এমপি রতনকে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রথম পাতা ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৯

ক্ষমতাসীন দলের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংস্থাটির প্রধান কাযালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল এমপি রতনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কোনো অবৈধ সম্পদ নেই। একটি পক্ষ রাজনৈতিকভাবে আমাকে হয়রানি করছে। আমি নিজেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম। অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি  আওয়ামী লীগের ৩০টি অফিস করে দিয়েছি। আমার কোনো অবৈধ সম্পদ নেই।
কানাডায় বাড়ি আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার কোনো অবৈধ সম্পদ নেই। বিদেশে আমার কোনো বাড়ি নেই। এর আগে ১০ই ফেব্রুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এমপি রতনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুদক। সংস্থাটির পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে বলা হয়, আলোচিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পরস্পর যোগসাজশে ঘুষ দেয়া-নেয়ার মাধ্যমে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্যাসিনো ব্যবসা ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্জন পূর্বক বিদেশে পাচার ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে এমপি রতনের বিরুদ্ধে। এর আগে ২৪ অক্টোবর দুদক থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ইমিগ্রেশন বরাবর পাঠানো চিঠিতে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। চিঠিতে দেশে মানিলন্ডারিংসহ বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ এবং দুদকের অনুসন্ধানে বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়ে বলা হয়।

গত বছর ১৮ই সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপি শুরু হওয়া শুদ্ধি অভিযানের পর থেকেই এমপি রতনের নাম উঠে আসে। দুদক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিক অভিযোগপত্র জমা পড়ে তার বিরুদ্ধে। এমপি রতনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সূত্র বলছে, এমপি রতন ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঠিকাদারী ও সরকারি অর্থ আত্মসাতসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজধানী ঢাকা, সুনামগঞ্জ, ধর্মপাশা, নেত্রকোনা ও মোহনগঞ্জে ১৩টি বাড়ির মালিক। এর মধ্যে ধর্মপাশায় নিজ গ্রামে ১০ কোটি টাকায় ‘হাওর বাংলা’ নামে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাড়িটির অধিকাংশ জমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছ থেকে দখল করা। সুনামগঞ্জ শহরের মল্লিকপুরে জেলা পুলিশ লাইনসের বিপরীতে ৭ কোটি টাকায় বাড়ি কিনেন রতন। যার নাম দেয়া হয়েছে ‘পায়েল পিউ’।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

ওমর ফারুক

২০২০-০২-১৮ ১৭:৫৫:০২

প্রভাবিত না হয়ে সঠিক তদন্তে সব কিছুরই প্রমাণ পাওয়া যাবে। সম্রাট ও বলেছিল "কোন অবৈধ সম্পদ নেই" কিন্তু তদন্তে প্রমাণিত বলেই এখন কারাগারে।

আপনার মতামত দিন



প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

‘লকডাউন’

২৭ মার্চ ২০২০

ছুটির নোটিশ

২৬ মার্চ ২০২০

আজ ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মানবজমিন-এর সকল বিভাগ বন্ধ থাকবে। তবে ...



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত