মডেল তৈরির নামে অভিনব প্রতারণা

শুভ্র দেব

শেষের পাতা ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৪

প্রতিকি ছবি
ভুয়া সংগীত পরিচালক সেজে শিল্পী ও মডেল তৈরির নামে অভিনব প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেছিলেন সবুজ শিকদার (২৮)। ফাঁদে ফেলে উঠতি শিল্পী ও মডেলদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। শুধু টাকা নয় বিভিন্ন বয়সী তরুণীদের কাজে সুযোগ করে দেয়ার জন্য অনৈতিক প্রস্তাবও দিতেন। প্রস্তাবে রাজি হলে নিম্নমানের কাজে সুযোগ দিতেন। আর তা না হলে বড় অংকের টাকা দিয়েও কাজ জুটত না। এছাড়া গান গাওয়ার সুযোগ দেয়ার নামেও উঠতি তরুণ শিল্পীদের কাছ থেকে নিতেন টাকা। কিন্তু বাস্তবে তিনি কোনো কাজের সুযোগই করে দিতে পারতেন না। উল্টো টাকা নিয়ে দিনের পর দিন তাদের ঘুরাতেন।
সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা ও ক্রাইম ডিভিশন ওই ভুয়া সঙ্গীত পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার বিকাল তিনটার দিকে ঢাকার বেইলী রোড কেএফসির সামনে থেকে মো. সবুজ শিকদারকে গ্রেপ্তার করে সাইবার ক্রাইমের একটি টিম। এরপর তার কাছ থেকে পাওয়া গেছে প্রতারণার নানা তথ্য।
ডিএমপির সাইবার ইউনিট সূত্র জানায়, এ সময়ের ব্যস্ত সঙ্গীত পরিচালক আবু সাজিদ সরকারের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি তৈরি করেছিলেন গ্রেপ্তার সবুজ শিকদার। পরে সাজিদ সরকারের সুর করা বিভিন্ন গান নিয়ে তার ফেসবুক আইডি থেকে প্রচারণা শুরু করে। এতে করে আসল সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার সাজিদ সরকারের ভক্ত ও অনুসারিরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করে। উঠতি বয়সী সঙ্গীত শিল্পী ও মডেলরা তাকে গান গাওয়া ও বিভিন্ন গানে মডেল করার প্রস্তাব দিতে থাকে। আর এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে সবুজ শিকদার এসব উঠতি শিল্পী ও মডেলকে টাকার প্রস্তাব দেয়।  বিশেষ করে তরুণীদের অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দিয়ে বলে গানে ও মডেলিংয়ে সুযোগ করে দেয়া হবে। শুধু তাই নয় তার প্রতারণা থেকে বাদ যাননি দীর্ঘদিন ধরে কাজ না করা অনেক সিনিয়র শিল্পীরা।
ভুক্তভোগী ও সাইবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার সাজিদ সরকারের ‘ছুয়ে দিলে মন’ ‘তাই তোমার খেয়াল’ ‘বুকের বা পাশে’ ‘একটাই তুমি’ এরকম অসংখ্য গান সবুজ শিকদার তার ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে প্রচার করতো। তার এসব প্রচারণা দেখে অনেকেই সুযোগ পাবার আশায় তাকে নক করতো। এভাবে গত দেড় থেকে দুই বছরে অন্তত অর্ধশতাধিক লোকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আসল সাজিদ সরকারের পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গানের সুর করে দেয়ার কথা বলে বিকাশে টাকা নিত।
সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার আবু সাজিদ সরকার বলেন, আমার গানগুলো নিজের নামে শেয়ার করে মানুষকে বলে বেড়াতো গানগুলো সে নিজেই করেছে। পরে মানুষ তাকে কাজের জন্য নক করে। কাজের কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। সব কিছু সে আমার পরিচয়ে করতো। এর আগে আমি কয়েকবার আমার আইডি থেকে পোষ্ট দিয়ে মানুষকে জানিয়েছি। তার আইডি ডিসেবল করিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সেলিব্রেটিদের সঙ্গে ফ্যান হিসেবে ছবি তুলতো। তারপর ছবি ফেসবুকে শেয়ার করতো। মানুষ তার ছবিতে লাইক কমেন্ট করতো। সে বুঝাতে চাইতো তারকাদের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ আছে। অনেকেই তারকা শিল্পীদের সঙ্গে ডুয়েট গাইতে চাইতো। এভাবে ডুয়েট গান করানো ও মডেলিংয়ে সুযোগ দেবার নামে টাকা নিত। সাজিদ বলেন, ভুক্তভোগীদের অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের মধ্যে অনেক নারী রয়েছেন। ওই প্রতারক তাদেরকে গানের মডেল বানানোর লোভ দেখিয়ে বাসায় যেতে বলতো। আবার কখনও কোথাও ঘুরতে বা রেস্তোরায় যেতে বলতো। তার নিজের কোনো ইউটিউব চ্যানেল বা কোনো স্টুডিও নাই। মাঝেমধ্যে মানুষের কাছ থেকে কাজ নিয়ে অন্য কোনো স্টুডিও থেকে করাতো। যাদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা নিত তাদের এমন কাজ দিতো উল্টো তারা কাজ না করে টাকা ফেরত নিতে চাইতো। তিনি বলেন, আমার পরিচিত মাহবুব মিনাল, পাপ্পু হাসান ও দারা খানও তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদের কাছ থেকেও সে টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে।
ডিএমপির সাইবার নিরাপত্তা ও ক্রাইম ডিভিশনের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, আসল সঙ্গীত পরিচালকের বেশ কিছু গান ভুয়া আইডি তৈরি করে তার নামে প্রচার করে আসছিলো। অনেক তরুণীদের  সে অনৈতিক প্রস্তাব দিত। মিডিয়াতে সে সাজিদ সরকার নামেই পরিচয় দিয়ে আসছে। এতে আসল সাজিদ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণার কারণে আসল সঙ্গীত পরিচালক হেয় হচ্ছিলেন। তাই আমরা সাজিদ সরকারের অভিযোগের প্রেক্ষিতেই ওই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছি। ডিএমপির আদাবর থানায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। রিমাণ্ডে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আপনার মতামত দিন



শেষের পাতা অন্যান্য খবর

বড় সংকটে শ্রমবাজার

২৭ মার্চ ২০২০

করোনা ভাইরাস নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে সংক্রমণ

২৭ মার্চ ২০২০

আতঙ্কের জনপদ নিউ ইয়র্ক

আরো চার বাংলাদেশির মৃত্যু

২৬ মার্চ ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত