তিতাসের মৃত্যু

দায় এড়াতে পারেন না যুগ্ম সচিব

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ৮ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
মাদারীপুর ফেরিঘাটে স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় পরোক্ষভাবে হলেও যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মণ্ডলের দায় রয়েছে বলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গতকাল বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এরপর আদালত প্রতিবেদনের উপর শুনানির জন্য আগামি ১৪ই নভেম্বর দিন ধার্য করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাাহ আল মাহমুদ বাশার। মামলায় দুই বিবাদীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও এ এম আমিন উদ্দিন। আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন লিমন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেরি আটকে রাখা বা ফেরিতে অপেক্ষমাণ অ্যাম্বুলেন্সে মুমূর্ষু রোগী থাকার কথা যুগ্ম সচিব জানতেন না। এ কারণে সরাসরি তাকে দায়ী করা যায় না। তবে তিনি ঘাট ব্যবস্থাপককে দীর্ঘক্ষণ আগে থেকেই পারাপারের জন্য বার্তা দিয়ে তার সঙ্গে বার বার ফোনালাপের মাধ্যমে একটা দায়ভার সৃষ্টি করেছিলেন।
সর্বোপরি বিলম্বে ফেরিঘাটে উপস্থিত হওয়া এবং তার জন্যই ফেরি অপেক্ষমাণ রাখায় এক্ষেত্রে তারও দায়বদ্ধতা রয়েছে।
গত ২৩শে অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ। প্রতিবেদনে শুধু ঘাটে দায়িত্বরত তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়ী করা হয়েছে। যুগ্ম সচিবের কোনো দোষ খুঁজে পায়নি কমিটি। পরে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন চায় হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী বুধবার প্রতিবেদনটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত পতিবেদনে তিতাসের মৃত্যুর ঘটনায় ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম, ঘাটের উচ্চমান সহকারী ফিরোজ আলম, প্রান্তি সহকারী খোকন ও ইনল্যান্ড মাস্টার সামছুল আলমকেই প্রত্যক্ষভাবে দায়ী করা হয়। পরে রিটকারী আইনজীবী মো. জহির উদ্দিন লিমনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ই নভেম্বরের মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সে অনুসারে গতকাল আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ৭ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও তদন্ত কমিটির সভাপতি সঞ্জয় কুমার বণিকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এ প্রতিবেদন তৈরি করে।

গত ২৫শে জুলাই, নড়াইলের কালিয়া পৌর এলাকার ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্র তিতাস সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার পথে রওনা হয় তার পরিবার। কিন্তু সরকারের এটুআই প্রকল্পে দায়িত্বরত আবদুস সবুর মণ্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ঘাটে ফেরি দাঁড় করিয়ে রাখা হয় তিন ঘণ্টা। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যায় তিতাস। তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএর কর্তাদের অনুরোধ করেও সেদিন কোনো কাজ হয়নি। সরকারি জরুরি সেবার হটলাই ৯৯৯ এ ফোন করা হলেও ফেরি দ্রুত ছাড়তে কেউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরে মানবাধিকার সংগঠন লিগ্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড পিপলস রাইটসের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জহির উদ্দিন লিমন জনস্বার্থে এ রিটটি দায়ের করেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রাষ্ট্রীয় পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ বাড়ল

গোলাপি বলে জেতার জন্য খেলবেন মুমিনুলরা

শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নেবার আশ্বাস

পরিবহন শ্রমিকদের দাবিতে অসঙ্গতি আছে কি না খতিয়ে দেখা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে দায়িত্ব ছাড়লেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু

সমাপনী পরীক্ষায় শিশুদের বহিষ্কার কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

হল খোলা রাখার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত

৫ বছর পর ২০০০ কিলোমিটার দূরে পাওয়া গেলো হারানো বিড়াল

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৬৪ জেলায় রদবদল

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

বাণিজ্যযুদ্ধের সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হতে পারে: কিসিঞ্জার

পরিবহন শ্রমিক ধর্মঘট চলছেই

আমাকে পছন্দ না হলে প্রকাশ্যে বলুন: ড. মাহাথির

‘সন্তানরা মাঠে নামলে পিঠের চামড়া থাকবে না’

দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি: মওদুদ

উত্তর প্রদেশে বিদ্রোহের মুখে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী!