অনুষ্ঠানে খরচ সোয়া চার কোটি টাকা

বাংলাদেশি ইয়াশরিকা বিয়ে করলেন মার্কিন সমকামী যুবতীকে

মানবজমিন ডেস্ক

এক্সক্লুসিভ ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রোববার

বাংলাদেশি সমকামী নারী ইয়াশরিকা জাহরা হক বিয়ে করলেন আরেক সমকামী নারীকে। তার পছন্দের নারী যুক্তরাষ্ট্রের ইলিকা রুথ কুলি। দু’জন দু’জনকে ভালোবেসে অনেকটা সময় পার করার পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। আর প্রায় ৫ লাখ ডলার খরচ করে তারা সম্প্রতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী নিউ ইয়র্ক টাইমস সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ইয়াশরিকাই সম্ভবত প্রথম বাংলাদেশি সমকামী নারী, যিনি প্রথম উত্তর আমেরিকার আরেক সমকামী নারীকে বিয়ে করলেন। গড়ে তুললেন নিজের মতো করে ভালোবাসার স্বপ্নের ঘর।

এই বিয়ে নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস সংবাদ শিরোনাম করেছে ‘ডে বন্ডেড ওভার ক্যারামেল পাই’।
বিলম্বে প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বলা হয়, গত বছরের ৭ই জুন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ইয়াশরিকা জাহরা হক ও ইলিকা রুথ কুকলি। এ জন্য ব্রুকলিনে গ্রিন বিল্ডিংয়ে আয়োজন করা হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। সেখানে দু’জনকে অতিথিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন তাদের বন্ধু ইজিনে এম ওকপো। এরপর ৯ই জুন তাদের আরেক বন্ধু মাহিন কলিম ব্রুকলিনের ডব্লিউ লফট-এ বাংলাদেশি রীতিতে আরেকটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেন।

ইয়াশরিকা হক যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটানে ফেনউইক অ্যান্ড ওয়েস্ট নামের একটি আইনি প্রতিষ্ঠানে এসোসিয়েট হিসেবে কর্মরত। তার বয়স এখন ৩৪ বছর। তিনি জর্জটাউন থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। আইন শাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেছেন নর্থওয়েস্টার্ন থেকে। তিনি র‌্যাপিড সিটির ইয়াসমিন হক ও ইয়ামিন হকের মেয়ে।

অন্যদিকে কুকলির বয়স ৩১ বছর। তিনি হেয়ারইউএসএ নামের একটি শ্রবণ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ। তিনি গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস থেকে। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস, ডালাস থেকে অর্জন করেছেন অডিওলজিতে ডক্টরেট ডিগ্রি। তিনি হলেন টেক্সাসের ডেনটনের ক্যারোল জি কুকলি এবং জেফ্রে এ কুকলির মেয়ে।
এই দুই ভুবনের দুই যুবতীর প্রাথমিক সাক্ষাৎ হয় সমকামী অধিকার বিষয়ক পার্টি এলজিবিটিকিউ প্রাইড-এ। ২০১৫ সালে ওই পার্টি দিয়েছিলেন ইয়াশরিকা হক। এ সময়ে তিনি চেনেন না এমন সব মানুষকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ইয়াশরিকা হককে ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন তার এক বন্ধু। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি কায়দায় বাংলাদেশি সমকামী ইয়াশরিকা তার পছন্দের নারী সমকামী কুকলিকে বিয়ে করে তাকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছেন।
নিজেদের প্রেমের কথা জানাতে গিয়ে ইয়াশরিকা বলেন, কুকলিকে প্রথম দেখার পর আমার যে কেমন লেগেছিল তা বলতে পারবো না। তখন সে ছিল একা। আমিও তার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলাম। পরের বার দেখা হওয়ার পর আমাদের কথা হয়।

ইয়াশরিকা বলেছেন, এসব মানুষের সবাইকে তিনি চিনতেন না, যারা ওই আয়োজনে তার এপার্টমেন্টে গিয়েছিলেন। তাই সবাইকে জানার ও চেনার চেষ্টা করি। কুকলিকে দেখে আমার যেন হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ওই রাতের পার্টিতে তাকে আমি কমপক্ষে ৫০০০ বার বিয়ার অফার করেছিলাম। এটা স্মরণ করতে পারি। কারণ, এটাই ছিল একমাত্র বিষয়, যার মাধ্যমে আমি তার কাছে আমাকে তুলে ধরতে পারবো।

এর দু’এক মাস পরে তাদের আবার দেখা হয় একটি কার্ড পার্টিতে। ওই সময় মিস কুকলি পরিষ্কার বুঝতে পারেন যে, তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছেন মিস ইয়াশরিকা হক। কুকলির ভাষায়, ঠিক ওই সময়েই আমি বুঝতে পারি যে, ইয়াশরিকা আমার প্রেমে পড়েছে। আমিও তেমনটা হওয়ায় ওই রাতের পুরোটাই আমরা কাটিয়েছি উন্মত্ততায়, বাধাহীনভাবে।

ইয়াশরিকা হক সম্পর্কে কুকলি আরো বলেন, সে খুব বেশি কেয়ারিং। সহানুভূতিশীল, মুক্তমনা। এমন মনখোলা মানুষ আমার জীবনে আমি আর দেখিনি। আরো ভালো করে বলা যায়, তার কাছে জীবন হলো বেঁচে থাকা না হয় মরে যাওয়া। সে যদি আপনার পাশে থাকে তাহলে কোনো কিছুরই তোয়াক্কা নেই।

ইয়াশরিকা হক বলেন, সবকিছু শেষে মনে হচ্ছে, দুটি চুম্বক একসঙ্গে লেগে গেছে। (সাক্ষাতের আগে) ওই সময় পর্যন্ত আমি সিঙ্গেল থাকার চেষ্টা করেছি। আমি চাইনি কেউ একজন আমার সঙ্গে যুক্ত হোক। তাই কার্ড পার্টির রাতে ইয়াশরিকা হক একটি গোপন অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন সেটা। তা হলো একটি ক্যারামেল আপেল পাই।

ইয়াশরিকা বলেন, আমি তাকে এই পাই’য়ের খুব ভালো একটি পিস দিতে চেয়েছিলাম। কুকলির এ বিষয়টি জানা প্রয়োজন ছিল। আমার কাছে এটা ছিল সিকিউরিটি ডিপোজিটের মতো। আর অল্প সময়ের মধ্যে সেই ডিপোজিট থেকে লভ্যাংশ আসতে লাগলো।

কুকলি ফেসবুকের মাধ্যমে ক্যারামেল আপেল পাইয়ের রেসিপি চেয়ে একটি বার্তা পাঠান ইয়াশরিকাকে। এ থেকে তাদের মধ্যে রান্নাঘরেও অভিন্নতা দেখা দেয়। ইয়াশরিকা বলেন, কুকলি অবিশ্বাস্য একজন কুক। প্রতিদিন সে আমাকে দুপুরের খাবার প্রস্তুত করে দেয়। বিষয়টি বিশ্বে খুবই চমৎকার বিষয়। তিনি বলেন, কুকলি রান্না করে। আর আমি বেকিং করি। এসব মিলে আমাদের জীবন সুখের হয়ে উঠেছে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Taher Khan

২০২০-০১-২৬ ২১:০৬:০৮

I also knew them briefly. I also agree (with Laila Haider) that Mr.and Mrs. Huq seemed to be confused about life. Yashrika was crowned Miss South Dakota back in late 1990s. They did not know the true values of religion.

manjur

২০২০-০১-২৬ ২০:৫৬:৫৭

go to hell

Laila Haider

২০২০-০১-২৬ ২০:৩৭:২০

I had a chance to know Mr.Yameen and Mrs. Yasmine. Their two daughters are brilliant and beautiful. But they had to pay the prices for your confusing ideas about life and false pride. I do not know if their first child married anybody. The news published by Manabjamin is a sad news for normal humans.

Muhib Matubbor

২০২০-০১-২৬ ০৬:২৫:১৩

Congratulations and all the best

B. Rashid

২০২০-০১-২৬ ১৬:৫৭:১৬

Pls rethink about publishing this types of news. Hope Manab Zamin can understand our views.

SALMA

২০২০-০১-২৬ ১৪:২৮:১১

Pls don't publish this type of news.

azam faruque

২০২০-০১-২৬ ১৩:২৪:০০

go to hell

Md. Tuhin

২০২০-০১-২৬ ১৩:১৪:৫৫

How can a female be husband? Yashrika you become a nasty sample for Bd.

Shaikh Haque

২০২০-০১-২৬ ০৯:৫২:০৭

Please don't expose this kind of news.

Mohammad Abdul Halim

২০২০-০১-২৬ ০৮:১৬:০৫

Disgusting, Nasty

Dawood

২০২০-০১-২৫ ১৮:০৩:৫২

মানুষ রুপি শয়তা।

আপনার মতামত দিন



এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর

৪৭ বছর পর ভাইবোনের মিলন

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

শিক্ষা-সংস্কৃতি অগ্রসরে

পরিচ্ছন্ন হবিগঞ্জ গড়তে চান জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

অস্তিত্ব হারাতে বসেছে ঝিনাইদহের জিকে সেচ প্রকল্পের খালগুলো

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ঝিনাইদহের জিকে সেচ প্রকল্পের কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৮১৫ কিলোমিটার খালে বর্তমানে ...



এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত