করোনামুক্তির ফরিয়াদ

অনলাইন ডেস্ক

অনলাইন ১ আগস্ট ২০২০, শনিবার, ৯:২৪ | সর্বশেষ আপডেট: ৮:২২

মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণসহ সকল ধরনের রোগবালাই থেকে মানবজাতিকে হেফাজতের জন্য বিশ্বজাহানের মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে ফরিয়াদ জানিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া যারা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সুস্থতা দান এবং  মৃতদের জান্নাতুল ফেরদৌস দানের আকুতি জানানো হয়। মোনাজাতে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের মানুষের শান্তি কামনা করা হয়।

শনিবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়| মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান ইমামতি করেন।

মোনাজাতে তিনি বলেন, হে, আল্লাহ যারা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন, তাদের আপনি শাহাদাতের মর্যাদা দান করে দিন। হে আল্লাহ, যারা অসুস্থ আছেন, দয়া করে তাদের শেফা দান করে দিন। এই বিমারি থেকে, রোগ ব্যাধি থেকে আমাদের সবাইকে হেফাজত করে দিন।

এর আগে, সকাল থেকেই মাস্ক পরে মুসল্লিরা দলে দলে বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাতে অংশ নেয়ার জন্য যোগ দেয়। নির্ধারিত সময় সকাল ৭টায় নামাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ৭টা ৮ মিনিটে।

মসজিদে ঢোকার আগে আগতদের মাস্ক চেক করে গেটে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা।
নামাজের জন্য মুসল্লিদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফাঁকা ফাঁকা হয়ে বসতে দেখা যায়। করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারও জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজ হচ্ছে না।

বায়তুল মোকাররমে ঈদের দ্বিতীয় জামাত সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হয়েছে। এছাড়া তৃতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে, চতুর্থ জামাত ৯টা ৩৫ মিনিটে, পঞ্চম জামাত হবে সকাল সাড়ে ১০টায় এবং সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বেলা ১১টা ১০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া সরকারি আলিয়া মাদরাসা, ঢাকা মসজিদ এবং ধানমন্ডি ঈদগাহ মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুরান ঢাকার বংশাল বড় মসজিদ, নিমতলী ছাতা জামে মসজিদ, তারা মসজিদ, নাজিরা বাজার আহলে হাদিস মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টার পর দুটি করে ঈদের জামাত হয়েছে।

ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টায়, ধানমন্ডির বায়তুল আমান মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ও সাড়ে ৮টায় দুটি করে জামাত হয়েছে।

রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে সকাল ৬টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় ঈদের দুইটি জামাত হবে। মিরপুর কাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তিনটি জামাত হয়েছে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২০-০৭-৩১ ২৩:৩০:১৭

যেকোনো আপদে-বিপদে, দুঃখ-কষ্ট ও মুসিবতে পড়লে এবং রোগ, শোক ও মহামারী কবলিত হলে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসীরা মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে আত্মসমর্পণ করেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য দোয়া বা প্রার্থনা করেন। আমি যেহেতু একজন বিশ্বাসী, তাই এমন প্রতিকূল অবস্থায় পড়লে যারা অবিশ্বাসী তারা কী করেন তা আমার জানা নেই। তবে প্রথিতযশা একজন সাংবাদিক সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসী জনাব তাসের মাহমুদের কথা জানি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে যখন মৃত্যুর প্রায় দ্বারপ্রান্তে তখন কোনো এক অলৌকিক শক্তিতে তিনি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী হয়ে গেছেন। প্রকৃতপক্ষে ভীষণরকম বিপদে পড়লে মানুষের সকল চেষ্টা সাধনা ও আশা ভরসা যেখানে শেষ হয়ে যায়, সেখান থেকেই শুরু হয় মহান দয়াবান সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাহায্য। অবিরাম লড়তে লড়তে বাঁচার জন্য মানুষের চেষ্টা সাধনাও তখন কোনো এক অলৌকিক শক্তিতে সফল হয়ে যায়। এসব অলৌকিক ঘটনা কোনো নাস্তিক যদি সুক্ষ্মভাবে খেয়াল করে বুঝে নিতে পারেন তাহলে তার হৃদয়চক্ষু এতোটাই উন্মোচিত ও প্রসারিত হয়ে পড়ে যে, তাৎক্ষণিকভাবে তিনি তার মহান প্রভু, প্রতিপালক ও সৃষ্টিকর্তাকে চিনে ফেলেন এবং কৃতজ্ঞচিত্তে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন এবং অতীত ভুলের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করেন। তবে বিপদে পড়ার আগেই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রব্বুল আলামিনের আকাশ, জমিন ও প্রকৃতিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য অলৌকিক নিদর্শনের প্রতি সুক্ষ্ম দৃষ্টি দিলে জ্ঞানচক্ষু খুলে যাবে এবং আস্তিক না হয়ে পারা যাবেনা। এমন চিন্তাশীল আস্তিক হতে পারার মধ্যে সম্ভবত সার্থকতা অনেক বেশি। আল্লাহ তায়ালা সূরা আল ইমরানের ১৯০ ও ১৯১ আয়াতে বলেছেন, "আকাশ ও জমিনের সৃষ্টির মধ্যে এবং রাত ও দিনের আবর্তনের মধ্যে জ্ঞানবান চিন্তাশীল লোকদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে। যারা দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণে রাখে এবং আসমান ও জমিনের সৃষ্টি নৈপুণ্য সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা বলে ওঠে, হে আমাদের প্রতিপালক রব, সৃষ্টি জগতের কোনো কিছুই তুমি অযথা সৃষ্টি করোনি। তোমার সত্তা অনেক পবিত্র। অতএব জাহান্নামের কঠোর শাস্তি থেকে আমাদের নাজাত দাও। আজকের করোনা ভাইরাসের মহামারি থেকে নাজাত পেতে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করে আস্তিক মুসল্লীরা আল্লাহর দরবারে দয়া ও ক্ষমা ভিক্ষা করেছেন। আবারো কোনো আসমানী আজাব যাতে নাজিল না হয় সেজন্য আল্লাহর দরবারে ধর্ণা দেয়ার এই প্রচেষ্টা করোনা মুক্তির পরেও অব্যাহত রাখতে হবে। এবং সৃষ্টিজগতের অলৌকিক নিদর্শন দেখার পর নাস্তিকরাও আস্তিক হবেন আশাকরি।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

ওসি প্রদীপ কোথায়?