আনসার বাহিনীর সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর থেকে

শেষের পাতা ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে সকলকে কঠোর পরিশ্রম ও সততার সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সেবা  প্রদান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারিগর-এ দুইয়ের সমম্বিত শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে শান্তি, উন্নয়ন এবং দুর্যোগ মোকোবিলায় রোল মডেল হিসেবে সমাদৃত। মাথাপিছু আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ও শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। দারিদ্রের হার আগের তুলনায় অনেক নেমে এসেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রোরেল নির্মাণ, কর্ণফুলী টানেল স্থাপন এ সবই আমাদের উন্নয়নের প্রতি অগ্রযাত্রার বহিঃপ্রকাশ। এছাড়া নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে।
আমরা সবাই একযোগে কাজ করলে বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলাদেশ’ অচিরেই বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পারব- এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪০তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমপৃক্ত একটি বৃহৎ শৃঙ্খলা বাহিনী। এ বাহিনীর কার্যক্রম তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত। এ বাহিনীর সদস্য ৬১ লাখ। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি গ্রামে বা মহল্লায় এ বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। সরকারের যেকোন সচেতনতামূলক কার্যক্রম আনসার- ভিডিপি’র সদস্যদের মাধ্যমে খুব সহজেই তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌছে দেয়া সম্ভব। আমরা এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবো। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাহসিকতা ও কর্মদক্ষতা বর্তমানে সর্বজন স্বীকৃত। বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করছে। বিমান বন্দরের নিরাপত্তায় এ বাহিনীর সদস্যরা ‘এভসেক (এভিয়েশন সিকিউরিটি)’ এর অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। দেশ ও জনপদকে নিরাপদ রাখতে ২টি মহিলা ব্যাটালিয়নসহ এ বাহিনীতে ৪২টি আনসার ব্যাটালিয়ন রয়েছে। পার্বত্য এলাকায় এ বাহিনীর ১৬টি ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে অপারেশনাল ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া নবগঠিত আনসার গার্ড ব্যাটালিয়নের সদস্যরা কূটনৈতিক এলাকা, কূটনৈতিক ব্যক্তি এবং দেশের বিশিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের যে কোন সমস্যা সমাধানে আমাদের সরকার সবসময় আন্তরিক এবং সহানুভূতিশীল। এই বাহিনীর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত আছে। এর আগে সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী একাডেমীতে এসে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ তাঁকে স্বাগত জানান। পরে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সালাম গ্রহণ ও খোলা জীপে করে কুচাওয়াজ পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আকম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস.এম তরিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে সাহসিকতা ও সেবা এই দুই ক্ষেত্রে ৮টি ক্যাটাগরিতে ১৪৩জন আনসার সদস্যকে পদক প্রদান করেন। পরে তিনি আনসার সদস্যদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। আনসার-ভিডিপি সদস্যদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্পের স্টল ঘুরে দেখেন এবং ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী হিসেবে আপনাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন। জননিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে অশুভ শক্তিকে পরাজিত করতে সততা, সাহস ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন। মনে রাখবেন, জনগণ ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা এবং শান্তির পরিবেশ ধরে রাখা আপনাদের পবিত্র দায়িত্ব। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ। আপনারা এ পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০২০-২০২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমি জানতে পেরেছি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘মুজিব বর্ষের উদ্দীপন, আনসার ভিডিপি আছে সারাক্ষণ’ স্লোগানটিকে মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করেছে। এ জন্য আমি বাহিনীর মহাপরিচালকসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্য-সদস্যাবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা এ বাহিনীকে একটি শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। স্বাধীনতা লাভের পর থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনারা সবসময়ই কর্মদক্ষতা ও সফলতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে জাতীয় সঙ্কটময় ও জরুরি মূহুর্তে আপনাদের কর্মতৎপরতা এ বাহিনীকে সরকারের এক নির্ভরযাগ্যে অংশে পরিণত করেছে। জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে দায়িত্বপালন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও মৌলবাদ নির্মূলে আপনাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় আরো বলেন, এ বাহিনীর গর্বিত সদস্য ভাষা শহিদ আনসার কমান্ডার আব্দুল জব্বার ১৯৫২ সালের ২১ এ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার জন্য জীবন বিসর্জন দেন। এ বাহিনীর ১২২৯ বীর সদস্য ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের আম্রকাননে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার প্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
প্রধনমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গঠনের যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, জাতি সে স্বপ্ন পূরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে আমরা প্রবেশ করেছি। সমপ্রতি বিশ্বের ৪১তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। এসবই গত এগার বছরে আমাদের সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলে সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, সমপ্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং ইংরেজি নববর্ষ বরণের সময়ে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা ঠেকাতে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আপনাদের বলিষ্ঠ ও সক্রিয় ভূমিকা দেশবাসী দেখেছে। বিভিন্ন সময়ে দেশের জননিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্বপালনকালে যেসব অকুতোভয় আনসার সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, আমি শ্রদ্ধাভরে তাদের স্মরণ করছি এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আসনার বাহিনীকে ১৯৯৮ সালে সর্বোচ্চ সম্মান জাতীয় পতাকা প্রদান। ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য স্বাধীনতা পদক প্রদান। একটি গার্ড ব্যাটালিয়ান সহ ৪টি আনসার ব্যাটালিয়ন গঠন। রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃৃতি কমপ্লেক্স ও আম্রকানন এর নিরাপত্তার জন্য দুটি আনসার ব্যাটালিয়ন গঠনের কার্যক্রম প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। ব্যাটালিয়নের সাংগঠনিক কাঠামা পুনর্গঠন করে জনবলও বৃদ্ধি করা হয়েছে। আনসার ব্যাটালিয়ন আইন প্রণয়ন করার কার্যক্রম অব্যাহত। উপ-মহাপরিচালক থেকে মহাপরিচালক পর্যন্ত র‌্যাাঙ্ক ব্যাজ সমন্বয় করা হয়েছে । ২০১৯ সালে ৬টি উপ-মহাপরিচালক এবং ১৭টি পরিচালক এর পদ সৃজন করা হয়েছে । বিগত বছরে বাহিনীর কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদবীর ৯৬৬ জন পদোন্নতি পেয়েছেন । আনসার ও ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা। ঝুঁকি ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আপনাদের সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণের বিষয়টি সর্বদাই আমাদের সুদৃষ্টিতে রয়েছে। আপনাদের কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও দৃষ্টান্তমূলক দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি স্বরূপ প্রতিবছর সেবা ও সাহসিকতা পদক আমাদের সরকারই প্রবর্তন করেছে। আজ যারা সেবা ও সাহসিকতা পদক অর্জন করেছেন তাদের আমি জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ বাহিনীর সদস্যগণ খেলাধুলা ও দেশীয় সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। সদ্য সমাপ্ত এসএ গেমস-এ বাংলাদেশের অর্জিত ১৪২টি পদকের মধ্যে ৬৮টি পদক অর্জন করেছে এ বাহিনীর খেলোয়াড়গণ।

আপনার মতামত দিন



শেষের পাতা অন্যান্য খবর

করোনা আতঙ্কে সৌদি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

সিলেটে আটকা পড়লেন হাজারো ওমরাহযাত্রী

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ফের দরপতনের কবলে শেয়ারবাজার

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

এনআরবি’র সেমিনার

প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



মাসে তোলেন কোটি টাকার চাঁদা

কক্সবাজারের কিং রাসেল

বন্ধ রেখেছে চায়না ইস্টার্ন

করোনা আতঙ্কে চীনের সঙ্গে ফ্লাইট কমছে