শ্রীলঙ্কায় মুসলিমদের লাশ পোড়ানোর বিরুদ্ধে পিটিশন

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ৫ জুলাই ২০২০, রোববার

শ্রীলঙ্কায় করোনায় মৃতব্যক্তির দেহ পুড়িয়ে ফেলা নিয়ে স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া মুসলিমদের মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলার ওপর জোর দিয়েছে। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে মুসলিমরা ক্ষুব্ধ। অবশেষে তারা এর বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করেছে। সেই আপিলের শুনানি শুরু হবে ১৩ই জুলাই। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কায় সংখ্যালঘু মুসলিমরা কর্তৃপক্ষের ওই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলছেন, মহামারির সুযোগ নিয়ে তাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। মৃত ব্যক্তির দেহ পুড়িয়ে ফেলা ইসলামী রীতি বিরুদ্ধ।
মুসলিমরা মারা গেলে রীতি অনুযায়ী জানাজা শেষে তাদেরকে দাফন করা হয়। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্তে সেখানকার মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। এমন ঘটনার শিকারে পরিণত হয়েছেন রাজধানী কলম্বোতে তিন সন্তানের মা ফাতিমা রিনোজা (৪৪)। তিনি করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়ার পর তার মৃতদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে ফেরত দেয়া হয় নি। বিবিসি লিখেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহে ফাতিমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মে মাসের শুরুতে। তার স্বামী মোহামেদ শফিক। তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর লোকেরা আমাদের বাড়ি এলো। আমাদেরকে বের করে দিয়ে বাড়িতে জীবাণুনাশক ছিটানো হলো। এ বিষয়ে তারা আমাদেরকে কিছুই বলেনি। তিন মাসের বাচ্চাকেও পরীক্ষা করলো তারা। তারা আমাদেরকে কোয়ারেন্টিন সেন্টারে নিয়ে গেল কুকুরের মতো।
ফাতিমা বাদে কোয়ারেন্টিনে থাকা তার পরিবারটি খবর পেল, ফাতিমা মারা গেছেন। তার বড় ছেলেকে বলা হলো হাসপাতালে গিয়ে মায়ের মৃতদেহ শনাক্ত করতে। তাকে বলা হলো করোনাভাইরাসে মারা যাওয়ার কারণে ফাতিমার মৃতদেহ পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হবে না। এর পরিবর্তে তাকে বাধ্য করা হলো একটি কাগজে সই দিতে। ওই কাগজে ফাতিমাকে পুড়িয়ে ফেলার অনুমতি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এটাতে জোর করে সই নেয়া হয় ফাতিমার ছেলের। মুসলিমদের বিরুদ্ধে এমন রীতির বিরুদ্ধে মুসলিমরা পিটিশন দায়ের করেছে আদালতে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

বিশ্ব শুধু মুসলিম মৌ

২০২০-০৭-০৬ ০০:২২:৩৭

দেখেবিশ্ব শুধু মুসলিম মৌলবাদী দের দেখে। প্রত্যেকধমে'ই মৌলবাদী গ্রুপ আছে যারা নিজেরা বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাব্যবহার করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সন্ত্রাস চালাচ্ছে ।বরং মুসলিম দেশে সংখ্যালঘু রা অনেক নিরাপদ।

mohsin ahmed

২০২০-০৭-০৬ ০৩:৪৫:৫২

SARC can do something about it.

Mohammad Nurul Islam

২০২০-০৭-০৫ ২৩:১৩:৫২

ওআইসির কাজটা কী? ওআইসি নামের এই শ্বেত হস্তিটি অন্ততঃ মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস, রীতি নীতিগুলো রক্ষার জন্য তদবির করতে পা। এসব অমুসলিম দেশ ওআইসিকে মূল্যায়ন না করলে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

Md. Harun Al-Rashid

২০২০-০৭-০৫ ২০:১৩:০৯

OIC নামে মুসলিম দেশগুলির একটা সংগঠন আছে। এ সময়ে অন্তত অমুসলিম দেশে মুসলমানদের ধর্মিয় ব্যপারে সরকারের সাথে বুঝা পড়া করতে পারে। তা ছাড়া মুসলিম দেশের সরকারসমুহ ধর্মিয় অধিকার আদায়ে সুপারিশ করতে পারে।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন

কাঁচের টুকরা, ঝাঁঝালো ধোঁয়া ও রক্তাক্ত সিঁড়ি

৭ আগস্ট ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত