কুমিল্লায় ধর্ষণ

প্রতিবাদ করায় খুন হন নাছির

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে

শেষের পাতা ২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:১৭

চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দোকানির ছিন্নভিন্ন লাশ উদ্ধারের ঘটনার ১০ দিন পর খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। চা দোকানি নাছিরকে টাকার জন্য নয়, প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ করায় হত্যা করা হয়। মোয়াজ্জেম হোসেন (২৫) এবং অটোরিকশা চালক সানাউল্লাহ (২৪) আটকের পর এ তথ্য জানান, নিহত নাছিরের বাবা রবিউল্লাহসহ পুলিশের একাধিক সূত্র। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন, জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, গত ১৩ই জানুয়ারি সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নাওতলা মাদ্রাসা এলাকা থেকে নাছির উদ্দিনের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন লাশের অংশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সড়ক দুর্ঘটনা বলে সন্দেহ করলেও নিহতের পিতা রবিউল্লাহ দাবি করেছেন তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে তিনি দোকানে রক্তের চিহ্ন দেখান পুলিশকে। চান্দিনা থানা পুলিশও নাওতলা মাদ্রাসা এলাকায় মহাসড়ক সংলগ্ন ওই চা দোকানের কয়েকটি স্থানে ও কম্বলে ছোপ-ছোপ রক্তের দাগ দেখেন। সোমবার রাতে নিহতের পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে চান্দিনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
চাঞ্চল্যকর এমন হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় নানা রকম গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। কেউ বলেন পার্শ্ববর্তী এক দোকানদার নাছির উদ্দিনের বাবা রবিউল্লাহর কাছে টাকা আমানত রেখে যান।

আর রাতে ওই টাকা লুটে নেয়ার জন্য নাছিরকে হত্যা করা হয়। আবার কেউ বা বলেন, হয়তো রাতে কোন ক্রেতার সঙ্গে ঝামেলার ওই ঘটনা ঘটে। এদিকে, ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশসহ একাধিক ঠিম  মাঠে নামে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বুধবার দুপুর ২টায় চান্দিনা এলাকা থেকে মোয়াজ্জেম (২৫) কে আটক করে, তার তথ্যমতে সানাউল্লাহ ও মোয়াজ্জেমই তাকে হত্যা করে। নাওতলা এলাকা থেকে ঘটনার মূল হোতা অটোরিকশা চালক সানাউল্লাহ (২৪)কে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সানাউল্লাহ পেশায় একজন অটোরিকশা চালক।

গত ৭ই জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে সানাউল্লাহ সহ ৪/৫ জন মিলে পার্শ্ববর্তী বাড়ির ১৫ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি দেখে বাঁধা দেয় নাছির। ধর্ষণের পর কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি থাকে। ধর্ষক সানাউল্লাহ প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। প্রতিবন্ধীর পিতা সামাজিক মর্যাদার কারণে মামলা না করে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। সানাউল্লাহ গত ১২ই জানুয়ারি বিকালে নাছির উদ্দিনের দোকানে আসলে নাছির উদ্দিন কেন প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করলো আবার ধর্ষণ করে কিভাবে এলাকায় ঘুরছে এমন প্রশ্ন করলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সানাউল্লাহ। এসময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সবার সামনে নাছির উদ্দিন সানাউল্লাহকে এসব কথা বলায় ক্ষুব্ধ হয়। সানাউল্লাহ রাতে মোয়াজ্জেম নামে অপর একজনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিশোধ নিতে আসে নাছিরের দোকানে। ওই সময় দোকানে থাকা বিদ্যুতের আলোবন্ধ করে নাছিরকে দা দিয়ে মাথায় কোপ দেয়। জীবন বাঁচাতে দৌঁড়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক পারাপারের সময় গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয়। হত্যাকারীদের সামনে নাছিরের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর রক্তমাখা দা ধুয়ে দোকানে রেখে পালিয়ে যায় তারা। গাড়ির চাকার সাথে নাছিরের মরদেহ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ছিটিয়ে পড়ে থাকে মহাসড়ক এলাকায়। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) সাখাওয়াত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আজিমুল আহসান, চান্দিনা থানার (ওসি) মো. আবুল ফয়সল।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

nasir

২০২০-০১-২৩ ১৬:৩৯:০৪

আমরা জারা ধর্ষিন দেখে খুব কস্ট পাই। প্রতিদিন ধর্ষন এর খবর দেখে পাগল হয়ে জাচ্ছি। বিশেষ করে গ্রামে কত আজানা মা বন ধর্ষিত হয়ে মামলাও করে না। লজ্জায় অথবা জানে মামলা করে বিচার হবে না। জারা বিচারের সাথে জড়িত তারা কিভাবে এত নির্লিপ্ত থাকতে পারেন ভেবে অবাক হই।

আপনার মতামত দিন



শেষের পাতা অন্যান্য খবর

নাঈমে শেষ বিকালে স্বস্তি

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কলকাতার ডায়েরি

কলকাতায় চলবে লন্ডনের মতো ছাদ খোলা দোতলা বাস

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত