প্লিজ, ওদের জীবন দুর্বিষহ করবেন না

মত-মতান্তর

সাজেদুল হক | ২২ মে ২০১৭, সোমবার
হঠাৎই তছনছ হয়ে গেল তাদের জীবন। কে জানতো একটি জন্মদিনের পার্টিতে যাওয়া তাদের পুরো জীবনটাকে ভেঙে কিংবা চুরে দেবে। মেয়ে দুটিকে ধর্ষণ করেই অবশ্য ক্ষান্ত হয়নি সাফাত-নাঈমরা। ভিডিওর ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করে গেছে।
সাফাত-নাঈমরা প্রভাবশালী। বিপুল অর্থ আর সোনা-জহরত ছিল সাফাতের ক্ষমতার উৎস। প্রভাবশালীদের সঙ্গে ছিল তার ওঠাবসা।
সে জানতো টাকায় সব হয়। আর নাঈম আশরাফ এক স্বভাব প্রতারকের নাম। প্রতারণা করে শুধু নিজের নাম নয়, বাপের নামও পরিবর্তন করে ফেলে সে। এই দুই প্রতারকের খপ্পরে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়পড়–য়া দুই তরুণী শিকার হয় নির্মম নিপীড়নের।
না, শেষ পর্যন্ত ওই দুই তরুণী ভয়কে জয় করতে পেরেছিলেন। আমরা তাদের অভিবাদন জানাই। নিপীড়ন আর ক্ষমতার দম্ভের কাছে তারা হার মানেনি। যদিও থানায় গিয়ে তাদের নানামুখী হেনস্তার শিকার হতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্তও তারা হাল ছাড়েনি। মিডিয়ার অকুণ্ঠ সমর্থন অবশ্য তাদের সঙ্গে ছিল। মিডিয়া আর আমজনতার চাপে শেষ পর্যন্ত ধরাও পড়েছে প্রভাবশালীরা। তাদের প্রভাব এখন হারানোর পথে।
কিন্তু ওই দুই তরুণীর জীবনের ওপর থেকে দুর্বিপাকের খাঁড়া সরছে না। দুই অস্ত্রধারীর বাসায় ফটকে গিয়ে হুমকি দেয়ার পর তাদের নিরাপত্তা বেড়েছে। কিন্তু তাদের হেনস্তার যেন শেষ নেই। কোন এক টিভি সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন এক তরুণী। যা প্রকাশের অনুমতি ছিল না। টিভি চ্যানেল প্রচারও করেনি। কিন্তু কে বা কারা ইউটিউভে ওই সাক্ষাৎকার ছেড়ে দেয়। মেয়েটির মুখ ঝাপসা করে দেয়া হলেও তার পরিচিতরা ঠিকই তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। মেয়ে দুটির ক্লাসে যাওয়া এখন রীতিমতো বন্ধ। একটি মেয়ে ক্লাসে গিয়েও তাকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে কেঁদে কেঁদে। এখন আবার একটি সংঘবদ্ধ চক্র সোশ্যাল মিডিয়া আর কথিত অনলাইন মিডিয়ায় ধর্ষক সাফাতের সঙ্গে মেয়ে দুটির ছবি ছড়িয়ে দিয়েছে। সাফাতের সঙ্গে তাদের পরিচয়তো তারা অস্বীকার করেনি। কারো সঙ্গে ছবি থাকা মানে তাকে ধর্ষণের অনুমতি দেয়া নয় এটা কে বুঝাবে।
সব মিলিয়ে দুর্বিষহ হয়ে ওঠেছে মেয়ে দুটির জীবন। সংবাদমাধ্যমও সব ব্যাপারে সংবেধনশীল থাকতে পারেনি। প্লিজ, নির্যাতিতা দুই তরুণীর জীবন দুর্বিষহ করে তুলবেন না। তাদেরকে তাদের মতো থাকতে দিন।  


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

ইউনুছ

২০১৭-০৫-৩১ ২২:০৪:১৩

যারা আইন প্রয়োগ করবে তারা তো সৎ না, ফলে অপরাধীরা চির দিন অধরা থেকে গেছে । তবে কখনো কখনো যে ব্যতিক্রম হয়নি তা নয়, যেমন এবার হলো । আমরা যাকা আমজনতা তারা রাষ্টযন্ত্রের প্রতিটি পদক্ষেপ এমনই দেখতে চায় । আমাদের সহানুভুতি জানানো ছাড়া আর কিছুই করার নাই । কাজেই তোমরা (ধর্ষিতা ) যতটুকু পারো ভালো থেকো ।

মোস্তাফিজ

২০১৭-০৫-২২ ০৩:১২:০৩

ধর্ষণকে ঘৃনা করতে হবে,এবং এর জন্য আইনি ভাবে কঠোর হইতে হবে,বিশেষ করে পুরুষদের সেক্সসুয়েল ব্যপারে নারী নির্ভরতা কমানো উচিৎ, এর একটি বৈঙানিক আবিষ্কার দরকার,

biplob

২০১৭-০৫-২২ ০১:৪৫:৪৮

ninduk ra shudhu ninda kore e tripti karon ota bongshogoto shovab, ora je somajer kace kotota ghrinnyo taa ora janena

Kazi

২০১৭-০৫-২২ ০১:১৭:২৭

ধর্ষিতার জীবন যেভাবে সমাজে দুর্বিসহ হয়ে উঠে ধর্ষকের জীবন সেভাবে দুর্বিসহ করার জন্য আইনের প্রয়োজন বাংলাদেশে। তাই প্রয়োজন আইনের আমূল পরিবর্তন । একমাত্র তা সম্ভব দঃ কোরিয়ান আইন যা বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় বলবৎ করা হয়েছে।

আপনার মতামত দিন

মৌলভীবাজারে শোকের মাতম

বিয়ানীবাজারের খালেদের দুঃসহ ইউরোপ যাত্রা

১১ দফা প্রস্তাব নিয়ে ইসিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

‘প্রধান বিচারপতি ফিরে এসেই কাজে যোগ দিতে পারবেন’

খালেদা জিয়া ফিরছেন আজ

ব্লু হোয়েলের ফাঁদে আরো এক কিশোর

তিন ইস্যু গুরুত্ব পাবে সুষমার সফরে

প্রি-পেইডে সুবিধা বেশি আগ্রহ কম

ভারত থেকে ৩৭৮ কোটি টাকার চাল কিনছে সরকার

ছাত্রলীগ কর্মী মিয়াদ খুন নিয়ে উত্তপ্ত সিলেট

ইস্যু হতে পারে সমস্যার পাহাড়

দ্বিতীয়বার সংসার না করায় খুন

যেভাবে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ড্রোন থেকে নেয়া ভিডিও

সিলেটে কাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট

ফুটবলকে বিদায় জানালেন কাকা

৩৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ