অজানা ভয়-শঙ্কা নিয়ে পাকিস্তানে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার

খেলা ২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১০

সেই ২০০৮-এ সর্বশেষ পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ২০১৩তে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) জোর চেষ্টা ছিল টাইগারদের পাকিস্তান সফরে নেয়ার। কিন্তু সেবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সফর বাতিল করে। পরবর্তীতে সে জন্য মোটা অংকের ক্ষতিপূরণও দেয় বিসিবি। এবার কেবল পিসিবি-ই নয়, পাকিস্তান সরকারও দারুণ চাপ প্রয়োগ করে। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি পেয়ে বিসিবি রাজি হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রথম দফায় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে গতকাল দেশ ছাড়ে টাইগাররা। রাতেই তারা বিমানের বিশেষ ভাড়া করা ফ্লাইটে লাহোর পৌঁছে।
এরই মধ্যে পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে ১০ হাজার পোশাকধারী নিরাপত্তা কর্মী থাকবে এই সিরিজে। এছড়াও সাদা পোশাকেও রাখা হবে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। তবে এত নিরাপত্তার মাঝেও যে আছে অজানা ভয় আর শঙ্কা! কী হবে কী হবে, সেই ভয় যেন পিছু ছাড়ছে না। কতটা নিরাপদ পাকিস্তান! এই বিষয়ে বিসিবি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ আছে ও চলছে। তারা (পিসিবি) আমাদের সফরে যাওয়া নিশ্চিত করার আগে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা দিবে। তারা যে শুধু মুখেই বলছে তা নয়, তারা কি ধরনের নিরাপত্তা দিবে তার একটি প্রেজেন্টটেশনও দেখিয়েছে। সেই সঙ্গে আমাদের কাছে নিরাপত্তার যে প্রতিবেদন আছে তাতে মনে হয়েছে পাকিস্তান আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংগঠিত ও সতর্ক এই সব বিষয়ে।’

অন্যদিকে বিসিবির শীর্ষ এক কমকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন পাকিস্তানই কোন সুযোগ দিতে চাইবে না নিরাপত্তা নিয়ে। সূত্রটি বলেন, ‘আসলে কোনো কিছু যদি হয় তাহলে কিন্তু পাকিস্তানেরই বিপদ। তাদের দেশে ফের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে। আর সেই কারণেই তারা এতটাই নিরাপত্তা কঠিন করবে যেন কেউ কোনো সুযোগ নিতে না পারে।’ হ্যাঁ, এই সফর নিয়ে পাকিস্তানই চাপে আছে এটি সত্যি। কারণ ২০০৯-এ শ্রীলঙ্কা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে তাদের দেশে আন্তুর্জাতিক ক্রিকেটই বন্ধ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর জিম্বাবুয়ে ছাড়া আর কোনো দেশই পাকিস্তান সফরে যায়নি। সবশেষ  গেল বছরের শেষ দিকে ফের পূর্নাঙ্গ সিরিজ খেলতে পাকিস্তান সফরে যায় শ্রীলঙ্কা। তারপর থেকে বাংলাদেশের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবে এই সফরে না গিয়েও বাংলাদেশের উপায় ছিল না। সিরিজে টি-টোয়েন্টি ছাড়াও  টেস্ট চ্যাম্পিয়ানশিপের দুটি ম্যাচ রয়েছে। যদি সফরে না যায় তাহলে পাকিস্তান পয়েন্টগুলো পেয়ে যাবে না খেলেই। সব কিছু মিলিয়ে বিসিবি ৩ দফায় সফরে যেতে রাজি হয়েছে। প্রথম দফায় কাল থেকে খেলবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ৩ ম্যাচ। এরপর ২৮শে জানুয়ারি দেশে ফিরে আসবে। এরপর যাবে একটি টেস্ট খেলতে। ও তৃতীয় দফায় খেলবে একটি ওয়ানডে ও একটি টেস্ট ম্যাচ। এই সফরে শেষ পর্যন্ত একটি ওয়ানডেও যোগ হয়েছে যা এফটিপিতে ছিল না।

টাইগারদের সঙ্গে ৩ জন বিশেষ নিরাপত্তা প্রতিনিধি
গতকাল বাংলাদেশ দলের সঙ্গে পাকিস্তান গেছেন তিনজন বিশেষ নিরাপত্তা প্রতিনিধিও।
এর মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের দুজন ছাড়াও আছেন বিসিবির নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন।

পাকিস্তানেই যোগ দেবেন নয়া বোলিং কোচ গিবসন
পাকিস্তান সফরের ঠিক আগ মুহূর্তে টাইগারদের  পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন ওটিস গিবসন। ২ বছরের জন্য তিনি বিসিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। আর নিয়োগ পেয়েই তিনি সরাসরি পাকিস্তানে গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দিবেন বলে জানিয়েছে বিসিবি। এছাড়াও গতকালই দলের সঙ্গে দেশ ছেড়েছেন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ও ফিজিও জুলিয়ান ক্যালিফাতো। যাচ্ছেন না ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক। মূলত নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই তিনি দলের সঙ্গে যাননি। তবে স্পিন বোলিং কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টরি যাচ্ছেন না অন্য কারণে। তার সঙ্গে কাজের দিন হিসেবে চুক্তির সময় পাকিস্তান সফরের কথা উল্লেখ ছিল না।

২২ বছর পর পাকিস্তানে মিনহাজুল আবেদীন
গতকাল বিশেষ বিমানে ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ছাড়াও দলের সঙ্গে পাকিস্তান গেছেন বিসিবি পরিচালক আকরাম খান ও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। আকরাম খান সর্বশেষ পাকিস্তানে গিয়েছিলেন ২০০৮-এ। আর নান্নু গিয়েছিলেন সেই ১৯৯৮ সালে। ২২ বছর পর পাকিস্তান যাচ্ছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার। গতকাল দেশ ছাড়ার আগে তিনি বলেন, ‘আমি সর্বশেষ পাকিস্তান গিয়েছিলাম ১৯৯৮-এ। হ্যাঁ, অনেক অনেক বছর পরে যাচ্ছি। অনুভূতি যদি বলেন, তেমন কিছু না। একটি সফরে আমরা টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে যাচ্ছি। এবার আমি অন্য ভূমিকায় এটাই পার্থক্য। বেশি কিছু ভাবছি না।’ পাকিস্তান সফরের আগ থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে নানা কথা নানা ভয় ও শঙ্কা। শুধু তাই নয় প্রতিটি সিরিজই খেলতে হবে কঠিন নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে। সর্বক্ষণই বন্দুকধারী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে রাখবে টাইগার ক্রিকেটারদের। ধারণা করা হচ্ছে এমন পরিবেশ ক্রিকেটারদের খেলার মানসিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব থেকেই নয়, সাবেক ক্রিকেটার হিসেবেও ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে সমর্থন দিবেন মিনহাজুল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘আমি যে শুধু প্রধান নির্বাচক তা নয়, একজন সাবেক ক্রিকেটারও। তাই আমার দায়িত্ব থাকবে ক্রিকেটাররা যেন খেলার বাইরে অন্য কিছু নিয়ে না ভাবে। আমি তাদের সঙ্গে আলোচনা হলে এই পরামর্শই দিব তারা যেন খেলার বাইরে অন্য কোন কিছু নিয়ে চিন্তা না করে। আর যারা যাচ্ছেন তারাও আমি মনে করি মানসিকভাবে বেশ শক্ত। আশা করি খেলা নিয়েই ভাববে তারা।’

আপনার মতামত দিন



খেলা অন্যান্য খবর

হেরে শীর্ষস্থান খোয়াল রিয়াল

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০



খেলা সর্বাধিক পঠিত