরাসরি মাঠ থেকে সংগ্রহ ও সরবরাহ , দক্ষিণ এশিয়ার শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে অভিযানের খবরাখবর, বাংলাদেশে এসিড নিক্ষেপের মর্মান্তিক ঘটনা সহ বিভিন্ন বিষয়ে অপূর্ব সব অনুষ্ঠানের জন্য ভয়েস অব আমেরিকার প্রোগ্রাম এওয়ার্ড পেয়েছেন।

পেশাগত জীবনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সাথেও তিনি জড়িত। আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব বইমেলা, রবীন্দ্র-নজরুল সম্মেলন, ফোবানা, বাংলা স্কুল সব আয়োজনেই তাঁকে দেখা যায়। সম্প্রতি একটি সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, আমি সংবাদ পাঠিকা, ভাষ্যকার ও সাংবাদিক। খবর পড়েছি, দেশ থেকে দেশান্তর ছুটেছি খবরের সন্ধানে, সব আনন্দ-অনুষ্ঠান দারুণ উপভোগ করেছি, যা হারিয়ে যাবে না কখনো’।

রোকেয়া হায়দার আরো বলেন, ‘সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এখানে কাজের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বলে কোনো বৈষম্য থাকতে পারে না। নিজের মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়েই এ পেশায় সবাইকে টিকে থাকতে হয়। আমাকেও সে লড়াই করতে হয়েছে। কখনো সাহস হারাই নি। সবার মতো অনেক চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়ে আজকের এই অবস্থানে আসতে পেরেছি।’

‘বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের এখনো প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। বৈষম্য মোকাবিলা করতে হচ্ছে। রোকেয়া হায়দার এই প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই সাফল্য পেয়েছেন। কারণ তিনি সাহস হারান নি। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে গেছেন। নিজের মেধা, যোগ্যতা ও পেশার প্রতি দায়িত্বশীল ছিলেন বলেই আজ এই সাফল্য এসেছে। আজ বাংলাদেশের গর্বিত এক নারী রোকেয়া হায়দার। তিনি নারী সাংবাদিকদের অহংকার ও প্রেরণা। জন্মদিনে বাঙালির অহংকার সাংবাদিকতার অহংকার রোকেয়া হায়দারকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। দীর্ঘ জীবন বেঁচে থাকুন তিনি বাংলা বাঙালি আর সাংবাদিকতার অহংকার হয়ে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Mohammed Ali

২০১৯-০৬-১২ ০৫:৪৭:৫৩

আমার প্রিয় রোকেয়া আপাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা । আল্লাহপাক ওনাকে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন,এই দোয়া রইল।

Mohammad Ayub

২০১৯-০৬-১২ ০৪:১৪:২৮

বাংলাদেশের গর্ব রোকেয়া হায়দার এর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

আপনার মতামত দিন

ছাত্রদলের ভোট শুরু

অভিযানে যুবলীগ নেতা খালেদের বাসায় যা পাওয়া গেল

পার্লামেন্ট স্থগিত নিয়ে রায় দেয়ার ক্ষমতা নেই আদালতের: সরকার পক্ষ

কী হবে যুবলীগের ট্রাইব্যুনালে?

দেশের অর্থনীতিতে বেক্সিমকোর অবদান অনস্বীকার্য: টিআইবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা

শেখ হাসিনা নরেন্দ্র মোদি বৈঠকে এনআরসি নিয়ে আলোচনা হবে

অর্থশাস্ত্রকে সামাজিক বিজ্ঞানে পরিণত করতে হলে পুনর্বিন্যাস জরুরি

নারায়ণগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১, লাশ দাফনে বাধা

পিয়াজের দাম আর কত বাড়বে?

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ৫৩৬

৯ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় মাকসুদা বেগমের আকুতি

তারা টকশোর অ্যাংকর নাকি অনভিজ্ঞ বক্তা?

‘টাকা দিয়ে ছাত্র প্রতিনিধি এর নাম কি রাজনীতি’

পার্লামেন্ট স্থগিত নিয়ে রায় দেয়ার ক্ষমতা নেই আদালতের: সরকার পক্ষ