একজন সফল প্রশাসক

জহিরুল ইসলাম, লালমাই (কুমিল্লা) থেকে

অনলাইন ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার, ৬:০৬

তারুণ্যদীপ্ত  ইউএনও কে.এম. ইয়াসির আরাফাত সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছেন কুমিল্লার নবগঠিত লালমাইয়ের মাঠ প্রশাসনে। সব সময় ছুটে চলছেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ‘জনসেবার জন্য প্রশাসন’ এ সেøাগানকে সামনে রেখে ‘উন্নত বাংলাদেশ’ গড়তে অবিরাম গতিতে তার উদ্যম উৎসাহে এগিয়ে চলছে লালমাই উপজেলা প্রশাসন। অনিয়ম-দুর্নীতির আঁধার কেটে আলোর মিছিলে জেগেছে লালমাইয়ের সমাজ-সভ্যতা। জনসাধারণের অধিকার আদায়ে তিনি যেন একজন স্বপ্নরাজ।
কে.এম ইয়াসির আরাফাত চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার ছনহরা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিষয়ে অনার্সসহ মাস্টার্স সম্পন্ন করে ৩০তম বিসিএস (প্রশাসন) এর মাধ্যমে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ২০১২ সালে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি শরিয়তপুর জেলায় সহকারী কমিশনার, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে শরিয়তপুরে স্বচ্ছভাবে পদ্মা সেতুর জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন এবং নোয়াখালীতে চৌমুহনী খাল দখলমুক্ত করে তিনি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন।

২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি নবগঠিত লালমাই উপজেলার প্রথম উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। ভারতের দেরাদুন প্রদেশে অবস্থিত মৌসরিহতে লাল বাহাদুর শাস্ত্রি ন্যাশনাল একাডেমি থেকে প্রশাসন সংক্রান্ত উচ্চতর প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ১৯শে ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা সদর দক্ষিণের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুপালী মন্ডল থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
উপজেলার বাগমারা দক্ষিণের অশ্বথতলায় ভাড়ায় নেয়া একটি বহুতল ভবনে অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করে পর্যায়ক্রমে সরকারি সকল দপ্তর কে সক্রিয় করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে তিনি নিজের কার্যালয়ে (লাল রং) একটি চেয়ার সংরক্ষিত করেছেন। নিজ অফিসে স্থাপন করেছেন মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু কর্ণার। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যা সমাধান করতে প্রতি বুধবার নিজ কার্যালয়ে আয়োজন করেন গণ শুনানী। ইএনও অফিসসহ উপজেলার সকল দপ্তরকে সার্বক্ষণিক তদারকি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় নেয়া হয়েছে।
দায়িত্ব নেয়ার পরপরই তিনি সরকারি সেবাগুলোকে সর্বাত্মক স্বচ্ছতার সাথে সাধারণ জনগণের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। শিক্ষাকে সর্বজনীন, গুণগত ও মানসম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে প্রাথমিক শিক্ষার ওপর কাজ শুরু করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও ঝরেপড়া রোধকল্পে বিদ্যালয় পরিদর্শন, অভিভাবক সমাবেশ, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, মিড ডে মিল উপকরণ (টিফিন বক্স) বিতরণ, শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখাসহ বিদ্যালয়কে শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহন করেন। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীরের নির্দেশনায় ও ইউএনও’র তত্ত্বাবধানে উপজেলার ৬৭টি  প্রাথমিক বিদ্যালয় এ মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার, বঙ্গবন্ধু কর্ণার, সততা স্টোর, মহানুভবতার  দেয়াল প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তিনি উপজেলার সবকয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারিভাবে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ডিজিটাল হাজিরা চালু করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ৪৮টি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় স্কাউট, সততা সংঘ, আইসিটি ক্লাব ও ডিবেটিং ক্লাব স্থাপন করেন এবং শিক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করেন। বাল্য বিবাহ, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং বন্ধসহ ভূমি খেকোদের কবল থেকে নদী-কৃষি জমির মাটি রক্ষায় নিয়মিত মোবাইল কোট পরিচালনা করেন। বাজার মনিটরিং এর মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতি রোধ, খাদ্যের গুণগত মান উন্নয়নসহ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। লালমাই উপজেলার বীরমুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক বলেন, নিজ কার্যালয়ে বীরমুক্তিযোদ্ধাদের জন্য লাল চেয়ার সংরক্ষণ করে দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মানিত করেছেন লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়। আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। বাকই উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান আইউব আলী বলেন, লাকসামে থাকাকালীন আমরা সরকারি অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলাম। নবগঠিত লালমাই উপজেলায় অর্ন্তভুক্ত হয়ে গত দু’বছরে উন্নয়নে বাকই উত্তর অনেক এগিয়েছে। এজন্য আমরা লালমাই উপজেলার সুযোগ্য নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের নিকট কৃতজ্ঞ।
লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম ইয়াসির আরাফাত বলেন, অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল এফসিএ লোটাস কামাল এমপি মহোদয়ের স্বপ্নের উপজেলা ‘লালমাই’। তাঁর দিক নির্দেশনায় নবগঠিত এ উপজেলাকে মডেল উপজেলায় রুপান্তর করতে দিন রাত কাজ যাচ্ছি। গত দু’বছরে লালমাই উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করায় উপজেলার সকল বীরমুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
 

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi

২০২০-০২-১৮ ১৬:০৪:২৩

উনার মত সব সরকারী কর্মকর্তা হলে দেশ স্বর্গে পরিণত হত। উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়ে চীনের ও উন্নত দেশ সমুহের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারত। সব সরকারী কর্মকর্তা একবার চেষ্টা করবেন কি ???????

আপনার মতামত দিন



অনলাইন অন্যান্য খবর

বেড়েই চলছে চালের দাম

৩০ মার্চ ২০২০



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত