২০২৩ সালের মধ্যে সব প্রাথমিকে ‘স্কুল মিল’

শেষের পাতা

বিশেষ প্রতিনিধি | ২০ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:০২
২০২৩ সালের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার দেবে সরকার। শুরুতে চর, হাওর ও দুর্গম এলাকার স্কুলগুলোতে এই সুবিধা দেয়া হবে। এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০১৯’ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার  কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে স্কুল মিল নীতি ছাড়া আরও সাত সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুমোদনের কথা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, মিড ডে মিল অনেক জায়গায় পাইলট বেসেজে চালু হয়েছে। এগুলোকে কীভাবে সমন্বিতভাবে সারাদেশে ছড়ানো যায় তার জন্য এই নীতিমালা। এটি বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সেল বা ইউনিট কাজ করবে। কার্যক্রমের পরিধি সমপ্রসারণে প্রয়োজনবোধে প্রাথমিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আলাদা জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী, স্কুল মিল উপদেষ্টা কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে সরকার মনোনীত উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে এই কমিটি কর্মপরিধি, কার্যকারিতা, অর্থায়ন ও মূল্যায়নে কাজ করবে। সরকার মনোনীত বিশিষ্ট ব্যক্তির সভাপতিত্বে এই কমিটির সদস্যদের নির্দিষ্ট মেয়াদে নিয়োগ দেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্কুল মিল কর্মসূচির প্রধান নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। শফিউল আলম বলেন, প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় শক্তি চাহিদার ক্যালরির ন্যূনতম ৩০ শতাংশ স্কুল মিল থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে। যা প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৩-১২ বছরের ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, অর্ধদিবস স্কুলের ক্ষেত্রে দৈনিক প্রয়োজন অনুপুষ্টিকণার চাহিদা ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নিশ্চিত করা। এছাড়া জাতীয় খাদ্যগ্রহণ নির্দেশিকা অনুযায়ী দৈনিক প্রয়োজনীয় শক্তির ১০-১৫ শতাংশ প্রোটিন থেকে এবং ১৫-৩০ শতাংশ চর্বি থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে। ন্যূনতম খাদ্য তালিকার বৈচিত্র বিবেচনায় নিয়ে ১০টি খাদ্যগোষ্ঠীর মধ্যে ন্যূনতম চারটি খাদ্যগোষ্ঠী নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে তিন উপজেলার স্কুলে রান্না করা খাবার এবং ১০৪টি উপজেলায় বিস্কুট খাওয়ানো হচ্ছে। ১০৪টির মধ্যে ৯৩টি উপজেলায় সরকার ও ১১টি উপজেলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি অর্থায়ন করছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা দেখেছি যে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বেড়েছে। রান্না করে খাবার দিলে ১১ শতাংশ উপস্থিতির হার বাড়বে। শুধু বিস্কুট দিলে উপস্থিতির হার বাড়ে ৬ শতাংশ। কর্মসূচির আওতাধীন এলাকায় ঝরে পড়ার হার ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং শারীরিক অবস্থারও অনুকূল দেখতে পেয়েছি। রান্না করা খাবার এলাকায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বিস্কুট দেয়া এলাকায় রক্ত স্বল্পতা কমেছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এই বিবেচনায় জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি অনুমোদিত হয়েছে মন্ত্রিসভায়। অতিরিক্ত সচিব বলেন, একই বিস্কুট বাচ্চারা খেতে চায় না- খাবারের বৈচিত্র বিবেচনায় আমরা বিস্কুট, কলা ও ডিম কমন রাখার চেষ্টা করছি। আর বৃহস্পতিবার অর্ধদিবসে শুধু বিস্কুট রাখব। শুধু বিস্কুট দিলে প্রতিদিন প্রতি শিক্ষার্থীর ৯ টাকা হারে বছরে ২ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, পাঁচ দিন রান্না করা খাবার ও এক দিন বিস্কুট দিলে খরচ হবে ৫ হাজার ৫৬০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বিস্কুট এবং ডিম, কলা ও রুটি দিলে ২৫ টাকা হারে খরচ হবে ৭ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। আমরা সব মডেলে চালাব, যেখানে যেটা প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পরিকল্পনা আছে সব ইউনিয়নে চালাব। ২০২৩ সালের মধ্যে সারাদেশে কাভার করা হবে। সরকারের সঙ্গে স্থানীয় কমিউনিটির সম্পৃক্ততা ছাড়া সফল করা যাবে না। কারণ স্কুলগুলোতে রান্নাঘর করতে হবে। এজন্য পিপিপি মডেলে করতে পারলে সফল হবে। দেশে ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ১৫ হাজার ৩৪৯টি স্কুলের ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে খাওয়ানো হচ্ছে। এতে খরচ হচ্ছে ৪৭৪ কোটি টাকা। প্রকল্প চলবে ২০২০ সাল পর্যন্ত। এদিকে, সাত সপ্তাহ পর মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন এবং মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া আরও দুইটি আইনের খসড়া ও দুইটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১৯-অনুযায়ী, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরও চ্যান্সেলর থাকবেন প্রেসিডেন্ট। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষাবিদসহ ১৩ সদস্যের একটি সিন্ডিকেটও থাকবে। বৈঠকে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৯ এর খসড়ায় অনুমোদন পায়। অনুমোদিত খসড়া অনুযায়ি মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান ও ছয় সদস্যের একটি পরিচালনা বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা দেওয়ার নামে যেখানে সেখানে যেন মানহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে না পারে, তার জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করছে সরকার। এজন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী সম্পর্কিত সমন্বিত/বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদিকে, মন্ত্রিসভায় সরকারি মালিকানাধীন রুরাল পাওয়ার কোম্পানি (আরপিসিএল) ও চীনের বেসরকারি কোম্পানি শেনজেন স্টার ইনস্টু্রমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ পাওয়ার ইক্যুপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রাথমিক পর্যায়ে এই কোম্পানি প্রিপেইড মিটার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরি করবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) আওতায় ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে আরেকটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi

২০১৯-০৮-১৯ ১৮:০৯:২৯

সরকারী উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও তাদের দলীয় লোকের কারণে ব্যর্থ হবে উদ্যোগটি। স্থানীয় হোমরাচোমরাদের পোয়া বারো হবে। গরীব এলাকায় শিশুরা সুষম খাদ্য কমই পাবে।

আপনার মতামত দিন

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে মিশন শুরু বাংলাদেশের

‘তথ্য-প্রমাণ পেলে সম্রাটের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা’

বরিশালে ডেঙ্গুতে গৃবধূর মৃত্যু

উদ্ভট নেশা যুবতীর

কুষ্টিয়ায় চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

সঙ্গীত শিল্পী পারভেজ রবকে চাপা দেয়া বাসচালক-সহকারি গ্রেপ্তার

মা হলেন নুসরাত হত্যার আসামি কারাবন্দি মনি

এপস্টেইন যেভাবে ধর্ষণ করে আমাকে

সড়ক দুর্ঘটনায় কটিয়াদী যুবদল সভাপতি নিহত

সরকার দুর্নীতির দায় এড়াতে বিএনপিকে দোষ দিচ্ছে

কলাবাগান ক্লাবের সভাপতির বিরুদ্ধে দুই মামলা

বশেমুরবিপ্রবি বন্ধ, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ

নগ্ন স্তনের কারণে মালয়েশিয়ায় নিষিদ্ধ হলো জেনিফার লোপেজের ছবি

টেন্ডারমুঘল শামীমের যত কাহিনী

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ