জবিতে চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতায় শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে

শিক্ষাঙ্গন

জবি প্রতিনিধি | ১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান জুনায়েদ হালিমের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়ে এক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। ওই শিক্ষার্থীর ক্লাশ, পরীক্ষা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, রেজিষ্ট্রার, প্রক্টরের অনুমতিও আমলে নিচ্ছেন না তিনি। পরীক্ষায় বসতে গেলে ছাত্রলীগ দিয়ে মার খাওয়ানো ও একাডেমিক কার্যক্রম চালাতে না দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। জানা যায়, গত ২২শে মে ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান সোহান ও মাহমুদুল হাসান মিশু, মিতৌরা মাহজাবিন ও সানজিদা আক্তারের নামে ‘ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকান্ড’ এর অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেন বিভাগের চেয়ারম্যান জুনায়েদ হালিম। এরপর গত ৩রা সেপ্টেম্বর মাহমুদুল হাসান সোহান ও মাহমুদুল হাসান মিশুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর বাদী, বিবাদী ও সাক্ষীদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সহকারী প্রক্টর শিল্পী রানী সাহা ও মো. মহিউদ্দিন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মাহমুদুল হাসান সোহানকে সাময়িক বহিষ্কার ও মাহমুদুল হাসান মিশুর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তার একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে করার সুপারিশ করা হয়। এরপর সুপারিশ সাপেক্ষে মাহমুদুল হাসান সোহানকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


এদিকে ওই দুই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কোন সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না করেই তাদেরকে কোন ক্লাশ, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়নি বিভাগের চেয়ারম্যান। এবং মাহমুদুল হাসান মিশুর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোন প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলেও গত ১৭ই নভেম্বর অনুষ্ঠিত সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে দেয়া হয়নি। পরীক্ষার হলে থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়। এবং ওই শিক্ষার্থীকে পরবর্তীতে পুলিশে সোপর্দ করা ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে বের হতে না দেয়ার হুমকি দেন জুনায়েদ হালিম। এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান জুনায়েদ হালিম বলেন, আমি এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি না। এখন ভাত খাচ্ছি। পরেও আমাকে আর ফোন দিবা না।

এবিষয়ে রেজিস্টার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, প্রক্টর অফিসের সুপারিশ ভিত্তিতে আমরা অর্ডার করে দিয়েছি। বিষয়টা জানার পর আমি চেয়ারম্যানের সাথে কথাও বলেছি। এখন তিনি যদি পরীক্ষা না নিতে চায় এবিষয়ে উপাচার্য ব্যবস্থা নিবেন। ভিসি ড. মীজানুর রহমান বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আমরা বলে দিয়েছি এখন তারা যদি পরীক্ষা না নেয় আমি কি করব? আমার অনেক কাজ আছে আমি এসব বিষয় নিয়ে বসে নেই। এরপর উপাচার্য হিসেবে আপনার কিছু করার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেই শিক্ষার্থী অভিযোগ দিলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিবো।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

md.saheb ali

২০১৯-১১-১৯ ১০:২২:১৪

বা ! ভিসির বানী কি সুন্দর !

রাহমান

২০১৯-১১-১৯ ০৭:১২:৩৬

ধন্যবাদ যুবলীগের চিয়ারম্যান আশাবাদি ডক্টর মোহাম্মদ মিজান (জবি) ভিসি আপনি অচিরেই সফল হবেন

মোঃ কামরুল হাসান

২০১৯-১১-১৯ ০৬:৫২:২৯

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মীজানুর রহমান কিছুদিন আগে বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হওয়ার চেয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার জন্য আগ্রহী ছিলেন। এখন উনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী ক্লাস বা পরীক্ষা দিতে পারল কি , পারল না তা দেখার সময় তিনি কোথায় পাবেন ? ধন্য গুরু ধন্য!!

আপনার মতামত দিন

সম্পর্ক ছিল মারিনি

কেন চাপের মুখে অর্থনীতি

গাম্বিয়ার প্রতি নৈতিক সমর্থন ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ দল শুনানি পর্যবেক্ষণে

কতজন কিনতে পারছে টিসিবি’র পিয়াজ

চলচ্চিত্র সমাজকে সংস্কার করতে পারে

জমকালো আয়োজনে পর্দা উঠলো বঙ্গবন্ধু বিপিএল’র

বাদলের শূন্য আসন নিয়ে মহাজোটে টানাপড়েন

সচিবালয়ের আশেপাশে হর্ন বাজালে এক মাসের জেল

শুদ্ধি অভিযানে নাম আসা কাউকে ছাড় নয়

আলোচনায় মোহনের ‘মঙ্গল আসর’

ছাগলনাইয়ায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১

স্বর্ণালঙ্কারের লোভেই বরিশালে তিন খুন

দিবারাত্রির টেস্টের প্রস্তাব পাকিস্তানের!

পদ হারানো রাব্বানী চান নুরের পদত্যাগ

হাইডেলবার্গে আলী রীয়াজের অনুষ্ঠানে বাধা

গৃহবধূর চুল কর্তন: উল্লাপাড়া আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে কী অ্যাকশন নেয়া হয়েছে, জানতে চান হাইকোর্ট