ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও সর্বোচ্চ চাপের ফল ঘরে তুলছে চীন

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২৪ জুলাই ২০২০, শুক্রবার

ইরানের ওপর চলছে যুক্তরাষ্ট্রের ”সর্বোচ্চ চাপ” নীতি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। এই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি এরইমধ্যে অর্জন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেটি হলো, ইরানের বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর ওপর পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা। তবে এ নীতি গ্রহণের একটি অপ্রত্যাশিত পরিণতি দেখতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেটি হলো, ইরানকে এরমধ্য দিয়ে কার্যত চীনের কোলে তুলে দেয়া হলো এবং চীনও এখন মার্কিন-ইরান উত্তেজনার পূর্ন সুফল নিতে শুরু করেছে।
এরইমধ্যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি চীনের সঙ্গে ২৫ বছরব্যাপী অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি অনুমোদন করেছেন। খামেনির অনুমোদনের পূর্বে দেশটির অনেক রক্ষণশীল নেতাই এই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এরমধ্যে অন্যতম ইরানি পার্লামেন্টের সদস্য মাহমুদ আহমাদি। তিনি রাষ্ট্র পরিচালিত এক টিভি চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান, তার আশঙ্কা, নতুন চুক্তির মাধ্যমে চীনের হাতে ইরানের একটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছেড়ে দেয়া হবে।
তবে এর তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। বলেছে, এমন ভিত্তিহীন দাবি ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকি। এরপর মাহমুদ আবারো একটি বিবৃতি প্রদান করেন এই ইস্যুতে। তখন তিনি বলেন, আমি আবারো এই চুক্তি পড়েছি। সেখানে আমার দাবীকৃত দ্বীপ সংক্রান্ত কোনো চুক্তি বা আলোচনার কথা উল্লেখ নেই।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এই চুক্তির পক্ষে তা এখন স্পষ্ট। ইরানের পার্লামেন্ট কট্টোর ডানপন্থীদের দ্বারা পরিপূর্ন। তারা খামেনির ইচ্ছাকেই অনুমোদন দেবে। ফলে এই প্রস্তাব পাশ হওয়ার পথে আর কোনো বাঁধা নেই। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এরইমধ্যে প্রচার করতে শুরু করেছে যে, চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক রাষ্ট্রীয় স্বার্থের জন্যই ভাল। একটি গণমাধ্যম এরইমধ্যে এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ”ইরান-চীন সম্পর্ক নিয়ে পশ্চিমাদের প্রতিক্রিয়ায় বুঝিয়ে দেয় ইরান সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে”।
তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, চীন সেখানে এই চুক্তির বাইরেও প্রভাব ফেলতে শুরু করবে। ইরানি কর্তৃপক্ষ এ চুক্তিতে স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল অবস্থানে থেকে দর কষাকষি করবে। তেহরানের অর্থনীতি পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। মুদ্রাস্ফিতি ও বেকারত্ব সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। করোনা ভাইরাস মহামারি এ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ করে তুলেছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, সরকারি কর্মকর্তারা এবং ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠিগুলোর অর্থ পাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কর্মকর্তাই আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে দ্রুতই পতন ঘটবে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের। তাই ইরানের এখন বেঁচে থাকার জন্য প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগ দরকার দেশের মধ্যে।
অপরদিকে চীন তুলনামূলকভাবে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ইরানের থেকে। করোনার কারণে পুরো বিশ্ব যখন বিপর্যস্ত তখন চীন ৩.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে এ বছর। চুক্তি অনুযায়ী, ইরানে আগামি ২৫ বছরে ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে চীন। এরফলে, চীন ইরানি তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছাড় পাবে। একইসঙ্গে ইরানের সবধরনের শিল্পে প্রবেশ করতে পারবে বেইজিং। এরমধ্যে রয়েছে, টেলিযোগাযোগ, বন্দর, শক্তি, জ্বালানী, রেল ও ব্যাংকিং। চীন এই সুযোগে নিজের স্বার্থ রক্ষায় ইরানের মাটিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারবে। দেশটির বহু প্রতীক্ষিত বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করতে পারবে। ইরানে এর অবস্থান সুদৃঢ় হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে চীনের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এই চুক্তি থেকে চীন নিশ্চিতভাবেই জয়ী হচ্ছে। আর চীনের এ জয় নিশ্চিতে সাহায্য করছে, ইরানের ওপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও বৈশ্বিক অঙ্গনে তাকে একঘরে করে ফেলা নীতি।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

সিএনএনের রিপোর্ট

কালো হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশসহ এশিয়ার নদীর পানি

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

জামাল খাসোগি হত্যাকান্ড

৬ সৌদি নাগরিককে অভিযুক্ত করেছে তুরস্ক

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

বিবিসির রিপোর্ট

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ১০ লাখ ছাড়িয়েছে

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনায় বিশ্বে মৃত্যু ১০ লাখ

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফের গ্রেপ্তার শাহবাজ শরীফ

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত