নির্ভয়াকাণ্ড

১লা ফেব্রুয়ারি ফাঁসি হবে ৪ ধর্ষকের (ভিডিও)

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ১৭ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৩৯

নির্ভয়ার ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সকাল ৬টায়। দেশটির এডিশনাল সেশন জজ কুমার অরোরা শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন। ফলে আজকের পর আর ১৩ দিন বাকি থাকলো নির্ভয়ার ধর্ষক ও হত্যাকারীদের। এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি।

ভারতকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল দিল্লিতে চলন্ত বাসে মেডিকেল পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও পরে তার মৃত্যুর ঘটনা। সেই ধর্ষণ-হত্যা নির্ভয়া হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এর বিরুদ্ধে পুরো ভারত জেগে উঠেছিল। রাজপথ প্রকম্পিত হয়েছিল ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে। ওই নৃশংসতার দায়ে অভিযুক্ত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে চার নরপিশাচ বিনয় শর্মা, অক্ষয় কুমার সিং, মুকেশ কুমার সিং ও পবন গুপ্তকে।
তাদের প্রাণভিক্ষার আবেদন বিভিন্ন দপ্তরে খারিজ হয়ে গেছে। তবে মুকেশের আবেদন এখনও প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দর দপ্তরে পাঠানোর কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট তা প্রত্যাখ্যান করলেই ফাঁসির রশিতে ঝুলানো হবে অপরাধীদের। চার অপরাধীকে এরই মধ্যে তিহার কেন্দ্রীয় কারাগার কমপ্লেক্সের ৩ নম্বর জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেই ফাঁসি কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার তিহার জেল প্রশাসন জানিয়েছে, চার অপরাধীর ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। আসামিদেরকে প্রথমবারের মতো একই জেলে রাখা হয়েছে। তবে তাদেরকে একই সেলে রাখা হয়নি। রাখা হয়েছে বিভিন্ন সেলে। তিহার জেল ডিরেক্টরেটের সূত্রগুলো বলেছেন, আসামিদেরকে একই সময়ে ফাঁসির কাষ্ঠে নেয়া হবে। তার আগে চারদিকে কঠোর নজরদারি করা হবে। চারদিক থাকবে সুনসান নীরব, যাতে অপরাধীরা কোনো রকম সমস্যা সৃষ্টি করতে না পারে। চার নরপিশাচকে একইসঙ্গে প্রথমবারের মতো ফাঁসির রশিতে ঝোলানো হবে। ফাঁসির মঞ্চের চারপাশে অধিক পরিমাণে উপস্থিত থাকবেন জেল কর্মকর্তা ও স্টাফরা। ফাঁসি কার্যকরের দিন জেলখানায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। জেলের বাইরেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি হতে পারে।

এরই মধ্যে দিল্লির আদালত তিহার জেল কর্তৃপক্ষকে একটি নির্দেশনা দিয়েছে। তাতে নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চার অপরাধীর ফাঁসি কার্যকরের শিডিউল সম্পর্কে ১৭ই জানুয়ারির মধ্যে একটি রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা ফাঁসি কার্যকরের বিষয়ে দিল্লি সরকারকে লিখিতভাবে জানিয়েছে। তাতে ২২শে জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। এরপরেই আদালত ওই নির্দেশনা দিয়েছে। মুকেশের প্রাণভিক্ষার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন দিল্লি লেফটেন্যান্ট গভর্নর। রিপোর্ট অনুযায়ী, তার প্রাণভিক্ষার আবেদন প্রথম প্রত্যাখ্যান করে দিল্লি সরকার। পরে ওই আবেদন পাঠিয়ে দেয়া হয় লেফটেন্যান্ট গভর্নরের কাছে। তাতে আবেদন প্রত্যাখ্যান করে সুপারিশ করা হয়। দিল্লি গভর্নমেন্টের এই সুপাশি মেনে নেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনীল বাইজাল। তিনি ফাইল পাঠিয়ে দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। দিল্লি সরকারের কাছ থেকে মুকেশ সিংয়ের প্রাণভিক্ষার আবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, সেই আবেদন এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রেসিডেন্ট রাম নাথ কোবিন্দর বিবেচনার জন্য তা পাঠিয়ে দেয়া হবে তার কাছে।



আপনার মতামত দিন



বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

থমথমে দিল্লি, ১৪৪ ধারা, নিহত ৭

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মালয়েশিয়ায় অনিশ্চয়তা

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কি ঘটছে আজ মালয়েশিয়ায়

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত