নানা চোখে জয়শঙ্করের ঢাকা সফর

অনলাইন

নিজস্ব প্রতিনিধি | ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, ১২:০২ | সর্বশেষ আপডেট: ৫:০৪
জল্পনা-কল্পনা ছিল বাংলাদেশ সফররত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আসামের কথিত অবৈধ অভিবাসী এবং তিস্তাচুক্তি নিয়ে কি বলেন। তিনি বলেছেন, আসামের ‌অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিত করার বিষয়টি ভারতের ‌অভ্যন্তরীণ বিষয়। আর তিস্তার বিষয়টি এড়িয়ে তিনি ৫৪ নদীর পানি ভাগাভাগির ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। 
উল্লেখ্য, ১০ দিনের কম সময়ের ব্যবধানে ঢাকা- দিল্লি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় আলোচনা একটি বিরল অগ্রগতি। 
ভারতের ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ভারতীয় ভাষ্যকার গৌতম লাহিরি বলেছেন, ‌‌ তিস্তা চুক্তি নিয়ে একটা সংকল্প ব্যক্ত করার বিনিময়ে সাউথ ব্লক অবৈধ অভিবাসী বিষয়ে কিছু ছাড় আশা করছে।'' কিন্তু ঢাকায় মঙ্গলবার দুই বিদেশ মন্ত্রীর বৈঠকের পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এম এ মোমেন বলেছেন, তারা সকল বিষয়ে কমবেশি একমত হয়েছেন। We more or less came to a consensus on all issues. কিন্তু বিষয়গুলোর বিবরণ তিনি প্রকাশ করেননি। আবার এই তথ্যও তিনি দেননি যে, বাংলাদেশ মি. জয়শঙ্করের কাছে এবিষয়ে বাংলাদেশী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কি করেনি। বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক উভয়ের স্বীকৃতমেত ‌সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পৌছানোর পরে এর আগে চীনের কাছ থেকে সাবমেরিন কেনা এবং অধুনা অবৈধ অভিবাসী বিষয়ে কথিত টানাপোড়েনের খবর জানা যাচ্ছে।  
সোমবার দি হিন্দু জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যয়ের ৭ম বৈঠকের যৌথ ইশতিহার প্রকাশ পায়নি। এটাই উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
 
পিটিআই জানায়, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মি. জয়শঙ্কর মঙ্গলবার ঢাকায় বলেছেন, আসামে অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিতকরণের যে প্রক্রিয়া চলছে সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। গত ১০ বছরের ইতিহাসে এটাই প্রথম যে তারা অবৈধ অভিবাসী ইসু্য তুলেছেন। বিজিপির সব পর্যায়ের নেতারা  বরাবর ভারত থেকে লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি দিয়ে আসছে।  
আগামী ৩১ আগস্টে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পাবে। বিশ্লেষকদের অনেকেই তাই অল্প সময়ের ব্যবধানে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী কর্তৃক বাংলাদেশী নেতাদের বৈঠককে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।   
 ঢাকার পর্যবেক্ষরা করছেন  যে  ১৯৯১ সালে প্রথম সরকার গঠনের পরে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রথম ভারত সফরে গিয়েছিলেন, তখন একটি যৌথ বিবৃতির ১১ নম্বর ধারায় অনুপ্রবেশের বিষয়টি উঠেছিল। তখন এই বিষয়ে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামীলীগ বিএনপি নগজানু হওয়ার জন্য  কঠোর সমালোচনা করেছিল। ভারতের ফিন্যানন্সিয়াল এক্সপ্রেস অবশ্য মি. জয়শঙ্করের সফরকে সামনে রেখে করা প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ‌'ব্যাপক ভিত্তিক অবৈধ অভিবাসনের ইসু্' দুদেশের মধ্যে আদৌ থাকার কোনো সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। 
ভারতীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে ভারতের বাংলাদেশকে চাপ দেয়া ঠিক হবে না। তার ধরে নেয়া উচিত নয় যে, বাংলাদেশ চীনের দিকে ঝুকতে পারে । ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পাওয়ার খবর ভারতের সংবাদ মাধ্যমে সতর্কতার সঙ্গে আসছে। এর আগে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে সফরের আগে পিটিআই 'দায়িত্বশীল সূত্রের' বরাত দিয়ে বলেছিল, অমিত শাহ অবৈধ অভিবাসন প্রসঙ্গ তুলবেন। ভারতের বড় পত্রিকাগুলো পিটিআইয়ের খবরকে গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছিল। 
উল্লেখ্য, আসামের সর্বত্র তোলপাড় চলছে। ৩১ আগস্টের পরে সেখানে কি ঘটবে তা নিয়ে অসমীয় পত্রিকাগুলো ফলাও করে এনআরসির খবর ছাপছে।  গত বছরে প্রকাশিত এনআরসির তালিকা অনুযায়ী ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে।  আর তা তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কে জন্ম দিয়েছে। 
পিটিআই বলেছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী তিস্তা প্রসঙ্গে বলেছেন, ভারত সেই অঙ্গিকার থেকে সরে আসেনি। তবে অঙ্গিকার কি ছিল, তা তিনি প্রকাশ করেননি। 
  ঢাকার কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে আশঙ্কা করছেন যে, তিস্তা নদীর পানি অনিষ্পন্ন রেখে অন্য কোন নতুন নদীর চুক্তির কথা সহজেই চলে আসতে পারে।
 সম্প্রতি দেশের যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে । আর সেই বৈঠকেও তিস্তা নদীর পানি ভাগাভাগি নিয়ে কোন কথা আসেনি।
 তবে সাংবাদিকরা গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে যখন নির্দিষ্টভাবে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে জানতে চান তখন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ''এই বিষয়ে আমাদের একটি অবস্থান রয়েছে, সে সম্পর্কে আপনারা অবগত রয়েছেন।  এ বিষয়ে আমাদের একটি অঙ্গীকার রয়েছে এবং তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি ।
পিটিআই বলেছে, ভারতের এই বিষয়ে একটি অবস্থান হলো পশ্চিমবঙ্গ যখন রাজি হবে তখন চুক্তিটি সই হবে। রোহিঙ্গা নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি মিয়ানমারকে চাপ দেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলেননি। 
  কানেক্টিভিটি নিয়েও কথা বলেছেন জয়শংকর। বলেছেন, বিভিন্ন রুটে কানেক্টিভিটি দু'দেশের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমরা এ বিষয়ে একটা ‌'অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা' করতে চাই । জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে জয়শংকর বলেছেন, এ বিষয়ে আমরা  সাফল্য দেখতে চাই । কারণ তাতে উভয় দেশের স্বার্থ নিহিত। বাণিজ্য বিষয়ে  বলেন, বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিকর হয় এমনভাবে দুদেশের বাণিজ্যে সম্পর্কের অগ্রগতি হবে।  তিনি  আরো উল্লেখ করেন যে ঢাকায় বৃহত্তম কনসুলার সার্ভিস পরিচালিত হচ্ছে এবং আমরা এটা সিমলেস করতে চাই। তার কথায়, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক হবে একটি দৃষ্টান্ত । যাতে সবাই দেখবে যে দুই প্রতিবেশী কত ভালো কাজ করতে পারে। 
জয় শংকরের কথায়,  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এটা দেখতে চান যে বাংলাদেশ -ভারতের মৈত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় একটি রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে । 
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেছেন, ভারতিয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে ।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা রুখে দেয়ার শপথ বুয়েটে

সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করবে ঐক্যফ্রন্ট

সেই বড় ভাই কারা

ফের আলোচনায় আবদুল হাই বাচ্চু

অভিযান অব্যাহত থাকবে

মাটি কেনায় নয়ছয়ের পাঁয়তারা

ইন্টারগেশন সেলে মুুখোমুখি হচ্ছেন সম্রাট-আরমান

সড়কের দুই পাশে ট্রাক বাস রেখে চাঁদাবাজি করা হয় : শামীম ওসমান

কোনো উদ্যোগেই দাম কমছে না পিয়াজের

তদন্ত প্রতিবেদন ২০শে নভেম্বর

বিএনপি সরকারের রেল বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল দেশের জন্য আত্মঘাতী

প্রেমের টানে জৈন্তাপুরে ভারতীয় খাসিয়া নারী হুলুস্থুল

এবার তহবিল চায় রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক

আইনজীবীর হাতে হাতকড়া বিচারক অবরুদ্ধ এজলাস ভাঙচুর

চট্টগ্রামে গতি পেলো মেট্রোরেল

বরগুনায় রিফাত হত্যার প্রধান আসামির জামিন নামঞ্জুর