সাংবাদিকরাও হামলার শিকার

ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

শেষের পাতা

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:১২
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এতে সংগঠনটির প্রায় ১৭ নেতাকর্মী আহত হন। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তিন সাংবাদিককেও মারধর করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর, দোয়েল চত্বর, টিএসসি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগের হামলায় আহতরা ঢাকা মেডিকেলে  প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে, হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। বিক্ষোভ মিছিলের আগে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, এ হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস জড়িত। এ সময় তিনি হামলাকারীদের বিচার ও সনজিতের গ্রেপ্তার দাবি করেন।
তবে হামলার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সনজিত। তিনি বলেন, কিছু অতি উৎসাহী নেতাকর্মী এ হামলা চালিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হামলার ঘটনার পর পরই সনজিত ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে সশরীরে উপস্থিত থেকে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। ছাত্রলীগের হামলায় আহত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জাকিউল ইসলাম শাহীন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব শাহিন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সদস্য কামরুল ইসলাম, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম সোহেল, সূর্যসেন হলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ মামুন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদে ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী মাহবুবুল আলম শাহিন, ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী কার্জন মামুন, কবি নজরুল কলেজের ফাহিম ও ঢাকা কলেজের নয়ন প্রমুখ। এদের মধ্যে ৭-৮ জনের অবস্থা গুরুতর। ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের সময় হামলার শিকার তিন সাংবাদিক হলেন- দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার আমিনুর রহমান, প্রতিদিনের সংবাদের রাফাতুল ইসলাম রাফি এবং বিজনেস বাংলাদেশের আফছার মুন্না। এদের মধ্যে আনিসের অবস্থা গুরুতর।

জানা গেছে, নতুন কমিটি গঠনের পর দলবলে গতকালও মধুর ক্যান্টিনে আসেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। এ সময় তিনি মধুতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অব্যাহত হট্টগোলে মধু থেকে বের হয়ে যান। এরপর হাকিম চত্বরে গিয়ে সাক্ষাৎকার দেয়া শুরু করলেও সেখানেও বাধাপ্রাপ্ত হন। এ সময় ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে করে সেখানে যান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হাকিম চত্বরে আগেই ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। সনজিত ও তার অনুসারী নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে বলেন। সনজিতের কথায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা টিএসসির ডাচ্‌ এ চলে যান। সেখানে সাক্ষাৎকারের বাকি অংশ শেষ করে নেতাকর্মীদের বিদায় দেন শ্যামল। বিদায় দিয়ে একটু সামনে এগুতেই সনজিতের অনুসারী ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী রড ও লাঠিসোটা নিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। ডাচ্‌-এ হামলার পর ছাত্রলীগ নেতারা দোয়েল চত্বরেও ছাত্রদল নেতাদের ওপর হামলা চালায়।

হামলায় অংশগ্রহণকারীরা হলেন- সনজিত চন্দ্র দাসের অনুসারী মাস্টার’দা সূর্য সেন হল সংসদের ভিপি মারিয়াম জামান খান, কবি জসীমউদ্‌?দীন হল সংসদের জিএস ইমাম হাসান, জগন্নাথ হল সংসদের জিএস কাজল সরকার, সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাইনুল ইসলাম, নাহিদ হাসান, স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী আপেল মাহমুদ, কবি জসীমউদ্‌দীন হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী মুহসীন আলম তালুকদার, বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক তারেক রহমান এলিট, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সম্পাদক হাসান রাহাত প্রমুখ। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে দেশীয় অস্ত্র (লাঠি, রড, চাপাতি, রামদা) নিয়ে আমাদের ওপর বিনা উস্কানিতে হামলা চালান। হামলায় আমাদের ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী আহত হন, যাদের ৭-৮ জনের অবস্থা গুরুতর। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির নির্দেশে ও নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এমনকি আমাদের অনেকের মোবাইল ও মানিব্যাগ পর্যন্ত ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে।

আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার বিচার ও ছাত্রলীগের নেতা সনজিতের গ্রেপ্তার দাবি করছি। এদিকে, হামলার পর ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে এসে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে সনজিত হামলায় অংশ নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ওই সময় তিনি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ওয়াশরুমে ছিলেন। তিনি বলেন, এই হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের কোনো নির্দেশনা ছিল না। আমি এবং সাদ্দাম এই ঘটনার বিষয়ে ওয়াকিবহালও ছিলাম না। তবে ছাত্রলীগের কিছু অতি উৎসাহী কর্মী এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। পর্যালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, তিনি এ ঘটনায় ‘লজ্জিত’। এই হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ সাংগঠনিকভাবে জড়িত ছিল না। কিন্তু ছাত্রলীগের কিছু কর্মী ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। যারা জড়িত আমরা তাদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে এরকম নির্দেশনা আমরা ছাত্রলীগ কর্মীদের দিয়ে দেবো।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

পদ হারালেন ওমর ফারুক

১০ বছর আমার চেহারা ভালো ছিলো এখন খারাপ হয়েছে: ওমর ফারুক চৌধুরী

যুবলীগের প্রস্তুতি কমিটি গঠন

সিঙ্গাপুরে রাজার হালে ক্যাসিনো ডন সাঈদ

মোহাম্মদপুরের সুলতানের পতন

ঢাবি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনে কেন যেতেন জি কে শামীম

সম্রাটের অস্ত্র ভাণ্ডারের খোঁজ মিলেছে

পাক-ভারত সীমান্তে গুলির লড়াই

মেননের বক্তব্যে তোলপাড়

ঢাবিতে ফের ছাত্রদলের ওপর হামলা

খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

মন্ত্রী হলে কি এ কথা বলতেন?

অবৈধ উপায়ে নির্বাচনে জয়ীদের কোনো বৈধতা থাকে না

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব

ওয়াসার পানি সরাসরি পানের নিশ্চয়তা দিতে হবে

বাংলাদেশে এখন বিশ্বের আধুনিক আইটি সিস্টেম রয়েছে: জয়