কলকাতা কথকতা

আম্ফানের একশো দশ ঘন্টা পরেও কলকাতার বহু এলাকা বিদ্যুৎহীন কেন? একটি মানবজমিন অনুসন্ধান

জয়ন্ত চক্রবর্তী, কলকাতা

কলকাতা কথকতা ২৬ মে ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৫২

সেনাবাহিনী দ্রুত গাছ কেটে রাস্তা সাফ করছে। কেবল পরিষেবা শহরের সত্তর শতাংশ স্থানে অমিল। মোবাইল পরিষেবাও বিপন্ন। কিন্তু মানুষের জীবনধারণের অন্যতম উপাদান বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ না থাকলে জল আসেনা। কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বিস্তীর্ণ অঞ্চল আম্ফানের একশো ঘন্টা পরেও বিদ্যুৎ বিহীন। জল নেই। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে মানুষ।
কলকাতা পুরসভার পরিচালক ফিরহাদ হাকিম পর্যন্ত বলেছেন, সি ই এস সির এই আচরণ অসহনীয়। মানুষ কতদিন বিদ্যুৎ ছাড়া থাকবে? ক্ষোভ শুধু উগরে দিচ্ছেন মন্ত্রী তাই নয়। সাধারণ মানুষও তীব্র ক্ষোভে সামিল। ক্ষোভ এতটাই যে সোমবার সংবাদ প্রতিদিন এর এক নিরীহ সাংবাদিক কর্মীকে রানীকুঠিতে নিগ্রহের সামনে পড়তে হয় মোহনবাগান ক্লাব এর সঙ্গে সি ই এস সি র পরিচালক সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সংস্থা এটিকে গাঁটছড়া বেঁধেছে বলে।

আর কে না জানে সংবাদ প্রতিদিনের মালিক টুটু বোস, সৃঞ্জয় বোসরা মোহনবাগান চালান। সঞ্জীব গোয়েঙ্কার বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন? মানবজমিন অনুসন্ধানে নেমে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পেয়েছে। পাঠকদের অবগতির জন্যে তা সাজিয়ে দেয়া হলো-

বামফ্রন্ট সরকারের আমলে রমানাথ গোয়েঙ্কার সংস্থা প্রচলিত বিদ্যুৎ আইন বদলে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া ও হুগলির বিদ্যুৎ বণ্টন ও উৎপাদনের দায়িত্ব পায়। রমানাথ গোয়েঙ্কার মৃত্যুর পর তার পুত্র সঞ্জীব গোয়েঙ্কা সি ই এস সি চালানোর দায়িত্ব পান। সেই সময় তিনি রাজ্যে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকারের অনুগামী ছিলেন। ২০০৮ সালে বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়েন। ২০১১ তে মমতা ক্ষমতায় এলে ক্যাম্প বদলাতে সঞ্জীব গোয়েঙ্কা এতটুকু সময় নেননি। ৯ বছরে তিনি চৌদ্দবার বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি করেছেন। একটি আন্দোলনও হয়নি। কেন্দ্রে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সর্বভারতীয় বাণিজ্যের কথা মাথায় রেখে সঞ্জীব গোয়েঙ্কা বিজেপির দিকে ঝোঁকেন। রাজ্যে মমতা, কেন্দ্রে মোদি করে তিনি ভারসাম্যের খেলাটা ভালোই চালাচ্ছিলেন।

বাধ সাধলো আম্ফান। তৃণমূলের অনেক শীর্ষ নেতা মনে করেন, সঞ্জীব গোয়েঙ্কা বিজেপির হাতে তামাক খেয়ে রাজ্যকে বিদ্যুৎবিহীন রেখে ক্ষোভ জমতে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় নিজে নগরপাল অনুজ শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে সি ই এস সি র সদর দফতর ভিক্টোরিয়া হাউসে গিয়েছিলেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে কথা বলতে। কিন্তু সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রী জানেন না সি ই এস সি একটি মধুর বদলাও নিলো মানুষের এই আপদকালীন অবস্থায়। সি এস সি র কর্মী ইউনিয়নটি ছিল সি পি এম প্রভাবিত সিটুর দখলে। গত ন বছরে কর্মী ইউনিয়নের মাত্র দুটি নির্বাচন হয়েছে। শেষেরটিতে সিটুকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। এসেই তারা সিটু সমর্থক, হাই টেনশন লাইনে কাজ করার অভিজ্ঞদের সরিয়ে দলীয় কর্মীদের ঢোকায়। এদের হাই টেনশন লাইনে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই, কাজ শেখার আগ্রহও নেই। ফলে, আম্ফান পরবর্তী সময়ে অদক্ষ অপটু লোকদের দিয়ে কাজ করাতে গিয়ে আজ একশো চার ঘন্টা পরে শহরের বেশ কিছু অঞ্চল বিদ্যুৎ বিহীন। জল নেই। কি বলবেন একে? রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায় !

পুনশ্চ : বজবজ এর গোপালপুরে বিদ্যুৎ না থাকায় সোমবার এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে প্রচণ্ড দাবদাহে। আর একজন মরণোন্মুখ।

আপনার মতামত দিন

কলকাতা কথকতা অন্যান্য খবর



কলকাতা কথকতা সর্বাধিক পঠিত