পাকিস্তানে গণমাধ্যমে কড়াকড়ি আরোপ

এক্সক্লুসিভ

মানবজমিন ডেস্ক | ১২ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৫১
যেসব রাজনীতিকের বিচার চলছে অথবা সাজা হয়েছে তাদের সাক্ষাৎকার বা সংবাদ সম্মেলন সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এ নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তানের মন্ত্রিপরিষদ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজের একটি সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করার কারণে সরকার বন্ধ করে দেয় তিনটি টেলিভিশন চ্যানেল- আবতক টিভি, ২৪ নিউজ এবং ক্যাপিটাল টিভি। এ ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার বিষয়ক গ্রুপ রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ও কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।

পাকিস্তানে সাংবাদিকরা যখন প্রচণ্ড চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন তখন এমন উদ্যোগকে বিরক্তিকর স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার ইঙ্গিত বলে আখ্যায়িত করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস। এ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী শাফকাত মেহমুদ বলেছেন, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি যদি মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দেন তার বিষয়ে আমরা নতুন নীতি গ্রহণ করেছি। তার ভাষায়, আপনি জেলে ছিলেন। দেশের অর্থ লুটের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন।
আর যখন আপনি জেল থেকে বেরিয়ে এলেন এবং সবার সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেবেন- এটা কোনো গণতন্ত্রে ঘটতে পারে না। তবে সরকারের এমন নীতির কড়া সমালোচনা করেছে আরএসএফ। তারা বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞাকে পাকিস্তানে বিরোধী দলকে দমন এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়ায় পাকিস্তানে ‘স্বৈরাচারী প্রবণতারই’ ইঙ্গিত পাওয়া যায়। নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মিডিয়ার অধিকার বিষয়ক গ্রুপ কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। এর এশিয়া প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী স্টিভেন বাটলার এমন উদ্যোগকে সহজ ও নগ্ন সেন্সরশিপ বলে আখ্যায়িত করেছেন। পাকিস্তানি মিডিয়া বিষয়ক গ্রুপ মিডিয়া ম্যাটারস ফর ডেমোক্রেসির পরিচালক সাদাফ খান বলেছেন, এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে পাকিস্তানে সবচেয়ে ন্যক্কারজনক প্রেস সেন্সরশিপ চলছে।

মঙ্গলবার আবতক টিভি, ২৪ নিউজ এবং ক্যাপিটাল টিভি মরিয়ম নওয়াজের সংবাদ সম্মেলন সম্প্রচার করার পর তিনটি চ্যানেলরই সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ প্রথমে একে একটি কারিগরি ত্রুটি বলে বর্ণনা করেছিল। কিন্তু রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস বলছে, এটি নির্লজ্জ সেন্সরশিপ ছাড়া আর কিছু নয়। পাকিস্তানের ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষের কথা অনুযায়ী কাজ করছে বলেও অভিযোগ করছে আরএসএফ। মাত্র গত সপ্তাহেই পাকিস্তানের জিও নিউজ টিভিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির একটি সাক্ষাৎকার দেখানোর সময় মাঝপথে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। পাকিস্তানে বহু বছর ধরেই এমন অভিযোগ আছে যে, সেখানে সামরিক বাহিনী গণমাধ্যমে স্পর্শকাতর এবং সমালোচনামূলক খবর বন্ধে চাপ দিয়ে থাকে। সামরিক বাহিনী অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ধরন পাল্টানোয় চিন্তিত চিকিৎসকরা

ডেঙ্গু রোগীর চাপে হিমশিম কর্তৃপক্ষ

প্রতিদিনই বাড়ছে রোগী

এরশাদের চেয়ারে জিএম কাদের

ধর্ষণ মামলার বিচারে হাইকোর্টের ৬ নির্দেশনা

রিফাত হত্যার পরিকল্পনায় মিন্নি জড়িত

হটলাইন কমান্ডো নিয়ে আসছেন সোহেল তাজ

শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে- সালমান এফ রহমান

বেসিক ব্যাংককে ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়

১১ খাতে ওয়াসার দুর্নীতি পেয়েছে দুদক

‘আমলারাই এ সরকার টিকিয়ে রেখেছে’

ঢাবি থেকে ৭ কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আবারো শাহবাগ মোড় অবরোধ

ব্যাংক চান ডিসিরা

ব্যাগে শিশুর মাথা বহনকারী যুবককে পিটিয়ে হত্যা

পাকুন্দিয়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

সরল বিশ্বাসে ভুল অপরাধ নয়- দুদক চেয়ারম্যান