প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখায় অপর্ণা, সৌমিত্র, বেনেগালদের বিরুদ্ধে এফআইআর

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ৫ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:২৫
গণপিটুনি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে  চিঠি দেয়ায় দেশটির ৫০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা হয়েছে। ভারতজুড়ে ক্রমবর্ধমান গণপিটুনির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে খোলা চিঠি দিয়েছিলেন ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ, চিত্র পরিচালক মনিরতœম, অনুরাগ কাশ্যপ, শ্যাম বেনেগাল, অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী অপর্ণা সেন-সহ মোট ৫০ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাতে বলা হয় মুসলিম, দলিত এবং সংখ্যালঘুদের এভাবে পিটিয়ে মারার ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ভিন্নমত থাকাটা স্বাভাবিক বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন তারা। চিঠিতে আরও বলা হয়েছিল, দুঃখজনকভাবে জয় শ্রীরাম এখন উত্তেজনামূলক যুদ্ধের হুঙ্কারে পরিণত হয়েছে। যার জেরে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হচ্ছে এবং রাম নাম নিয়ে অনেক জায়গায় গণপিটুনির ঘটনাও ঘটছে। এটা দুঃখজনক যে, ধর্মের নাম নিয়ে হিংসার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এটা মধ্যযুগ নয়।
রামচন্দ্রের নাম ভারতের বেশিরভাগ মানুষের কাছে পবিত্র। দেশের সর্বোচ্চ শাসক হিসেবে আপনার উচিত, এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করা। তা নিয়েই বৃহস্পতিবার বিহারের মুজফ্ফরপুরে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বিশিষ্টজনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে পিটিশন দিয়েছিলেন আইনজীবী সুধীর কুমার ওঝা। তিনি বলেছেন, ওই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা দেশের মানুষকে কলঙ্কিত করতে চেয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টাকে খাটো করে দেখাতে চেয়েছেন। ওই চিঠির মাধ্যমে বিশিষ্টদের বিচ্ছিন্নতাকামী মানসিকতাও ফুটে উঠেছে বলে জানিয়েছেন ওই আইনজীবী। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় দন্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহ, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, শান্তিভঙ্গে প্ররোচনা দেয়ায় ওই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এফআইআর দায়ের প্রসঙ্গে সাবেক কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, এই মুহূর্তে দেশে কী চলছে, সে ব্যাপারে প্রত্যেকেই অবগত। কোনও গোপনীয়তা নেই। এমনকি গোটা বিশ্বও জেনে গিয়েছে। ক্রমশ স্বৈরতন্ত্রের দিকে এগোচ্ছি আমরা। মোদী সরকার সমালোচনা শুনতে পারে না বলেও এদিন অভিযোগ করেছেন রাহুল। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু বললে, কেন্দ্রীয় সরকারের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুললে, আজকাল জেলে পুরে দেয়া হয়। পড়তে হয় হামলার মুখেও। গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে সংবাদমাধ্যমকেও। রাহুল আরও বলেছেন, এক দিকে ধারণা জন্মেছে যে, এক ব্যক্তিই দেশ শাসন করবেন। দেশে একটি মাত্র আদর্শই থাকবে। বাকিদের মুখে কুলুপ এঁটে থাকতে হবে। অন্যদিকে বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি এবং বাক স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। দেশে এখন এই যুদ্ধই চলছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Santosh Ghosh

২০১৯-১০-০৬ ০৮:২৯:০৫

এই সব করে কোন লাভ হবে কি? আমাদের দেশের আইন আদালতের বিচার ব্যবস্থা অনেক উঁচুতে। কখনো এধরনের কাজকে তাঁরা প্রশয় দেবেন না।

আপনার মতামত দিন

বিকালে আন্দোলনকারীদের সংবাদ সম্মেলন

প্রথমবার যৌথভাবে বুকার পুরস্কার দেয়া হয়েছে

ভারতে পালানোর সময় সাদাত গ্রেপ্তার

সৌদি আরবে লাল গালিচা অভ্যর্থনা পুতিনকে, শত শত কোটি ডলারের চুক্তি সই

লক্ষ্মীপুরে গণপিটুনিতে চোর নিহত

১০ টাকার জন্য নিজ সন্তানকে খুন করলেন মা

যৌতুকের জন্য নির্যাতন, স্বামী গ্রেপ্তার

‘আমার সামনে তখন একজন লিজেন্ডকে দেখি’

অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিবাদের নামে নগ্নতা

টাকা কুড়াতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন শতাধিক মানুষ!

মানবতাবিরোধী অপরাধে গাইবান্ধার ৫ আসামির ফাঁসি

অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

গরম তেলে ঝলসে দিয়ে স্ত্রীকে তালাবদ্ধ

ডার্ক গ্রে তালিকাভুক্ত হতে পারে পাকিস্তান

ভারতে শাখা বিস্তার করছে জেএমবি

মেক্সিকোতে অস্ত্রধারীদের গুলিতে নিহত ১৩ পুলিশ