করোনা আতঙ্কে রোগী শূন্য কমলগঞ্জ হাসপাতাল

সাজিদুর রহমান সাজু, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) থেকে

বাংলারজমিন ২৫ মার্চ ২০২০, বুধবার

রোগ-বালাই হলে মানুষ হাসপাতালে ছুটে গিয়ে শরণাপন্ন হন চিকিৎসকের। প্রান রক্ষাকারী সেই প্রতিষ্ঠান আজ রোগী শূন্য। রহস্যময় প্রাণঘাতী করোনার আতঙ্কে কমলগঞ্জ উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছেড়ে বাড়ি ছুটে গেছেন রোগীরা। অথচ দুই দিন আগেও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুসহ অনেক রোগী ছিল এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রোগী শূন্য হয়ে পড়ে কমলগঞ্জের এ হাসপাতালটি। বিকালে সাড়ে ৫ টার পরে মাইসা আক্তার নামের অসুস্থ্য শিশু রোগীকে নিয়ে শিশুটির মা শেফালী ফিরে গেছেন বাড়ি। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুটির মা বলেন,করোনা ভাইরাসের ভয়ে স্বজন কেউই তাকে দেখতে হাসপাতালে আসেননি। রোগী শূণ্য হাসপাতালে শিশুটিকে নিয়ে অবস্থান করতে ভয় পাচ্ছেন।
তাই শিশুটি সুস্থ্য হওয়ার আগেই বুকে আগলে হাসপাতাল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় ওই ওয়ার্ডে পৌছে তাদের ছবি তুলতে চাইলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শিশুটির মা। মায়ের কান্নায় ৭ মাসের অবুঝ শিশুটিও কান্না শুরু করলে ছবি তুলার খেয় হারিয়ে ফেলি।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে গত এক সাপ্তাহ ধরে হাসপাতালের আউটডোর-ইনডোরে শত শত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন চিকিৎসকরা। অথচ ভাইরাস থেকে রক্ষার তাদের নেই কোনো পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই)। ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষা করতে সরকারিভাবে তাদের দেয়া হয়নি বিশেষ কোনো পোশাক। আদৌ কি সরকারি ভাবে তাদের কোনো বিশেষ পোশাক দেয়া হবে তাও কেউ বলতে পারছেন না। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ২০টি আইসোলিউসিন সিট তৈরী রাখলেও, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষার জন্য এখনও পর্যন্ত এ স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে পৌঁছেনি কীট। হাসপাতালের আউটডোর এবং ইনডোরে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষার কোনো পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) না থাকলেও গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে চিকিৎসক ও নার্সরা স্ব-স্ব উদ্যোগে রিংকোট ক্রয় করে তা পরিধান করে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুবুল আলম ভুঁইয়া বলেন, গত দুইদিন মানুষ আতঙ্কে হাসপাতালের আউটডোরে ভিড় করলেও ভয়ে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হননি। রোববার ১২ জন ও সোমবার ৬ জন রোগী ভর্তি ছিল। আজ বিকালে একমাত্র শিশু রোগী হাসপাতাল ছাড়ায় হাসপাতালের সব ওয়ার্ড গুলোই খালি হয়ে গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুবুল আলম ভুঁইয়া বলেন, আজ-কালের মধ্যে চিকিৎসকদের করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষার সরঞ্জাম হাসপাতালে পৌছে যাবে।

আপনার মতামত দিন



বাংলারজমিন অন্যান্য খবর

দেবিদ্বারে করোনা আক্রান্ত জেলা পরিষদ সদস্যের বাড়ি লকডাউন

৫ এপ্রিল ২০২০

কুমিল্লার দেবিদ্বারে জেলা পরিষদ সদস্য মো. শাহজাহান সরকারের বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার ...

কক্সবাজারে করোনা পজিটিভ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ীর পথে

৫ এপ্রিল ২০২০

কক্সবাজারের একমাত্র করোনা জীবাণু আক্রান্তরোগী মুসলিমা খাতুন সুস্থ হয়ে একন বাড়ির পথে। আজ বেলা ২ ...

ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে ১২ দিনে ১২১ জনের নমুনা পরীক্ষা, পজেটিভ ১

৫ এপ্রিল ২০২০

করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ১২ দিনে ১২১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে সীতাকুন্ডের ফৌজদারহাটে অবস্থিত ...

গোয়াইনঘাটে করোনা সন্দেহে দুজনের নমুনা সংগ্রহ

৫ এপ্রিল ২০২০

সিলেটের গোয়াইনঘাটে করোণা সন্দেহে দুজনের নমুনা সংগ্রহ করেন গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের ...

বান্দরবানে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

৫ এপ্রিল ২০২০

বান্দরবানে বিদুৎস্পৃষ্টে রোববার সকালে বাবু বড়ুয়া (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা ...

মানবজমিন টেকনাফ প্রতিনিধির মায়ের ইন্তেকাল

৫ এপ্রিল ২০২০

মানবজমিন টেকনাফ প্রতিনিধি আমানউল্লাহ কবিরের মাতা রোববার বিকাল ৫ টায় নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না-লিল্লাহ... ...



বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত