সংস্কারের অভাব

মরণফাঁদ পলাশ বাজার ব্রিজ

বাংলারজমিন

পলাশ (নরসিংদী) সংবাদদাতা | ১০ আগস্ট ২০১৯, শনিবার
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মিত পলাশ বাজার নামক ব্রিজটিতে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফাটল। বহু বছরের পুরাতন এই ব্রিজটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। ঘোড়াশাল পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কো-অপারেটিভ মোড়ে শীতলক্ষ্যা নদীর পাশে অবস্থিত ব্রিজটি পলাশ বাজার এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র পথ। যেখানে বসবাস করছে হাজারো জনবসতি। এ ছাড়া উপজেলার সবচেয়ে বড় কাপড় ও কেনাকাটার বাজার এটি। বাজারের পাশে রয়েছে পলাশ পাইলট বিদ্যালয় নামে একটি বিদ্যালয়। প্রতিদিন স্কুলের শিক্ষার্থীসহ এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করছে হাজারো মানুষ। সরজমিন গিয়ে জানা যায়, একসময় পলাশ বাজারে যাতায়াতে সড়ক ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ১৯৬৭ সালে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ ও ২নং ইউনিট চালু করলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উত্তপ্ত পানি নদীতে ছাড়ার জন্য কো-অপারেটিভ মোড়ের পাশ দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে শীতলক্ষ্যা নদী পর্যন্ত একটি খাল খনন করা হয়। পাশাপাশি বাজারে যাতায়াতের জন্য খালের ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ অবধি ব্রিজটি সংস্কার, মেরামত বা পুনঃনির্মাণ না করায় বর্তমানে ব্রিজটির চার পাশে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফাটল। এ ছাড়া ব্রিজটির রেলিংয়ের অনেক স্থান ধসে পড়েছে। বাজারে যাতায়াতের বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় অনেকটা নিরূপায় হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। পলাশ বাজার এলাকায় বসবাসরত সার ব্যবসায়ী ও পলাশ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা আক্তার জানান, আমার জন্মের পর থেকে ব্রিজটি এ অবস্থায় দেখে আসছি। বহু বছরের পুরাতন হওয়ায় ব্রিজটির ধারণ ক্ষমতা অনেকটা কমে গেছে। যার ফলে অনেক স্থানে ফাটল আর ধস দেখা দিয়েছে। ওই ব্রিজের পাশে মাংস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম মিয়া জানান, বাজারের ব্যবসায়ীরা মালামাল পরিবহনে ভারি যানবাহন চলাচলের একমাত্র পথ হিসেবে এই ব্রিজটি ব্যবহার করছে। যানবাহন পারাপারের সময় ব্রিজটি থরথর করে কেঁপে উঠে, মনে হয় যেন এখনই ব্রিজটি ধসে যাচ্ছে। বাজারের পাশে অবস্থিত পলাশ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, এই ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ের ১৪শ’ ছাত্রছাত্রী যাতায়াত করছে। দ্রুত ব্রিজটি মেরামত না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঘোড়াশাল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন সাদাৎ জানান, ব্রিজটি পৌরসভার আওতাধীনে পড়লেও সংস্কার কিংবা পুনঃনির্মাণে পৌরসভার কোনো এখতিয়ার নেই। এটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন। এ ব্যাপারে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ক্ষিরদ মোহন বসু জানান, ব্রিজের ব্যাপারে কেউ তেমনভাবে জানায় নি। জানালে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো সংস্কারের জন্য। তবে ব্রিজটির উপর এবং তার আশপাশ অবৈধ দখলদারদের কবলে থাকার কারণে এ ব্রিজটি দ্রুত নষ্ট হয়েছে। এদিকে দিনদিন মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে ব্রিজটি। দ্রুত ব্রিজটি পুনঃনির্মাণ বা সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বাংলাদেশকে চিনতে হলে, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে: আইজিপি

মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন যারা

শাস্তি কমছে শ্রীশান্তের

পদত্যাগের ঘোষণা ইতালির প্রধানমন্ত্রীর, সালভিনিকে দোষারোপ

ধর্ষণের পর হত্যা

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৫৭২ জন হাসপাতালে ভর্তি

মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন ৭৪জন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুকুর ভরাট করে বানানো আলোচিত সেই মার্কেট উচ্ছেদ

ছাত্রলীগ নেতার আগাম জামিন

সব দিকে শুধু লুট চলছে : ফখরুল

বর্ষসেরা গোলের তালিকায় মেসি থাকলেও নেই রোনালদো

বন্দরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

মিন্নিকে কেন জামিন নয়: হাইকোর্ট

বান্দরবানে অস্ত্রের মুখে ৩ চালক অপহরণ

লক্ষ্মীপুরে ইউপি কার্যালয়ে বিক্ষোভ : ৭৭ বস্তা চাল জব্দ

ভিপি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাবিতে মানববন্ধন