অলিক প্রতিশ্রুতি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রথম পাতা ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৩০

ইতিহাসের শহর ঢাকা এখন রীতিমতো প্রতিশ্রুতির শহর। লোকে এসব নিয়ে খুব বেশি ভাবেন কি-না সে বাহাস আলাদা। কিন্তু কানপাতলেই প্রতিশ্রুতি আর আশাবাদের কথা চারপাশে। মাইকে গান। পোস্টার ফেস্টুনে ছেয়ে আছে অলিগলি। প্রার্থীদের বিরামহীন প্রচারণা। এখন পর্যন্ত কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া অনেকটা উৎসবমুখর পরিবেশ। জমজমাট প্রচারণায় প্রার্থীরা ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা তুলে ধরছেন তাদের নিজ নিজ উন্নয়ন পরিকল্পনা। নির্বাচনের আগ মুহুর্তে তাদের এমন কিছু প্রতিশ্রুতি আছে যা সাধারণ ভোটারদের কাছেই অলীক বলে ঠেকছে। এছাড়া বছরের পর বছর যেসব সমস্যা সমাধানের কোন সূত্র বের হয়নি তা হঠাৎ করেই কিভাবে বদলে দেয়া যাবে এ নিয়েও আছে প্রশ্ন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চার মেয়র প্রার্থী এখনও নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেননি। আগামী দুই এক দিনের মধ্যে তারা তাদের সব পরিকল্পনা ইশতেহার আকারে প্রকাশ করবেন। তবে নির্বাচনী প্রচার ও সভা-সমাবেশে তারা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ঢাকা-১০ আসনের তিন বারের এমপি শেখ ফজলে নূর তাপস নির্বাচনী প্রচারে সুশাসিত, সুন্দর, ঐতিহ্যমন্ডিত, সচল ও উন্নত ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কঠিন হলেও এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন এমনটিই বলে আসছেন। পুরান ঢাকার খাল দখলমুক্ত করা, পুরনো ভবন সংরক্ষণ, বুড়িগঙ্গা নদীকে দুষণমুক্ত করে নান্দনিক করে গড়ে তুলবেন। হকার পুর্নবাসন করে রাস্তা হকারমুক্ত করারও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। এছাড়া নগরভবনের সেবা ২৪ ঘণ্টাই চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এ মেয়র প্রার্থী। দক্ষিণে বিএনপির মেয়র প্রার্থী অবিভক্ত ঢাকার সর্বশেষ নির্বাচিত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন। তরুণ এই প্রকৌশলী নির্বাচনী প্রচারে ঢাকা ঘিরে তার নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ভোটারদের। নির্বাচিত হলে তিনি নগরভবনকে দুর্নীতিমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এছাড়া ঢাকাকে নতুন করে সাজানো, যানজট দুর করার প্রতিশ্রুতিও আছে তার। এ প্রার্থী অভিযোগ করে আসছেন, অতীতে যারা নগরের দায়িত্বে ছিলেন তারা সমস্যা দূর করতে পারেননি। বরং দিনে দিনে সমস্যা এখন জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। নগর সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি আছে বিরোধী দলের প্রার্থীর তরফে। তবে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হলেও প্রতিশ্রুতি পুরণে কতোটা সুযোগ মিলবে এ নিয়েও নানা আলোচনা আছে।

অন্যদিকে উত্তরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম সর্বশেষ নয় মাস এই সিটির মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। দায়িত্ব ছেড়ে তিনি আবার প্রার্থী হয়েছেন। আবারও নির্বাচিত হলে ঢাকাকে আরও সুশৃঙ্খল, যানজটমুক্ত এবং বাসযোগ করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ঢাকায় নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নে কয়েক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন তিনি। এ মেয়র প্রার্থী বলছেন, এসব কাজ বাস্তবায়ন হলে নতুন ওয়ার্ডগুলো গুলশান-বনানীর চেয়েও উন্নত হবে। এছাড়া নির্বাচিত হলে প্রথম তিন মাসেই ঢাকাকে যানজট মুক্ত করার কথা বলছেন তিনি। আতিকুল ইসলাম এমন প্রতিশ্রুতি দিলেও তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী এমন প্রতিশ্রুতির বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলছেন, নয় মাসে যে সমস্যা সমাধান করা যায়নি তিন মাসে তার সমাধান হবে কিভাবে?  এছাড়া নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডের ভোটাররা প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি খুব একটা আস্থা রাখতে পারছেন না। এসব ওয়ার্ডে নাগরিক সুবিধা খুব একটা নেই। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, পানি, গ্যাসসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এসব ওয়ার্ডের সমস্যা সমাধান সহজ নয় বলেও মনে করছেন তারা। এ সিটিতে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল নির্বাচনী প্রচারণায় নগর সরকার গঠনসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির কথাও আসছে।

এছাড়া নারীবান্ধব কর্মসূচি নেয়ার কথাও বলছেন তিনি। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাত্রিকালীন নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন তিনি। অনেকে বলছেন, নগর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয় আসা রাজনৈতিক বক্তব্য। মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীরাও নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিতে ভোটাররাও অনেক সময় বিব্রত হচ্ছেন। শুক্রবার উত্তর সিটির সাত নম্বর ওয়ার্ডের একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর লিফলেট বিতরণ করা হয় এলাকার বিভিন্ন মসজিদে। ওই লিফলেটে তিনি এলাকার সব মসজিদ মাদ্রাসাকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া পাশের একটি ওয়ার্ডের একজন প্রার্র্থী এলাকার সব ছিন্নমূল মানুষের জন্য খাস জমি বরাদ্দ নিয়ে আবাসনের ব্যবস্থা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এমন অনেক কাউন্সিলর প্রার্থী আছেন যারা এমন সব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যা তাদের এখতিয়ারে নেই।
গতকালের প্রচারণা

পুরান ঢাকার খালগুলো দখলমুক্ত করা হবে: পুরান ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ও ঐতিহ্যরক্ষায় নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, পুরান ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে। সেইসঙ্গে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যকে এমনভাবে তুলে ধরা হবে যাতে বিদেশি অতিথিরা ঢাকাকে দেখতে আসেন। গতকাল তাপস পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালান।

গেণ্ডারিয়া থানার নারিন্দা এলাকার গড়িয়ার মঠ এলাকায় এক পথসভায় তিনি বলেন, পুরান ঢাকার অনেক খাল আছে যেগুলো দখল হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এই খালগুলো ভুমিদস্যুদের থেকে দখলমুক্ত করতে পারেনি। আমরা সুন্দর ঢাকা গড়তে এই খালগুলো উদ্ধার করে ওয়াসার সঙ্গে সম্বনয় করে নান্দনিক বিনোদন কেন্দ্র উপস্থাপন করব।
তাপস বলেন, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ করে এর নিজস্বতা বজায় রেখে সংরক্ষণ করা হবে। আমরা ঐতিহ্যের ঢাকাকে পুনর্জীবিত করব। যেন বিশ্ববাসী পর্যটক হিসেবে এসে এসব উপভোগ করেন। আমরা ঢাকাবাসীকে ৩০ বছর মেয়াদী যে মহাপরিকল্পনা দিয়েছি তা ঢাকাবাসী উৎসাহ নিয়ে গ্রহণ করেছেন। আমি আশা রাখি আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে সেবক হিসেবে কাজ করবার সুযোগ দেবেন।

গতকাল নির্বাচনী প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ঢাকা সিটির সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফিসহ নেতাকর্মীরা। তাপস এসময় লিফলেট বিতরণ করে ভোট প্রার্থনা করেন। তাপসের সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মুখর করে রাখেন।

প্রতিদিনই ঢাকাবাসীর জন্য পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছি: আগামী ২৭শে জানুয়ারি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। গতকাল নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে তিনি এ কথা জানান। ইশরাক বলেন, আমি প্রত্যেক দিনই ঢাকা বাসীর জন্য নানা পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছি। কিন্তু আমার প্রতিপক্ষের লোকেরা বিন্দুমাত্র ধারণা রাখে না। তারা হয়তো এগুলা শুনছে না। কারণ তারাতো ব্যর্থ। গত ১৩ বছর ধরে তাদের দল ক্ষমতায়, গত নয় বছর ধরে নগরের দায়িত্বে তারা আছে। কিন্তু তারা তো এখনো নগরের কোন পরিবর্তন করতে পারেনি। আর কোন ধরনের পরিবর্তন করতে পারবে বলে মনে হয় না। তারাতো জবাব দেয়ার কোন প্রয়োজন মনে করে না। কারণ তারা জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি। সুতরাং তারা এই নগরের জনগণের জন্য কিছু করতে পারবে বলে আমরা মনে করি না।

শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সাদেক হোসেন খোকা দেশে মৃত্যুবরণ করতে পারেননি অভিযোগ করে ইশরাক বলেন, আজ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। আমি উনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। উনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন। তিনি দেশে মৃত্যুবরণ করতে পারেননি। তিনি মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ওনার পরিবারের দুঃখটা আমি খুব ভাল করে বুঝি। কারণ আমার বাবাও একই ধরনের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। ওনাকেও এই বাংলাদেশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে দেয়া হয় নাই। শুধুমাত্র বিরোধী দলের রাজনীতি করার কারণে। আমি কিছু বলতে চাই না জনগণ দেখছে, মহান আল্লাহ তায়ালা এগুলো দেখছেন। উনি যথা সময়ে এর বিচার করবেন।

তিনি বলেন, চারদিকে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার শুরু হয়েছে। দুঃশাসনের বিপক্ষে গণজোয়ার শুরু হয়েছে। এই দুঃশাসনের বিপক্ষে আপনারা আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে যাবেন এবং ধানের শীষে ভোট দিবেন। এই জনশ্রোত দেখে নির্বাচন এবং বিএনপ্থির বিজয়কে বানচাল করার যে ষড়যন্ত্রের অপচেষ্টা করা হচ্ছে সেটা কখনোই সফল হবে না।

নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনে কোন নোটিশ পেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, আমি এমন ধরনের কোন নোটিশ পাইনি। আমার আইনজীবী যারা কাজ করছেন তাদের সঙ্গে আমার প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হচ্ছে। সেখান থেকে জানতে পারছি এখন পর্যন্ত আমরা কোন নোটিশ পাইনি।

ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো উন্নয়নে আপনি কতটুক কাজ করবেন এমন প্রশ্নে ইশরাক বলেন, আমি আমার বাবার রাজনৈতিক আদর্শকে মনে-প্রাণে ধারণ করি। আমি বলতে চাই, আমরা অসাম্প্রদায়িক দেশে বসবাস করি। অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিশ্বাস করি। দীর্ঘকাল ধরে এই এলাকায় আমরা হিন্দু এবং মুসলমান একসাথে বসবাস করে আসছি। এই জায়গায় আমরা কোন সাম্প্রদায়িক শক্তিকে এখানে স্থান দেইনাই। আগামীতেও দেবো না।
পরে ফরিদাবাদে ৪৬ নং ওয়ার্ডের দয়াল বাবা মোতালেব শাহ (রাঃ) এর মাজার জিয়ারত করে ১৫ তম দিনের প্রচারণা শুরু করেন ইশরাক। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে ৪৫ ও ৪০ নং ওয়ার্ড এবং ওয়ারী থানাধীন ৩৯ নং ওয়ার্ডে প্রচারণা ও গণসংযোগ করে গোপীবাগ বাসভবনে এসে দিনের প্রচারণা শেষ করেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, স্বেচ্ছাসেবক দল মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ  নাগরিক বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

ভোট থেকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে: সরকার ভোট থেকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। যতো বাধাই আসুক মাঠ ছেড়ে যাবো না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। তিনি বলেন, আমরা ধানের শীষকে বিজয়ী করতে মাঠে থাকবো ইনশাআল্লাহ। কোনো বাধাই আমাদের সরাতে পারবে না। শুক্রবার দুপুরে মধ্য বাড্ডার লুৎফুন টাওয়ারের সামনে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তাবিথ বলেন, আপনারা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ধানের শীষে ভোট দিন। ঢাকাকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সাজাতে হলে ধানের শীষের বিকল্প নেই। আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি আমরা সকলে ভোট কেন্দ্র যাবো, ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেব। তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন ৫৪টি ওয়ার্ডে আমরা পায়ে হেঁটে প্রতিটি ভোটারের দ্বারে দ্বারে পৌঁছেছি। ভোট চেয়েছি, দোয়া চেয়েছি। জনগণের যে সাড়া আমি পেয়েছি, তাতে ধানের শীষের বিজয় কেউ রুখতে পারবে না। তিনি বলেন, ধানের শীষে ভোট দিয়ে দুঃশাসন, দুর্নীতি থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে মুক্ত করতে হবে। ঢাকাবাসীর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকায় বিনা অপরাধে, সড়ক দুর্ঘটনায়, ডেঙ্গুতে যে সব লোক মারা গেছেন, অসুস্থ হয়েছেন, এসবের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার করতে হবে। ঢাকাবাসী চান আর কখনোই যেন দুষণের জন্য, ডেঙ্গু আক্রমণের জন্য, দুর্নীতির জন্য কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। পথসভায় জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফিজুর রহমান ইরান, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দপ্তর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি বজলুল বাসির আঞ্জু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র নির্বাচনে ধানের শীষ বিজয়ী হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন সরকার গঠন করার ঘোষণা দিয়ে তাবিথের পথসভায় আ স ম আব্দুর রব বলেন, ঢাকায় বিএনপির পক্ষে গণ জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীরা যদি বিজয়ী হয় তবে আমরা মেট্রোপলিটন সরকার গঠন করবো। মেট্রোপলিটন সরকার হলে মেয়রের হাতে পুলিশ প্রশাসন থাকবে। আরও অনেক সুযোগ-সুবিধা পাবে ঢাকাবাসী। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্য বলেন, পুলিশ ভাইরা জনগণের বিপক্ষে গিয়ে কাজ করবেন না। আপনারা জনগণের সেবক। নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করুন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ঢাকাবাসী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১ তারিখ ধানের শীষে ভোট দেবে। এখন আমাদের দায়িত্ব ঢাকাবাসী যেন তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করতে পারে সেজন্য আমাদের মাঠে থাকা। নির্বাচনের মাঠ ছাড়া যাবে না।

তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। নির্বাচন কমিশন যদি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আমলে না নেয়, তাহলে আপনারা নেতা-কর্মীরাই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবেন। ভোট চোরদের প্রতিহত করতে হবে। কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, এবারের নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি হলে জনগণ ঘরে বসে থাকবে না। ১ তারিখ থেকেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

আমরা ইভিএমের বিপক্ষে এটা স্পষ্ট করে বহুবার বলেছি। প্রতিটি নির্বাচনে বলছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের কথায় কর্ণপাত করছে না। কারণ তারা জানে ভোট চুরির মেশিন ইভিএম ছাড়া সরকার দলের প্রার্থীকে জেতাতে পারবে না। লুৎফন টাওয়ারে পথসভা শেষে তাবিথ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে খালপাড় দিয়ে বনশ্রী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এরপর ২২ নং ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ফয়েজ আহমেদ ফরুকে (ঘুড়ি মার্কা) নিয়ে ঘণ্টা খানেক অলি-গলিতে প্রচার চালান। দুপুর ৩টায় কারওয়ান বাজার পেট্রোবাংলা অফিসের সামনে থেকে ফের গণসংযোগ শুরু করেন। পরে ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আজিজুল রহমান মোছাব্বির ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের প্রার্থী রোকেয়া সুলতানা তামান্নাকে (আনারস মার্কা) নিয়ে খ্রিস্টানপাড়া, তেজতুরি বাজার, ফার্মগেট হলিক্রস কলেজ রোড হয়ে তেজগাঁও রেলস্টেশনে গণসংযোগ করেন। সেখানে তাবিথ আউয়াল বলেন, এই এলাকায় চাঁদাবাজি হয়, মাদকের ছড়াছড়ি। এতে তারুণদের ভবিষ্যৎ বিপদের মুখে। এসবে জড়িয়ে রেখে তরুণদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা হচ্ছে। মেয়র প্রার্থী বলেন, কারওয়ান বাজারে পার্কিং সমস্যা আছে। স্থায়ী ট্রাক স্ট্যান্ড নেই। তাহলে আমরা কীসের উন্নয়নের কথা বলছি। কী উন্নয়ন হয়েছে?

আপনার মতামত দিন



প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

রাজনৈতিক বাহাস

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী

মোদি আসছেন ঢাকা ঘুরে গেল অগ্রবর্তী দল

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার’

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ডাক সঞ্চয়ের মুনাফা কমায় ক্ষোভ, জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়ায় ত্রাহি অবস্থা

মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ে হাত

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সেলফি যখন যম

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত