স্ত্রীর চাপে পদত্যাগ করেছেন জনসনের ভাই

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
বৃটেনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলে ক্রমশ তিক্ত হয়ে উঠছে ‘গৃহযুদ্ধ’। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ভাই জো জনসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তার স্ত্রী অ্যামেলিয়া জেন্টেলম্যান। তিনি তাকে সাফ জানিয়ে দেন- তোমার সামনে দুটি পথ খোলা। বরিস জনসন এবং আমিÑ এই দু’জনের মধ্য থেকে তোমাকে বেছে নিতে হবে একজনকে। যদি বরিস জনসনকে বেছে নাও, তাহলে আমাকে পাবে না। আর আমাকে পেতে হলে বরিস জনসনকে ছাড়তে হবে। এমন চাপে পড়ে স্ত্রীকে বেছে নিয়েছেন জো জনসন। তিনি মন্ত্রিত্ব ও রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা থেকে তিনি নিজের আপন ভাই ও প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে এই বড় বিপদের সময় ছেড়ে গেছেন। বলেছেন, বরিস জনসন জাতীয় স্বার্থে কাজ করছেন না। তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে বৃটেনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ।
অ্যামেলিয়া জেন্টেলম্যান (৪৭) দু’সন্তানের মা। তিনি বৃটেনের বামধারার পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের সাংবাদিক। অভিবাসীদের সঙ্গে সরকার কেমন আচরণ করছে তা নিয়ে তিনি নিয়মিত টুইট করেন। এ বিষয়ে উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারি কিভাবে মোকাবিলা করেছে সরকার তা নিয়ে গত একটি বছর তিনি লিখেছেন। বাম ঘরানার আর্টিস্ট ডেভিড জেন্টেলম্যানের মেয়ে তিনি। বামঘেঁষা জেরেমি করবিনের বিরোধী লেবার দলের একজন সদস্য অ্যামেলিয়া। এ ছাড়া বরিস জনসনের সঙ্গে বিচ্ছেদে যাওয়া তার স্ত্রী মেরিনা হুইলারের সঙ্গে রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
পরিবারটির ঘনিষ্ঠ সূত্র বলেছেন, সরকার ক্রমশ ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে আর এমন সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন বরিস জনসন। তিনি আইন ভেঙে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনকে বের করে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অথবা খাদে পড়ে মরে যাওয়াকে বেছে নেয়ার কথা বলেছেন। এসব দেখে হতাশা বেড়েছে অ্যামেলিয়ার মধ্যে। এমন অবস্থা দেখে তিনি জো জনসনের মুখোমুখি হন। তাকে জানিয়ে দেন হয় আমাকে না হয় তোমার ভাইকে- দু’জনের একজনকে বেছে নিতে হবে।
এরপর গত শুক্রবার পদত্যাগ করেন জো জনসন। তিনি ইউনিভার্সিটি বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। সেই পদ ত্যাগ করেন। একই সঙ্গে রাজনীতি থেকেই সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তবে এক্ষেত্রে তার ভাইয়ের ব্রেক্সিট নীতির বিষয় তিনি পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘অসমাধানযোগ্য উত্তেজনার’ কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন, তার ভাই বরিস জনসন জাতীয় স্বার্থের পক্ষে কাজ করছেন না। এর ফলে সবচেয়ে বড় আঘাতটি লাগে বরিস জনসন সরকারে। ওদিকে পদত্যাগ করে বসেছেন আরেক শক্তিধর মন্ত্রী অ্যাম্বার রাড। চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট করার বিরুদ্ধে বিলে ভোট দেয়ার কারণে কনজারভেটিভ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ২১ জন এমপিকে। সব মিলে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি ও প্রধানমন্ত্রী জনসন কঠিন এক সময় পাড় করছেন। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, তার জন্যও অশনি সংকেত দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, তারও পরিণতি হতে পারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও তেরেসা মে’র মতো।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৭

২৫ বছর ধরে শিকলবন্দি রতন

‘৪০ লাখের কমিটি, মানিনা-মানব না’

‘ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কারেই বুঝা যায় দেশে কতটা দুর্নীতি চলছে’

কোনো ছাত্রসংগঠনে এমন নজির নেই: কাদের

যা বললেন শোভনের বাবা

ঢাবি ক্যাম্পাসে ভূত তাড়ানোর মিছিল

অন্তঃসত্বা কিশোরীকে বিয়ে, অতঃপর...

বান্দরবানে অস্ত্রের মুখে ৬ জনকে অপহরণ

নবী-আসগরের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আফগানিস্তান

ভিকারুননিসার নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ

যশোরে বোমা নিষ্ক্রি করতে গিয়ে বিস্ফোরণে র‌্যাব সদস্য আহত

মেসেজ ক্লিয়ার

চাঁদাবাজির তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা

মেডিকেল মিরাকল ঘটানো সেই দম্পতি আইসিইউতে

আপত্তিকর মন্তব্য করায় টিআইবিকে বেক্সিমকো’র চিঠি