এইচএসসি পরীক্ষার সংখ্যা কমানোর কথা ভাবছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার

শিক্ষাঙ্গন ২৭ জুন ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:৩৩

করোনাভাইরাসের কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সংখ্যা কমিয়ে আনার কথা ভাবছে সরকার। আজ শনিবার এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ইরাবের) ‘করোনায় শিক্ষার চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সেমিনারে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে আসার ১৫ দিনের মাথায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে পরীক্ষার বিকল্প উপায়গুলো তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনির্ধারিত বন্ধে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে এ বছর আর ক্লাস হওয়ার খুব একটা সময় থাকছে না। আমরা হিসেব করে দেখেছি বছরে ১৩০ থেকে ১৪০ দিন ক্লাস হয় আর সাধারণ ছুটি থাকে ১০০ দিনের মতো। করোনাকালে পড়াশোনা যাতে স্বাভাবিক হয় এ কারণে আমরা এই সময়টা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। এ বছর আমরা প্রয়োজনে আমাদের সেশনের সময় বাড়িয়ে হলেও শেষ করার চেষ্টা করবো।
এবং আগামী বছর বিভিন্ন সময়ের ছুটি কমিয়ে সমন্বয় করার চেষ্টা করবো।

দীপু মনি বলেন, আমরা কারিগরিতে শেখাতে চাই। যেটুকু শেখানো দরকার ও শেখানো উচিত তা না করে আমরা কাউকে সার্টিফিকেট দিবো না। প্রাকটিক্যালে ন্যূনতম শিক্ষা না দিতে পারলে কাউকে সার্টিফিকেট দেবো না। তবে, এখন আর এটি ভাবার সুযোগ নেই যে, একেবারে প্রাকটিক্যাল ক্লাসরুম ছাড়া বা ওয়ার্কশপ ছাড়া আপনি শিখতে পারেন না।

মন্ত্রী বলেন, এখন কিন্তু ভার্চুয়াল ল্যাবরেটরিরও কনসেপ্ট আছে এবং সেটি প্রচলিতও আছে। আমরা হয়তো এখনো সেই প্রযুক্তিতে যাইনি। তবে সামনে এ ধরনের প্রযুক্তি যাতে ব্যবহার করতে পারি তা নিয়ে কাজ চলছে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২০-০৬-২৭ ০৮:৩৮:০১

গত এপ্রিল মাসের প্রথম তারিখ থেকে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও করোনা ভাইরাসের কারনে তা স্থগিত হয়ে যায়। কখন নাগাদ এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করা যাবে শিক্ষা বোর্ড এখন পর্যন্ত তা নিশ্চিত করতে পারেননি। মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পনের দিনের নোটিশে পরীক্ষার বিষয়ের সংখ্যা কমিয়ে পরীক্ষা নেয়া হবে। এব্যপারে আমি নটর ডেম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সাথে আলাপ করে যা জানলাম তার সারমর্ম ও নিজের চিন্তা থেকে কিছু মতামত ব্যক্ত করলাম। ২০২০ শিক্ষা বর্ষের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সিলেবাসের সম্পূর্ণটা পড়ার সুযোগ পেলেও যেহেতু, করোনা ভাইরাসের কারনে তাদের পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে, তাই তারা অনেকটা পড়া বিমুখী হয়ে পড়েছে এবং দীর্ঘ সময় বিরতির কারনে তাদের প্রস্তুতিতে আলস্য ভর করেছে ও ভাটা পড়েছে। সেহেতু, ১) তাদের প্রতি বিষয়ের সিলেবাস অন্তত পঞ্চাশভাগ কমিয়ে দেয়া। এতে তাদের মানসিক চাপ কমবে। ২) পঞ্চাশ ভাগ সিলেবাস কমালে রিটেন ও এমসিকিউ মিলিয়ে পঞ্চাশ নম্বরের পরীক্ষা নেয়া। এতে পরীক্ষার সময় কমবে। তাই বেশি সময় ধরে পরীক্ষা কেন্দ্রে তাদের অবস্থান করার প্রয়োজন হবেনা। তাতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। ৩) বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ১ম ও ২য় পত্রের পরীক্ষা বাতিল করা। তাদের উচ্চ শিক্ষায় বাংলা বিষয়ের ভূমিকা অনেকটা গৌণ। যদিও বাংলা আমাদের মায়ের ভাষা। তাই বাংলা ভাষার প্রতি সকলকেই অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পোষণ করতে হবে। ৪) বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষায় গিয়ে মেডিকেল অথবা ইন্জিনিয়ারিং এ পড়ে। সবাই যেমন মেডিকেল পড়েনা। আবার সবাই ইন্জিনিয়ারিংয়েও পড়েনা। যাদের টার্গেট ইন্জিনিয়ারিং তাদের জন্য গণিত আবশ্যিক ভাবেই প্রয়োজন। আর যাদের টার্গেট মেডিকেল তাদের জন্য বায়োলজি আবশ্যিক ভাবেই প্রয়োজন। সাধারণ নিয়মে বিজ্ঞান বিভাগের প্রায় সকল পরীক্ষার্থীকে গণিত ও বায়োলজি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এক্ষেত্রে সকল পরীক্ষার্থীকেই একই দিনে ও একসাথে গণিত ও বায়োলজির প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে। উচ্চ শিক্ষার টার্গেট অনুযায়ী যার যেটা সুবিধা বা পছন্দ সে সেই সাবজেক্টের পরীক্ষা দেবে। এখানে একটা সাবজেক্ট বাদ যাবে। কারো গণিত। কারো বায়োলজি। এতে পরীক্ষার্থীরা বিশাল চাপমুক্ত ও ভারমুক্ত থাকবে। ৫) এরপর আসে প্র্যাকটিকেল পরীক্ষার ব্যাপার। প্র্যাকটিকেল পরীক্ষা সবসময় অল্প সময়ের মধ্যেই হয়। অতীতে দেখা গেছে, তাই অনেক সংখ্যক পরীক্ষার্থী গাদাগাদি করে কেন্দ্রে অবস্থান করে। এই পরিস্থিতিতে যেটা অসম্ভব। তাই প্র্যাকটিকেল পরীক্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে না নিয়ে যার যার কলেজে অথবা যার যার পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে শুধু প্র্যাকটিকেল খাতা জমা নেয়ার ব্যবস্থা করা যায়। খাতা লেখার উপর ভিত্তি করে নাম্বার দেয়া। ৬) পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে, অর্থাৎ যে কয় ঘন্টা পরীক্ষা চলবে সে কয় ঘন্টা আশেপাশের দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ রাখতে হবে। যাতে করে রাস্তায় গেদারিং না হয় এবং পরীক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কেন্দ্রে আসতে পারে ও পরীক্ষা শেষে দ্রুত চলে যেতে পারে। ৭) কোনো পরীক্ষার্থী ট্রাফিক সিগনালে পড়লে তাকে না থামিয়ে জরুরি ভিত্তিতে পার করে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ৮) সর্বোপরি, পরীক্ষা কেন্দ্রে জ্বর মাপার ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত সেনিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কেন্দ্রে প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা নিতে হবে।

আপনার মতামত দিন

শিক্ষাঙ্গন অন্যান্য খবর

একাদশে ভর্তির সময় ফের বাড়লো

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০



শিক্ষাঙ্গন সর্বাধিক পঠিত