আমতলীতে তরমুজ আবাদে ব্যস্ত চাষিরা

মো. আবু সাইদ খোকন, (বরগুনা) থেকে

বাংলারজমিন ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার

বরগুনার আমতলী উপজেলার গ্রামাঞ্চলে তরমুজ চাষে ব্যস্ত কৃষকরা। কৃষক পরিবার ঘরে বসে নেই। নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজে নেমে পড়েছে। একটু যেন ফুরসুত নেই। গত বছর শীলা বৃষ্টিতে শত শত একর জমির তরমুজ নষ্ট হওয়াতে অনেক কৃষক মোটা অঙ্কের লোকসান দিয়েছে। এ বছর ঐ কৃষকরা তরমুজ চাষাবাদে আর্থিক সংকটের কারণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। উপজেলার আঠারোগাছিয়া, হলদিয়া, সদর ইউনিয়ন, চাওড়া, কুকুয়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়নের  তরমুজ চাষিরা ইতিমধ্যে জমি চাষাবাদ করে বীজ বপনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এ বছর বীজের দাম গত বছরের তুলনায় কম।
গত বছর তরমুজে লোকসান হওয়াতে অনেক চাষি তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। বাজারে এক কৌটা (১০০ গ্রাম) বিঘা ফ্যামিলি ২৪০০ টাকা, জাগুয়া ২১০০ টাকা ও এশিয়ান বীজ ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা, চন্দ্রা, হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর-দক্ষিণ রাওঘা, কুকুয়ার কৃষ্ণনগর গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা মাঠে কাজ করছে। মাঠের পর মাঠ চাষাবাদ করে তরমুজ বীজ বপনের জন্য গর্ত তৈরি করছে। এ কাজ করতে ঘরের নারী ও শিশুরাও বসে নেই। তারাও পুরুষের পাশাপাশি কাজ করছে। কুকুয়ার সিদ্দিকুর রহমান বলেন,  আমি এ বছর ৭ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। বীজের দাম কম থাকায় গত বছরের তুলনায় এ বছর খরচ কম হবে। তিনি আরো জানান, গত বছর এক কৌটা বিঘা ফ্যামিলি বীজ ক্রয় করেছি সাড়ে চার হাজার টাকায় এ বছর ঐ পরিমাণ বীজ কিনেছি ২৩০০ টাকায়। আমতলী কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর তরমুজের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৭০০ হেক্টর।

এ বছর এ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মাত্র ৫০০ হেক্টর। গত তিন বছর ধরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষকরা ভালো ফল না পাওয়ায় এ বছর তারা তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ কম হয়েছে। বেলে-দোআঁশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় আমতলীতে রসালো তরমুজ চাষ ভালো হয়। মাঘ মাসের শুরুতে চাষিরা তরমুজ চাষ শুরু করে কিন্তু ওই সময়ে আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় তরমুজ চাষ করতে পারেনি। মৌসুম পিছিয়ে পড়া এবং বিগত বছরের লোকসানের ভয়ে এ বছর তরমুজ চাষ করছে না চাষিরা। আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া, কুকুয়া, হলদিয়া ও চাওড়া ইউনিয়নে তরমুজের ফলন ভালো হয়। এ বছর ওই ইউনিয়নের চাষিরা লোকসানের ভয়ে তরমুজ চাষ করছে না। আমতলী উপজেলার কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিম বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত বছর তরমুজ চাষিদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছে। এ কারণে এ বছর কৃষকরা তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজ চাষির সংখ্যা অনেক কম। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হওয়ার ভয়ে কৃষকরা তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।


আপনার মতামত দিন



বাংলারজমিন অন্যান্য খবর

চিলমারীতে যুবকের জরিমানা

৭ এপ্রিল ২০২০

জনগনের সেবা দানের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা মনিটরিং করছেন প্রশাসন ও সেনাবাহিনী। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ...

বন্ধ কামারশালা, উপকরণ শঙ্কায় বোরো আবাদীরা

৭ এপ্রিল ২০২০

হাওর জুড়ে পাকতে শুরু করেছে বোরো ধান। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বন্ধ দোকানপাঠের তালিকায় কামারশালা অন্যতম। ...

ঈশ্বরদীতে দু’টি বাড়িতে বোমা সাদৃশ্য বস্তু : এলাকায় আতংক

৭ এপ্রিল ২০২০

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দিয়াড় বাঘইল গ্রামে পাশাপাশি দু’টি বাড়িতে বড় আকারের বোমা সাদৃশ্য বস্ত রেখে ...

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ টাকার চালে অনিয়মের অভিযোগ, মানববন্ধন

৬ এপ্রিল ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার চম্পকনগর ...

বরগুনায় ১৭ জনকে ৩৯৫০০ টাকা জরিমানা, একজনের জেল

৬ এপ্রিল ২০২০

বরগুনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকান খোলা রাখা, মোটরসাইকেল নিয়ে অযথা ঘুরাঘুরি করা, সামাজিক দুরত্ব বজায় ...

বোরহানউদ্দিনে ৮ জন‌কে জ‌রিমানা

৬ এপ্রিল ২০২০

ভোলার বোরহানউদ্দিনে করোনা ভাইরাস ভাইরাসের  বিস্তার রোধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ৩ মোটরসাইকেল চালক ও ...

নারায়ণগঞ্জ থেকে পালিয়ে চাঁদপুরে যুবক, ৩ বাড়ি লকডাউন

৬ এপ্রিল ২০২০

নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির সংস্পর্শে ছিলেন এক যুবক। সেখানে লকডাউন ঘোষণা করায় ...



বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত