কাতারে নিজেদের বিপদ ডেকে আনছেন বাংলাদেশিরা

প্রথম পাতা

মতিউর রহমান চৌধুরী, কাতার | ১৮ আগস্ট ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৬
কাতারে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনছেন। অথচ কাতারে বাংলাদেশিদের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। চার লাখেরও বেশি বাংলাদেশি এখন কাতারে কর্মরত। এর মধ্যে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পরিকল্পনাবিদ, শিক্ষক, ইমামরা এখানে মাথা উঁচু করেই প্রতিযোগিতায় টিকে আছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান কাতারের জন্ম ইতিহাস পাল্টে দিয়েছেন। রচনা করেছেন নয়া এক ইতিহাস। গবেষণা করে প্রমাণ করেছেন কাতার কখনও পরাধীন ছিল না। তাই ১৯৭১ সনে দেশটি স্বাধীন হয়েছিল বলে যে ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়েছিল এটা সঠিক ইতিহাস নয়। কাতার সরকারের সিনিয়র গবেষক ড. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন একদল গবেষক দীর্ঘকাল গবেষণা করে বের করেছেন, ১৮৭৮ সনের ১৮ই ডিসেম্বর হচ্ছে কাতারের জাতীয় দিবস। ২০০৭ সনের ২১শে জুনের এক ঘোষণায় ১৮ই ডিসেম্বর জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। এর আগে ৩রা সেপ্টেম্বর স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হতো। একজন বাংলাদেশি হিসেবে এটা নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। কাতার সরকার ড. হাবিবুর রহমানের কাজের স্বীকৃতি দিয়েছে নানাভাবে।

এই যখন বাংলাদেশিদের অবস্থান তখন সেখানে বাংলাদেশিরাই নতুন সংকট তৈরি করছেন। বাংলাদেশ থেকে মাদক এনে বিমানবন্দরে ধরা পড়ছেন। এই মুহূর্তে ১৫২ জন বাংলাদেশি মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া কাতারের তিনটি কারাগারে নানা অপরাধে জেলে রয়েছেন ২৩২ জন বাংলাদেশি। অতি সম্প্রতি কয়েক কেজি গাঁজাসহ দুই বাংলাদেশি ধরা পড়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। চেক জালিয়াতি, ভিসা জালিয়াতি, অপহরণ, সদর রাস্তায় ডাকাতির সঙ্গে বাংলাদেশিরা জড়িত রয়েছেন- এটা অনেকটা গা-সওয়া হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মাদক ব্যবসার সঙ্গে বাংলাদেশিরা জড়িয়ে পড়ায় এখানকার দূতাবাসও অনেকটা বিব্রত।
রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ এই প্রতিনিধিকে বলেন, জনশক্তি রপ্তানিতে কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রেমিটেন্সের দিক থেকেও আমরা উপরে। লোকসংখ্যাও আসছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে, মাদক বিষয়ক অপরাধে জড়িয়ে যাওয়ায় ভাবমূর্তির একটা সংকট তৈরি হচ্ছে। ঢাকা থেকে যখন তারা আসছে তাদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে গাঁজা, ইয়াবা, আফিমসহ নানা ধরনের মাদক। রাষ্ট্রদূত বলেন, এখানে আট লাখ ভারতীয়, ছয় লাখ নেপালি ও বাংলাদেশের চার লাখ মানুষ রয়েছেন।

পরিসংখ্যানের দিক থেকে আমরা তৃতীয়। জেলে দেখা যায় বাংলাদেশিরা ফার্স্ট। আমরা যে কথাটা শুনি, বাংলাদেশিরা বলে থাকেন, ‘তাদেরকে ফাঁসানো হয়েছে। ঢাকার এয়ারপোর্টে ধরা পড়ে না, এখানে এসে ধরা পড়ে।’ তার মতে ঢাকা বিমানবন্দরে নজরদারি জরুরি। তা না হলে এই সংকট বাংলাদেশকে এক কঠিন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবে।
বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, এমনিতে শ্রমবাজার সংকটের মধ্যে রয়েছে। আমরা যদি আমাদের ভালোটা না বুঝি তাহলে বিপদ আসতে পারে যে কোনো সময়। কমিউনিটির পক্ষ থেকে আমরা সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করছি অপরাধের মাত্রা কমাতে। তিনি বলেন, মাদক কীভাবে এদেশে আসছে তা দেখতে হবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিউনিটির তরফ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাউন্সেলিং অন্যতম।

বাংলাদেশ থেকে আসা মহিলারাও নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন। এর মধ্যে পাঁচজন মহিলার সাজা হয়েছে বিভিন্ন অপরাধে। শিল্পী আক্তার নামের এক মহিলার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে। অপহরণ, চুরি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে অন্যদের।  
ওদিকে প্রতিযোগিতা দিয়ে যেন অপরাধ বাড়ছে। অপরাধের তালিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মাদারীপুর জেলার লোকজন শীর্ষে। এই দুই জেলা থেকে আগতদের সম্পর্কে এখানকার পুলিশও বেশ সতর্ক। ইতিমধ্যেই ‘ব্রাহ্মণ’  আর  ‘মাদার’ এই দু’টি নাম তাদের কাছে বেশ পরিচিত।

বিশেষ দ্রষ্টব্য, জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ হয়নি, তবে সংখ্যা কমেছে। দক্ষ জনশক্তির চাহিদা রয়েছে দেশটিতে। বাংলাদেশ ইচ্ছা করলে এই সুযোগ নিতে পারে। মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা কাতারে অনেকখানি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আহমেদ মোরশেদ

২০১৯-০৮-১৯ ১৪:২৯:০০

আমরা যখন ঢাকা এয়ার পোর্ট অতিক্রম করি , এক বোতল পানি নিতে পারিনা । সেখানে মাদক কি করে নেয়। নিশ্চয়ই এর সাথে এয়ার পোর্টের ষ্টাফ জরিত ।

সোহাগ

২০১৯-০৮-১৮ ১৫:৫৬:১৪

আমাদের এমবাসিকে আরো কঠিন হতে হবে।এখানে যারা পকেট বিশার দালাল আচে তাদের কে কড়া নজর দারি দিয়ে চিনিত করতে হবে। তাদের কিছুর লাভের চিনতা করে বাংলাদেশের শত শত লোককে বিভিন্ন পলভন দিয়ে কাতারে ফি বিশা নামে এনে চেরে দেয়। তারা পায় না কাজ। আবার কাজ ফেলে বেতন পায় না। মাস শেষে রুম ভাড়া খানা খরচা। না দিতে পেরে বিভিন্ন অপরাধ মুলুক কাজে লিফত হয়ে জায়।আবার মানুষ জায় কননেশে একটু রিলেকশ৷ হওয়ার জন্য ওখানে গেলে দেখা যায় আমাদের বাংলাদেশিরা কি করে। তামাক পানি ঝাল মুরি চটপটি ইত্যাদি বেছাকিনা করে। কনেশে বিশের সব দেশের মানুষ আসে তারা দেখে হাঁসে আমাদের কাজ কম দেখে। আমি পরিশেষে আমাদের এমবাসির কাছে আকুল আবেদন পকেট বিশা বন্ধ করুন আমরা নিরহ মানুষকে ভালো ভাবে থাকার জন্য সহযোগিতা করু।

محي الدين احمد

২০১৯-০৮-১৮ ২২:৫২:২৩

বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট থেকে লোকজন কিভাবে মাদক নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেয়। তার জন্য একমাত্র দোষী এবং অপরাধ জগতের গডফাদার হচ্ছে বাংলাদেশ যেসব কর্মকর্তা এয়ারপোর্টে কাজ করছে তারাই একমাত্র গডফাদার মনে হয়। তা না হলে এত চেকিং এর পরেও কিভাবে এয়ারপোর্ট খরচ হয় বাইরের দেশে আসতে পারে আর এখানে এসে তারা এয়ারপোর্টের এমিগ্রেশনে ধরা পড়ে। এই বিষয় কেউ যদি কথা বলে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট এর কর্মকর্তা গডফাদার কে সরাতে হবে বাংলাদেশের সবকয়টাই এয়ারপোর্টের কর্মচারী কর্মকর্তা এর সাথে জড়িত তা না হলে সাধারণ একজন মানুষ ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক নিয়ে বিদেশ পাড়ি দিতে পারে না।

Hafiz Ullah anis Aha

২০১৯-০৮-১৮ ০৫:৪৮:১৭

B.baria r madari porer sob luk gola somossa na . Tobe bangla deshider diye dota basher maddume akta komiti kora usith bule ami mone kori . Jara sob somoy kobora khobor niben r eder muddhe jara samanno tomo oporader sathe judito sathe sathe tader dore dite basher maddume deshe pathano. Na hoy onnuthay sob Bangladeshi ra somossay porbe bole ami mone kori.

শরিফ আহমেদ

২০১৯-০৮-১৮ ০৪:২৪:২০

কাতারে ৪ বছর ধরে আছি কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা কমিউনিটি কাউকে দেখিনি কোনো ব্যবস্ত, কাতারে ফ্রি ভিসাই প্রতিদিন লোক আসছে এসে কাজ না পেয়ে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে

এম, শহীদ উল্যাহ্

২০১৯-০৮-১৭ ১৮:২৮:৫৩

"লোভে পাপ পাপে মৃত্যু" সংশ্লিষ্ট সকলকে এ সুপ্রাচীন প্রবাদটা স্মরণ রাখতে বলব। সে সাথে, এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষকে শতভাগ সততা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে কাজ করতে পরামর্শ দিচ্ছি।

Kazi

২০১৯-০৮-১৭ ১১:৫৩:৩৪

সরকারের উদাসীনতা অপরাধ বৃদ্ধির কারণ। দলীয় সমর্থকদের সরকার ক্ষমার চোখে দেখে বা প্রভাব খাটিয়ে মুক্ত করে দেয়। এতে মেকি সমর্থকরা সূযোগ নিয়ে দেশে বিদেশে দেশ ও সরকারের সর্বনাশ করছে।

অরুন

২০১৯-০৮-১৭ ১১:৩৩:৩৮

৩ বৎসর যাবত আছি কাতারে। কমিউনিটি বা দূতাবাস, কাউকে কখনো কোন পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। এরা অফিসে বসে বড় বড় কথা বলে। মনে হয় গরমের ভয়ে রাস্তায় নামেনা। দোহার মূল সড়কের পাশে সহ বিভিন্ন যায়গায় বংলাদেশীরা জুয়া খেলা সহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজ করে যাচ্ছে।

আপনার মতামত দিন

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে মিশন শুরু বাংলাদেশের

‘তথ্য-প্রমাণ পেলে সম্রাটের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা’

বরিশালে ডেঙ্গুতে গৃবধূর মৃত্যু

উদ্ভট নেশা যুবতীর

কুষ্টিয়ায় চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

সঙ্গীত শিল্পী পারভেজ রবকে চাপা দেয়া বাসচালক-সহকারি গ্রেপ্তার

মা হলেন নুসরাত হত্যার আসামি কারাবন্দি মনি

এপস্টেইন যেভাবে ধর্ষণ করে আমাকে

সড়ক দুর্ঘটনায় কটিয়াদী যুবদল সভাপতি নিহত

সরকার দুর্নীতির দায় এড়াতে বিএনপিকে দোষ দিচ্ছে

কলাবাগান ক্লাবের সভাপতির বিরুদ্ধে দুই মামলা

বশেমুরবিপ্রবি বন্ধ, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ

নগ্ন স্তনের কারণে মালয়েশিয়ায় নিষিদ্ধ হলো জেনিফার লোপেজের ছবি

টেন্ডারমুঘল শামীমের যত কাহিনী

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ