সিনহার মায়ের কান্না

এটাই যেন শেষ ঘটনা হয়

স্টাফ রিপোর্টার

প্রথম পাতা ১১ আগস্ট ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:১৪

ছেলে হত্যাকাণ্ডের চলমান তদন্ত কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে সিনহা মো. রাশেদ খানের মা নাসিমা আক্তার বলেছেন, এই ঘটনাই যেন শেষ ঘটনা হয়। আর কেউ যেন এমন হত্যাকাণ্ডের শিকার না হয়। আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। এখন সুন্দর একটা পরিবর্তন দরকার। সুন্দর একটা পরিবেশ আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে হবে। গতকাল উত্তরায় নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি এ সব কথা বলেন। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সংগঠন রাওয়া ক্লাবের কর্মকর্তারা দুপুরে নাসিমা আক্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। এরপর রাওয়া কর্মকর্তাদের সঙ্গেই সাংবাদিকদের সামনে আসেন নাসিমা আক্তার।

সিনহা রাশেদের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ও সব সময় বলতো, আমার দুইটা উদ্দেশ্য, আমার যেটা ভালো লাগে আমি সেটা করবো আর আমার কাজে যেন মানুষ উপকৃত হয়। এখানে টাকা-পয়সার কথা আসে না, আসবে না। সিনহা বলতো, আমি ডকুমেন্টারি তৈরি করছি। বলার মতো কিছু হয়নি আম্মু। বলার মতো যখন হবে তখন বলবো। নাসিমা বলেন, আমি শতভাগ আস্থা নিয়ে বসে আছি আমার ছেলে কাজ করছে। ও বলতো আমাদের দেশে প্যারেন্টসগুলো কেমন জানি খালি ডাক্তার হবে ইঞ্জিনিয়ার হবে এই হবে সেই হবে বলেন।
ছেলের প্রসঙ্গে নাসিমা বলেন, বাসায় আসতো-যেতো কাজকর্ম করতো, আমাকে কখনো বিরক্ত করতো না। সে খুব পরিষ্কার ছিল। কিচেনে খেয়ে এমনভাবে পরিষ্কার করতো দেখে মনে হতো না কেউ এখানে খেয়ে গেছে। আর একটু ভয় ছিলো ও গাড়ি চালাতো খুব স্পিডে। ও এই রকমভাবে গাড়ি চালায় কখন কী হয়ে যায় এসব নিয়ে চিন্তা করতাম। খুনের দিনের কথা বলতে গিয়ে বলেন, সেদিন আমি ১১টার দিকে ফোন দিয়েছিলাম, ফোন ধরলো না। পরে ফোনও ব্যাক করলো না। রাত ১২টার দিকে এক ভদ্রলোক ফোন দিলেন বললেন, সিনহা আপনার কে হয়? ছেলে হয় বলার পর বললেন আপনার ছেলে কি করে? আমি বললাম টুকটাক কাজ করে। তিনি আরো বললেন, আপনার কয় ছেলেমেয়ে? আমি ভাবলাম এতো রাতে এসব কথা বলছে কারণ কি? আমি রাগান্বিত হয়ে বলছি, আপনি কে? আপনি এভাবে কথা বলছেন কেন? তখন উনি বললেন আমি টেকনাফ থানার ওসি। যখনই এই কথা বলেছে, তখন আমি ভাবছি আমার ছেলে যেহেতু গাড়ি চালায় দুর্ঘটনা হলো নাকি আবার। আমি বললাম, ওকে একটু ফোনটা দেন। তিনি বলেন, ও একটু দূরে আছে দেয়া যাবে না বলে রেখে দিলো। পরে আমি বার বার ফোন করি, আর ফোন ধরে না। রাত ১টা বেজে গেছে আমি কি করবো? কার কাছে খবর নেবো? এ সময় কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাসিমা। বলেন, মাতো, মা হিসেবে সন্তানকে কেউ মারতে পারে না। রাতেও আমি আশায় ছিলাম। ছেলে ফিরে আসবে।
কোনো সমস্যা হলে নিজের কোর্সমেট দুই মেজরের নম্বর মা’কে দিয়েছিলেন সিনহা। নাসিমা আক্তার বলেন, তাদের একজন মহসিনের নম্বরটা পাই। ওকে ফোন দেই, এরপর জানাই টেকনাফ থানার ওসি ফোন করেছিলো। মহসিন বলে, আন্টি আপনি টেনশন করিয়েন না আমাদের একজন কোর্সমেট আছে ওর কাছ থেকে খোঁজ নিচ্ছি। পরে সে ফোন করে বলে, আন্টি আপনি টেনশন করিয়েন না ওরা দেখতেছে। সারারাত গেল সকাল বেলা অপেক্ষা করছি।
১০ টা ১১টার দিকে পুলিশ আসে আমার বাসায়। আমার বাসায়তো আমি একাই থাকি। বলে, আমরা উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ। তাদের ভিতরে আসতে বলি। তারা বলে, আন্টি ও কেন চাকরি ছাড়লো? আমি বলি ওই ভ্রমণ নিয়ে কি যেন করবে। জানতে চায় ও কি কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল? আমি বলি না। আমি কখনও দেখি নাই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হতে। ছেলে-মেয়ে কয়জন? দেশের বাড়ি কই? এসব বলে তারা চলে যায়। আমাকে আর তেমন কিছু বলে নাই।
নাসিমা আক্তারের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাওয়ার চেয়ারম্যান মেজর (অব.) খন্দকার নুরুল আফসার। তিনি বলেন, মেজর (অব.) সিনহা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। তবে বিচার প্রক্রিয়া যাতে দ্রুত হয় সেটি আমরা চাই। সিনহার ঘটনায় যারা কাস্টডিতে ছিলেন তাদের জামিন হয়েছে। আমরা অত্যন্ত খুশি। সিনহা হত্যায় যে পুলিশ সদস্যরা জড়িত ছিল তাদের অস্ত্রগুলো যেন জব্দ করা হয়। হয়তো তদন্তের খাতিরে এটা করতেই হবে। যাদের ওপর তদন্তভার অর্পণ করা হয়েছে তারা অত্যন্ত দক্ষ। আমরা আশা করবো তারা স্বচ্ছতা রক্ষা করবেন। কোনো পক্ষাবলম্বন করবেন না। হত্যার বিচার হলে সিনহার মা শান্তি পাবেন। ওসি প্রদীপ যে সব হত্যার সঙ্গে জড়িত সেসব হত্যার বিচার করা হোক। পুলিশ বাহিনীকে সংস্কার করা হোক। এই ধরনের হত্যার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়। রাওয়া কর্তৃপক্ষ মেজর (অব.) সিনহার বিচারিক তদন্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে লে. জেনারেল (অব.) মইনুল ইসলামকে প্রধান করে একটি কমিটি করেছে।
এ সময় সিনহার বড় বোন ও হত্যা মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বলেন, সিনহাকে আমি বলতাম তুমি মানুষের হৃদয়ের রাজপুত্র (প্রিন্স অব পিপল্‌স হার্ট)। এটা সে প্রমাণ করেছে, তার ভালো ব্যবহার আর গুণাবলী দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে বিচার হবে। আমাদের একটাই দাবি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যেন দ্রুতই বিচারটি হয় এবং এই বিচার যাতে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাখ্যান

অশান্ত হাটহাজারী ক্ষোভ, বিক্ষোভ

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

কোন পথে হেফাজত

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঘোষণা ছাড়া পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুতপ্ত

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাজারে হেরফের নেই

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

পশ্চিমবঙ্গেও ক্ষোভ

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

পেট্রাপোল সীমান্ত কিংবা উত্তর চব্বিশ পরগনার  ঘোজাডাঙ্গা ল্যান্ডপোর্টে এখন সারি সারি ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে টন ...

বাজারে ক্রেতা কম, দাম কমেনি

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনায় আরো ২১ জনের মৃত্যু শনাক্ত ১৬১৫

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

দেশে করোনার কারণে প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিল লম্বা হচ্ছে। বাড়ছে মৃত্যুর হার। গত তিনদিন মৃত্যুর সংখ্যাটা ...



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত