পিটিআইয়ের রিপোর্ট

‘চীন করোনা ভাইরাস সৃষ্টি করেনি, ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়েও দেয়নি’- চীনা মুখপাত্র

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২৬ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার

চীন করোনা ভাইরাস সৃষ্টিও করেনি, তা ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়েও দেয় নি। করোনা ভাইরাসকে ‘চাইনিজ ভাইরাস’ অথবা ‘উহান ভাইরাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করার জবাবে একথা বলেছেন ভারতে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র জি রং। তিনি বলেছেন, চীনকে এভাবে দোষারোপ না করে কিভাবে দ্রুততার সঙ্গে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, সেদিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। এ খবর দিয়েছে ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই।

এতে বলা হয়, ভারত ও চীন এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেন জি রং। তিনি বলেন, এই মহামারির সময়ে এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত ও চীন একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। এক পক্ষ অন্যপক্ষকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। চীনকে মেডিকেল সহায়তা দিয়েছে ভারত।
এ ছাড়া সংক্রামক এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে নানাবিধ উপায়ে সমর্থন জানিয়েছে। এ জন্য ভারতের প্রশংসা করে চীন এবং তাদেরকে ধন্যবাদ জানায়।

জি রং বলেন, যেসব মানুষ চীনের উদ্যোগকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করছে, তারা চীনের মানুষদের আত্মত্যাগকে অবজ্ঞা করছে। তিনি আরো বলেন, যদিও চীনের উহান শহরে প্রথম এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে, তা সত্ত্বেও এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, এই করোনা ভাইরাসের উৎস চীন। জি রং বলেন, নোভেল করোনা ভাইরাসের অরিজিন বা উৎস বিজ্ঞানের বিষয়, এটা বৈজ্ঞানিক পেশাদার এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার বিষয়। চীন এই ভাইরাস সৃষ্টি করে নি। তারা এই ভাইরাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে দেয় নি। তথাকথিত ‘চাইনিজ ভাইরাস’ শব্দটি পুরোপুরি ভুল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও করোনা ভাইরাসকে কভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসকে ‘উহান ভাইরাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এ মাসের শুরুর দিকে তার নিন্দা জানায় চীন। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা পরিষ্কার করে বলেছে, এই ভাইরাসের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কোনো দেশ, কোন অঞ্চল, জাতিগোষ্ঠীকে যুক্ত করা উচিত হবে না। ফলে কাউকে এ জন্য দোষারোপ করাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। জি রং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের অনুমান, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সিজনাল ফ্লু। এতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩ কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পরিচালক ড, রবার্ট রেডফিল্ড স্বীকার করেছেন এর মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কভিড-১৯ আক্রান্তও রয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, চীনের উদ্যোক্তারা এরই মধ্যে ভারতের জন্য অনুদান দেয়া শুরু করেছেন। আমরা ভারতকে আরো সমর্থন সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। আশা করি, ভারতের জনগণ তাড়াতাড়িই এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজয়ী হবে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Md. Harun Al-Rashid

২০২০-০৩-২৬ ১৬:৫৮:২৩

মনরঘাতী কভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসটি একটি জীবানু অস্র ।এর সৃষ্টি ও সংক্রমনের কারনতো মানুষই। যদি ধরে নেয়া যায় যে পক্ষী জাতীয় প্রানী বাদুর বা সরিশৃপ জাতীয় প্রানী সাপ বা কোন রোডেন্ট জাতীয় ইঁদুর,চিকা ইত্যাদি হতে সংক্রমনটি হয়েছে তা হলে ঐ সর্বভূক চীনের সর্বগ্রাসী খাদ্য সংখলাই দায়ী। এরা অর্থনৈতিকভাবে উন্নত কিন্তু নৈতিক বিচারে অনেক পিছিয়ে। আল্লাহর দুনিয়ার সকল সভ্য মানুষ তাঁদের খাদ্য তালিকায় এগুলি কল্পনা না করেও বেঁচে আছে। ভাল আছে। অন্যদিকে এ প্রানীগুলি পৃথিবীর মানুষে সাথে সহঅবস্হানে প্রকৃতিতে লক্ষ্ বছর ধরে বিরাজমান। তো দোষটা এদের উপর দিলে ঐ যে জীবানু অস্র তৈরীর মরন খেলার অপরাধটা অন্তত স্হানান্তর করা গেল। প্রথমে চীনকে এসব নিরীহ প্রানী খাওয়া বন্ধ করতে হবে। এসব প্রানীতো প্রাকৃতিক নিয়মে একে অপরের খাদ্য হয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

আপনার মতামত দিন



বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

সাক্ষাৎকারে ড. দেবী শেঠী

এক মাসে ভারতে ভয়াল থাবা বসাতে পারে করোনা (ভিডিও)

৭ এপ্রিল ২০২০

সরকারের জন্য বড় আঘাত

কেমন আছেন জনসন! 

৭ এপ্রিল ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত