ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করবে বাংলাদেশ

দেশ বিদেশ

মানবজমিন ডেস্ক | ২৪ জুন ২০১৯, সোমবার
নেপালে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা ও বাংলাদেশের কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নেপালের বিদ্যুৎখাতে অংশগ্রহণের বিষয়ে দুই দেশের বিদ্যুৎ সচিবের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হওয়া ওই বৈঠকে ভারতের শিলিগুড়ি করিডর হয়ে নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে একমত হয়েছে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার এ নিয়ে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে নেপালের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির বিদ্যুৎ সচিব দিনেশ কুমার ঘিমি ও বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আহমদ কায়কাউস। চুক্তি অনুযায়ী, চিকেন নেকখ্যাত ভারতের শিলিগুড়ি করিডর হয়ে দেশটির অবকাঠামো ব্যবহার করেই নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করবে বাংলাদেশ। নেপাল সরকার সে দেশে সম্ভাব্য ২০টি জল বিদ্যুৎ প্রকল্প চিহ্নিত করেছে। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, এসব প্রকল্পের মধ্যে কতগুলোতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখবে উভয় দেশ। এর আগে আহমদ কায়কাউস বলেন, নেপালের প্রচুর জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে।
আমরা যদি তার কিছু বাংলাদেশে আনতে পারি তাহলে আমাদের চাহিদা মেটাতে পারবো। শুক্রবার স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে আপাতত ভারতীয় অবকাঠামো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ আমদানির কথা বলা হয়েছে। তবে উভয় দেশই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে নিজস্ব স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের সম্ভাবনা পরীক্ষা করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারত সমপ্রতি তাদের বিধিমালা পরিবর্তন করায় তাদের গ্রিড ব্যবহার করে বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তাই স্থায়ী অবকাঠামো স্থাপনের পূর্বে আপাতত ব্যবস্থা হিসেবে ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করবে নেপাল ও বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, নেপাল থেকে বিদ্যুৎ কেনার পথ প্রশস্ত করতে বাংলাদেশ সরকার বহুদিন ধরেই ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ দিয়ে আসছিল। এর আগে সভায় নেপালে জল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিপুল সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশে বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়। উভয় দেশের মধ্যে ঋতু ভেদে বিদ্যুৎ চাহিদার তারতম্যের আলোকে পারস্পরিক পাওয়ার ট্রেডিং বা বিদ্যুৎ বাণিজ্যের বিষয়েও কথা হয়।
প্রস্তাবিত এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে উপ্পার অরুন, দুধকোশি, সুনকোশি-২, সুনকোশি-৩ ও পশ্চিম সেটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এ থেকে নতুন করে আরো ৪২৭১৩.১৮ গিগাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি নেপালের মোট বার্ষিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ১২ গুণ। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো এসব প্রকল্পের বেশির ভাগই গবেষণা ও প্রস্তাব উত্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা করা বাংলাদেশ সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের রয়েছে বিদ্যুতের ব্যাপক চাহিদা। আর এটি নেপালের জন্য বিদ্যুৎ রপ্তানির একটি বড় বাজার সৃষ্টি করেছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ আগামী এক দশকে নেপাল থেকে প্রায় ৯০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার সুমনের মামলা খারিজ

দেশের সুনাম সংকটে ফেলাই উদ্দেশ্য: অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার শিকার ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাষ্ট্রদূতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ

মিন্নির জামিন আবেদন না মঞ্জুর

ঢাবির ভবনে ভবনে তালা, ক্লাস বর্জন

ব্রেস্ট ক্যান্সারে নতুন ওষুধ

মালয়েশিয়ার সাবেক রাজার বিচ্ছেদ নিয়ে ক্লাইম্যাক্স

হিউম্যানস অব আসাম- পর্ব ১

পুলিশ যেভাবে বলতে বলেছে সেভাবেই বলেছি, বাবাকে মিন্নি

কায়রোতে ৭ দিনের জন্য ফ্লাইট স্থগিত বৃটিশ এয়ারওয়েজের

বাড্ডায় নিহত নারী ছেলেধরা ছিলেন না, ৪০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

নিজ আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে আহত ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা

সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ওয়াশিংটন গেলেন ইমরান খান

২ সদস্যের বাড়ির বিদ্যুৎ বিল ১২৮ কোটি রুপি

চাঁদে যাচ্ছে ভারত!