মানবজমিনকে মাহবুব-উল আলম হানিফ

কাউন্সিলে পরিবর্তন পরিবর্ধন অনেক কিছুই হতে পারে

শেষের পাতা

কাজী সোহাগ | ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৪৮
আর মাত্র দুই মাস পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে এ সম্মেলনে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভেতরে এখন জোরেশোরে আলোচনা চলছে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে। কে বা কারা যোগ হচ্ছেন, কারা ছিটকে পড়ছেন নেতৃত্ব থেকে সে আলোচনা এখন তুঙ্গে। এরই মধ্যে দলটির নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছেন পদ পেতে ইচ্ছুক নেতারা। মূলত নীরব প্রতিযোগিতায় নেমেছেন পদ প্রত্যাশীরা। সব মিলিয়ে কেমন হবে আওয়ামী 
লীগের জাতীয় সম্মেলন? মানবজমিন এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বিস্তারিত জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। কথা বলেছেন সম সাময়িক বিষয়েও। ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর দলটির সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসাবে আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ২৩শে অক্টোবর। একারণে অক্টোবরেই ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় দলটির কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে। উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

কাউন্সিল প্রসঙ্গে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, সম্মেলন মানেই যে পরিবর্তন এটা ভাববার কোন কারণ নেই। সম্মেলন হচ্ছে সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য। এতে পরিবর্তন, পরিবর্ধন অনেক কিছুই হতে পারে। সেটা কোন লেভেলে হবে দল নির্ধারন করবে, কাউন্সিলররা সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। গণতান্ত্রিক চর্চাটা আমরা সব সময় ধরে রাখতে চাই। কাউন্সিলের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তৃণমুল থেকে সকল স্তরে কাউন্সিল শেষ করার জন্য। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল। এই দল সবসময় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করে। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হয়। জাতীয় কাউন্সিলের আগে সকল স্তরের কাউন্সিল ধাপে ধাপে করা হয়। অনেক সময় জটিলতার কারণে কিংবা নানা কারণে পরিপুর্নভাবে সেটা সম্ভব হয় না। আমাদের হাতে যে সময় রয়েছে তার মধ্যে হয়তো সকল স্তরের তৃণমুল পর্যায়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। তবে আমরা কাজ শুরু করেছি। ওয়ার্ড লেভেল, ইউনিয়ন লেভেলের কাউন্সিল জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হয়েছে। আশা করি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই উপজেলা লেভেলের কাউন্সিল শেষ করতে সক্ষম হবো।

পাশাপাশি কিছু কিছু জেলার কাউন্সিলও করা সম্ভব হবে। নির্ধারিত সময়ে জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার পর বাকি জেলাগুলোর কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হবে। সংগঠনের কর্মকান্ড একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়। সব সময় সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে সংগঠনকে গতিশীল ও শক্তিশালী রাখা হয়। তিনি বলেন,জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে ৮টি বিভাগীয় পর্যায়ের টিম গঠন করা হয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য- বিভাগগুলোতে বিভাগীয় প্রতিনিধি সমাবেশ করা। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কেন্দ্র থেকে কিছু নির্দেশনা ছিলো। তারা তাদের কাজটি সঠিকভাবে করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিনিধি সভার মাধ্যমে দিক নির্দেশনা অনুযায়ি তৃনমুল পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে আমরা জাতীয় কাউন্সিলের জন্য প্রস্তুত।
নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া দলীয় কোন্দল প্রসঙ্গে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় সংগঠন। এখানে কোটি নেতা-কর্মী আছে। তাই নেতৃত্বেও প্রতিযোগিতা আছে। সাংগঠনিক প্রতিটি স্তরেই নেতৃত্ব দেয়ার মতো যোগ্য নেতা আছে। তাই নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকবেই। উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছুটা হলেও আমাদের সংগঠনে দূর্বলতা তৈরি হয়েছে। বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল ওই নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কারনে অনেক জায়গায় দেখা গেছে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী অংশগ্রহণ করে। সেইসব জায়গায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু বিভক্তি রয়েছে। আগামীতে উপজেলা পর্যায়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে এসব বিভক্তি দূর করা হবে।

বিভিন্ন এলাকায় মন্ত্রী-এমপিদের বলয় তৈরি প্রসঙ্গে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, রাজনীতির ক্ষেত্রে একেকজনের কৌশল একেক রকম হবে, এটাই স্বাভাবিক। কারও কৌশল ভূল হতে পারে, কারও কৌশল সঠিক হতে পারে। আমরা মনে করি কোন নেতা যখন তার এলাকায় বলয় তৈরি করলে তার কোন লাভ হয় না। ক্ষতির কারণ হতে পারে। দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে তাদের বিষয়ে সবসময় দল ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। অনেক সময় সেই ব্যবস্থা হয়তো দেখা যায় না বা দৃশ্যমান হয় না। যেমন একজন সংসদ সদস্যর বিরুদ্ধে যদি এ ধরণের অভিযোগ থাকে তাহলে হয়তো আগামীতে তাকে মনোনয়ন থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে। এটা কিন্তু বড় শাস্তি। আবার দেখা গেলো একজন দলে বড় কোন পদে আছেন। কিন্তু কাউন্সিলের মাধ্যমে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হলো। এটা কিন্তু তার জন্য শাস্তি। তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু শাস্তি তাকে দেয়া হচ্ছে।

২১শে জুলাই থেকে দলে নতুন সদস্য সংগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি কাউন্সিলের আগে আমাদের লক্ষ্য থাকে সদস্য নবায়ন করা এবং সদস্য সংগ্রহ করা। আওয়ামী লীগ এই দেশের সবচেয়ে বৃহৎ,সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল। এই দলটির নেতৃত্বেই আমাদের সবকিছু অর্জন। স্বাধীনতা থেকে শুরু করে দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি সব অর্জনের নেতৃত্বে রয়েছে আওয়ামী লীগ। টানা ১০ বছর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। সবার আস্থা রয়েছে শেখ হাসিনার প্রতি। এ কারণে অনেক দল থেকে বা অনেক সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছে বা দলে যোগ দিচ্ছে। এবার যেহেতেু অনেকেই আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে সেকারণে সদস্য সংগ্রহ কাজটি জোরেশোরে শুরু করতে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে আমাদের কিছু দিক-নির্দেশনা দেয়া আছে। যাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী, মাদক বা যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধী কাজে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে তাদের সদস্য হিসেবে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। যাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নেই তাদেরকেই দলের সদস্য হিসেবে নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

সংসদে বিএনপি এমপিদের ভূমিকা প্রসঙ্গে মাহবুব উল হানিফ বলেন, আমরা চাই সংসদে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি যথাযথ ভূমিকা পালন করুক। সরকারের গৃহিত কার্যক্রমের ভূলত্রুটি তারা তুলে ধরবেন। সমালোচনা করবেন। গঠনমূলক আলোচনা করবেন। এটাই হলো প্রত্যাশা। এটাই আসলে হওয়া উচিত। নবম জাতীয় সংসদে বিএনপি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিএনপির লক্ষ্যই ছিলো সংসদকে অকার্যকর করা, অচল করা। সংসদে এসে তারা নানান ধরনের অপ্রাসঙ্গিক, অযৌক্তিক কথা বলার পাশাপাশি খিস্তি-খেউড় করে সংসদের মান-মর্যাদাকে ভুলুন্ঠিত করেছে। এরপর দশম জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হয় জাতীয় পার্টি। তারা কিন্তু সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে। সরকারের ভূল-ত্রুটি তুলে ধরে গঠনমূলক সমালোচনা করেছে। সংসদ প্রাণবন্ত ছিলো। এবার বিএনপির কয়েকজন সদস্য সংসদে যোগ দিয়েছেন। আমরা আশা করি তারা সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই বিএনপির কোন একজন সদস্য অপ্রাসঙ্গিকভাবে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে নতুনভাবে বিভ্রান্তিকর কথা বলে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন।

যেটা নিয়ে সংসদে কিছুটা উত্তপ্ত অবস্থা তৈরি হয়েছিলো। আমরা মনে করি, এভাবে সংসদকে অকার্যকর করার চেষ্টা না করে গঠনমূলক সমালোচনা করলে দেশের জন্য, জনগণের জন্য,সংসদের জন্য কল্যাণমুলক হবে। এসময় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি আসলে রাজনৈতিক দল হিসেবে কখনই আত্মপ্রকাশ করতে পারেনি। এটাকে একটা প্ল্যাটফরম বলা যায়। রাজনৈতিক দল বলা যায় না। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভেঙ্গে টেনে নিয়ে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম তৈরি করেন। সবাই যেটাকে স্বাধীনতা বিরোধী প্য্লাটফরম হিসেবে আখ্যায়িত করে। এই প্ল্যাটফরম থেকে তারা এতদিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করে আসছেন। যার ফলে বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে এখনও সেভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি।

দল ও সরকারের সম্পর্ক নিয়ে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকার ক্ষমতায় থাকলে দল ও সরকার এক হয়ে যায় বিষয়টি ওইভাবে ব্যাখার কোন সুযোগ নেই। দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন দলের নেতা-কর্মীরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা একটি অংশীদার হিসেবে ভাবে। এই ভাবনাটা খুবই যৌক্তিক। সেই হিসেবে মনে করি না যে দল ও সরকার একাকার হয়ে যায়। দলের সঙ্গে সরকারের একটি নিবিড় সম্পর্ক থাকে। সরকার পরিচালনা করতে গেলে তো জনগণকেই পরিচালনা করতে হবে। আর জনগনের প্রতিনিধি হচ্ছে দল।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও বড় জয় কিশোরদের

রাখাইনে নির্যাতন অব্যাহত, কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান

এ কেমন শত্রুতা!

মওদুদের রিভিউ খারিজ, মামলা চলবে

ঢাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্যের কারাদণ্ড

মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

‘মিয়ানমারের অভিযোগ হাস্যকর’

রিয়ালের ড্রয়ে হতাশ জিদান

মির্জাপুরে গুলি করে ২৬ লাখ টাকা ছিনতাই

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুতে শিশুর মৃত্যু

সাবেক আইজি প্রিজনস সৈয়দ ইফতেখারকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

মোদির সামনে কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করবেন গুতেরাঁ

ওএসডি হলেন জামালপুরের সেই ডিসি

জেলখানায় সবজি চাষ করেন সেই ধর্মগুরু

ঢামেকে আরও এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু

চুল কাটায় নজরদারি